Ajker Patrika

পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে যেতে চান ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩: ২১
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, তিনি সুযোগ পেলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে যেতেন। ছবি: সংগৃহীত
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, তিনি সুযোগ পেলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে যেতেন। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অপহরণ করে যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতেন। গত শুক্রবার এক দিনের সফরে কিয়েভে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ব্যাপক ঝড় তোলে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়েছে, কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদে বৈঠক করেন জন হিলি। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ইউক্রেনে সম্ভাব্য শান্তি রক্ষা মিশনের প্রস্তুতির জন্য ব্রিটেন তার সেনাদের প্রশিক্ষণে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করবে।

কিয়েভে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলার স্থান পরিদর্শনের সময় তিনি কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, যদি যেকোনো বিশ্বনেতাকে অপহরণের সুযোগ থাকত, তবে তিনি ‘পুতিনকে হেফাজতে নিয়ে তার যুদ্ধাপরাধের জন্য জবাবদিহি করাতেন।’

যুক্তরাষ্ট্র ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে আটক করার ঘটনার পর তিনি এই মন্তব্য করলেন। জন হিলি বলেন, রুশ প্রেসিডেন্টের যুদ্ধাপরাধের মধ্যে রয়েছে ‘ইউক্রেনে আমার প্রথম দিকের সফরগুলোর একটিতে বুচায় যা দেখেছি এবং ইরপিন শহরে যেসব ইউক্রেনীয় শিশুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তাদের মধ্য থেকে কিছু শিশুকে অপহরণ করা।’

এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী কিয়েভের উপকণ্ঠের শহর বুচা মুক্ত করার পর সেখানে গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। জন হিলি ২০২৪ সালের মে মাসে ইউক্রেনে তাঁর প্রথম দিকের সফরগুলোর একটিতে ওই হত্যাকাণ্ডের শিকারদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন।

এরপর ২০২৩ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পুতিনের বিরুদ্ধে ‘শত শত’ ইউক্রেনীয় শিশুকে, যাদের মধ্যে এতিম শিশুও রয়েছে, জোরপূর্বক রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুক্রবার কিয়েভে ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই ভবন পরিদর্শনের সময় জন হিলি বলেন, এটি ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্পর্কে এবং তাঁর দৃঢ় সংকল্প সম্পর্কে সবকিছুই বলে দেয়, তিনি শুধু ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে চান না, বরং শীতের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় বেসামরিক মানুষ, শহর ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছেন।’

জন হিলি আরও বলেন, ‘এই মানুষটিকে থামাতেই হবে। এই যুদ্ধ থামাতেই হবে। আর আমাদের দায়িত্ব হলো, আজ ইউক্রেনের লড়াইয়ে তাকে সমর্থন দেওয়া এবং ভবিষ্যতের শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করা।’

বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া দেশটির ওপর একযোগে ২৪২টি ড্রোন ও ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। রাজধানী কিয়েভ ছিল প্রধান লক্ষ্যবস্তু। একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন ধরে যায়, এতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হন।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎস্কো এই হামলাকে ‘শত্রুর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার ফলে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছু পাড়া-মহল্লা অন্ধকারে ডুবে যায়।

শুক্রবার ভোররাতে পুতিনের বাহিনী পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ শহরের দিকে ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে। এটি একটি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা এর আগে মাত্র একবার যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। রাশিয়ার দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অসম্ভব।

মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইউক্রেন ড্রোন দিয়ে পুতিনের একটি বাসভবনে হামলা চালিয়েছে—এই বহুলভাবে খণ্ডিত দাবির প্রতিশোধ হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তায় কিয়েভ ওই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া তাদের দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

এই হামলা এমন এক সময় এল, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি রক্ষার সর্বশেষ প্রস্তাবটি মস্কো প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। চার বছরের কাছাকাছি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ও তার পশ্চিমা মিত্ররা এই সপ্তাহে একমত হন, কোনো যুদ্ধবিরতির পর ইউরোপ যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করবে।

এদিকে সীমান্তের ওপারে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় হামলায় ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানার ফলে ৫ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎ বা গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, প্রায় ২ লাখ মানুষ পানি সরবরাহ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত