Ajker Patrika

যুক্তরাজ্যে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকি, সব ধরনের বারবিকিউ নিষিদ্ধ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাজ্যে বাড়ছে দাবানলের ঝুঁকি, সব ধরনের বারবিকিউ নিষিদ্ধ
খরা ও দাবদাহে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল। ছবি: সংগৃহীত

খরা ও দাবদাহে দাবানলের তীব্র ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্য। এ পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বা এককালীন ব্যবহারযোগ্য বারবিকিউ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিবিআইএসটি) জানিয়েছে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাবানলের কারণ হয়েছে এসব বারবিকিউ।

চলতি সপ্তাহে রেকর্ড তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জনসাধারণকে খোলা জায়গায় আগুন না জ্বালানোর এবং সিগারেট সতর্কতার সঙ্গে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ এখন ‘বারুদের স্তূপের মতো’ অবস্থায় রয়েছে আর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে দমকল বাহিনীর কর্মীরা একের পর এক অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে একাধিক দাবানল মোকাবিলা করেছে অগ্নিনির্বাপণ দল। একই দিন লাখো মানুষের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়।

প্রয়োজন হলে দেশের অন্য এলাকাতেও আরও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দাবানল মোকাবিলায় জরুরি দলগুলোকে সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত ২০০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বলতে এখন এখানে ঠিক এমনটাই বোঝায়।’ তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যকে একাধিক দাবানলের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এটিকে অনিবার্য বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়, আর আমি তা মেনে নিচ্ছিও না।’

এ ছাড়া বিবিসিকে দেওয়া আলাদা এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে সক্রিয় দাবানলের সংখ্যা ৩৭টি, যার মধ্যে চারটিই বেশ বড়।

ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিলের (এনএফসিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ হাজার ১৭টি দাবানল নথিভুক্ত হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে ‘দাবানলের ঝুঁকি খুব বেশি’—এমন সতর্কতা জানিয়ে মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বাসিন্দা, জমির মালিক ও দর্শনার্থীদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে আগুন লাগতে পারে। এর মধ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ, ফায়ারপিট, বাগানের বর্জ্য পোড়ানোর চুল্লি ও আতশবাজিও রয়েছে।

ডিবিআইএসটি প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বারবিকিউকে ‘নিরাপদ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না’। তাই এ মুহূর্তে গ্রেট ব্রিটেনে দোকানে কিংবা অনলাইনে—কোথাও এসব পণ্য বিক্রির জন্য রাখা উচিত নয়।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হবে। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড এর আওতাভুক্ত নয়।

২০২৩ সালে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের সমঝোতার ভিত্তিতে এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় এসব পণ্যের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল অনেক বড় খুচরা বিক্রেতা ও সুপারমার্কেট।

একবার ব্যবহারযোগ্য গ্রিল নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রচার চালানো ইয়র্ক ও নর্থ ইয়র্কশায়ারের নির্বাচিত লেবার মেয়র ডেভিড স্কেইথ প্রধানমন্ত্রীকে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ডিসপোজেবল বারবিকিউ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এগুলো নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘদিনের দাবি। আমি আশা করি, এটি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞায় পরিণত হবে।’

দাবানল ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপণ বিমানের মতো বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা কমিশন করার কথাও জানিয়েছেন বার্নহাম।

দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করা অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বার্নহাম বলেন, ‘দেশজুড়ে আমাদের যে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস রয়েছে, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেটি যথাযথভাবে প্রস্তুত নয়। এসব আগুন নেভানোর জন্য আমাদের যে সক্ষমতা থাকা উচিত, তা নেই।’

২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১ হাজার দাবানলের ঘটনা সামলাতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। সে সময় সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ছে।

এ গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা জলবায়ুবিজ্ঞানীদের দেওয়া সতর্কবার্তার সঙ্গেও মিলে যায়। বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হবে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালে খরার সম্ভাবনাও বাড়বে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত