Ajker Patrika

চীনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫: ২৮
চীনে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত আড়াই শতাধিক। এ ছাড়া নিখোঁজ অন্তত ২৬ জন। নিখোঁজদের সন্ধানে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিজিটিএন জানিয়েছে, তিন শতাধিক বেইস স্টেশন ও ১৩৪ কিলোমিটার অপটিক ফাইবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬ হাজারের বেশি গ্রাহক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭৭টি বেইস স্টেশন চালু করা সম্ভব হয়েছে এবং প্রায় ২২ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎসংযোগ সচল করা গেছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়েছেন দমকলকর্মীরা।

স্থানীয় সময় সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান প্রদেশে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার এই ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিচুয়ান প্রদেশের কাংডিং শহরের প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পে প্রাদেশিক রাজধানী চেংডু ও দূরবর্তী প্রদেশগুলো কেঁপে ওঠে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের আঘাত এতটাই ছিল যে সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংডুতেও তা অনুভূত হয়, যেখানে লাখ লাখ মানুষ করোনা পরিস্থিতির কারণে চলাচলের বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে। 

সিচুয়ান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে জুনে সিচুয়ানে ৬ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের আগস্টে সিচুয়ানের আবা প্রিফেকচারে হওয়া ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর এবারেরটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র কুর্দিরা, ঠেকাতে সাহায্য করছে তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল অভিবাসন পুলিশ

ক্রিকেটারদের বিপিএল ‘বয়কট’, হচ্ছে না নোয়াখালী-চট্টগ্রামের ম্যাচ

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

এবার আর টার্গেট মিস হবে না! ট্রাম্পের রক্তাক্ত মুখ দেখিয়ে এ কী বার্তা দিল ইরানের টিভি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাটলার র‍্যালিতে হওয়া হামলার ফুটেজ ও তাঁর রক্তাক্ত ছবি প্রচার করে এক ভয়াবহ হুমকি দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। সম্প্রচারের সময় স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি বাক্য—এবার আর টার্গেট মিস হবে না (This time, the bullet won’t miss)। গতকাল বুধবার এই ভিডিও ক্লিপটি প্রচার করা হয় বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কখন প্রচার করা হয়েছে তা জানা যায়নি।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক যখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই এই উসকানিমূলক বার্তা দিল খামেনি প্রশাসন।

এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘সাহায্য আসছে। মেক ইরান গ্রেপ এগেইন।’

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে পারে। বিশেষ করে ইরানি যুবক এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। অবশ্য ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়ার পর ইরানের বিচার বিভাগ এরফানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ডেইলি মেইলকে বলেন, ‘ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিকল্প খোলা আছে।’

বিভিন্ন মানবাধিকার সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৮ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রতিদিন বহু আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

একজন চিকিৎসক পরিস্থিতিকে গণহতাহতের পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে হাসপাতালের মর্গে সারিবদ্ধ মরদেহ এবং স্বজনদের আহাজারির দৃশ্য দেখা গেছে।

ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের একাধিক নাগরিক অভিযোগ করেছেন—ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলির নির্দেশ পেয়েছে, বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে, মরদেহ ফেরত পেতে পরিবারগুলোর কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

তথ্যসূত্র: এএফপি ও ডেইলি মেইল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র কুর্দিরা, ঠেকাতে সাহায্য করছে তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল অভিবাসন পুলিশ

ক্রিকেটারদের বিপিএল ‘বয়কট’, হচ্ছে না নোয়াখালী-চট্টগ্রামের ম্যাচ

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ট্রাম্প-মাচাদো বৈঠকের আগে ভেনেজুয়েলার আরও এক ট্যাংকার জব্দ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্প-মাচাদো বৈঠকের আগে ভেনেজুয়েলার আরও এক ট্যাংকার জব্দ

মাদুরোকে আটকের পর আজ হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হচ্ছেন দেশটির প্রধান বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে এই আলোচনার আবহের মধ্যেই ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন বাহিনী কর্তৃক ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী একটি জাহাজ জব্দের খবর পাওয়া গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলাসংশ্লিস্ট ছয়টি জাহাজ জব্দ করল ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সাউদার্ন কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভেরোনিকা নামের তেলের ট্যাংকারটি স্থানীয় সময় ভোরবেলা জব্দ করা হয়। জাহাজটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহন করছিল।

৩ জানুয়ারি এক দুঃসাহসিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে একের পর এক ট্যাংকার জব্দ করে চলেছে।

এদিকে মাদুরোকে আটকের পর আজকের ট্রাম্প-মাচাদোর বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাচাদোর দল বিজয়ী হলেও মাদুরো ক্ষমতা ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থান কিছুটা রহস্যময়।

সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মাচাদোকে ‘খুবই চমৎকার একজন নারী’ হিসেবে অভিহিত করলেও তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন।

সবচেয়ে মজার বিষয়, ট্রাম্প এখন মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। জানা গেছে, গতকাল বুধবারও রদ্রিগুয়েজের সঙ্গে ট্রাম্প দীর্ঘ ফোনালাপ করেছেন এবং তাঁদের সম্পর্ককে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন।

মাদুরো গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেলসি রদ্রিগুয়েজ ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিও নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অনুরোধে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকসহ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে ভেনেজুয়েলা। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প সম্ভবত মাচাদোর চেয়ে রদ্রিগুয়েজকেই তাঁর ‘তেল চুক্তি’ বা ‘গ্রেট এনার্জি ডিল’ বাস্তবায়নের জন্য বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র কুর্দিরা, ঠেকাতে সাহায্য করছে তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল অভিবাসন পুলিশ

ক্রিকেটারদের বিপিএল ‘বয়কট’, হচ্ছে না নোয়াখালী-চট্টগ্রামের ম্যাচ

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা স্থগিতের আওতায় কারা পড়বে না, জানাল স্টেট ডিপার্টমেন্ট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ২৬
ছবি: এএফপি
ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসাপ্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। কারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়ছেন—সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরা যেন আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হন এবং মার্কিন করদাতাদের ওপর বোঝা না হন; সে লক্ষ্যেই ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির আওতায় উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর ভিসা কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

কারা এই ভিসা স্থগিতের আওতায় পড়বেন না

স্টেট ডিপার্টমেন্টের দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এটি শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এর মধ্যে কর্মসংস্থানভিত্তিক ও পারিবারিক অভিবাসী ভিসা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে অভিবাসনবহির্ভূত ভিসা— যেমন পর্যটক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়িক ভিসা—এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বে না।

এছাড়াও আর কিছু ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। যেসব আবেদনকারীর দুটি দেশের নাগরিকত্ব (দ্বৈত নাগরিক) রয়েছে এবং যাঁরা ভিসার জন্য আবেদন করছেন এমন একটি দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে, যে দেশটি নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নেই—তাঁরা এই ভিসা স্থগিতের আওতায় পড়বেন না।

যাঁদের ইতিমধ্যে বৈধ ভিসা আছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁদের ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না। এই নির্দেশিকা কেবল নতুন করে ভিসা ইস্যু করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ যাঁদের হাতে আগে থেকে বৈধ ভিসা রয়েছে, তাঁদের ভিসা বহাল থাকবে।

এই স্থগিতাদেশ শুধু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ট্যুরিস্ট, বিজনেস, স্টুডেন্ট বা অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে নয়। অর্থাৎ, বি-১/বি-২ (ভ্রমণ), এফ-১-সহ (শিক্ষার্থী) অন্যান্য নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

যাঁদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদন রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কী হবে

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আবেদনকারীরা ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং নির্ধারিত ইন্টারভিউয়ে অংশ নিতে পারবেন। তবে এই স্থগিতাদেশ চলাকালে নতুন কোনো ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (যেসব দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে) ইস্যু করা হবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত

স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে চায়, যাঁরা ভবিষ্যতে সরকারি ভাতা, কল্যাণমূলক কর্মসূচি, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। এ কারণেই স্বাস্থ্য, বয়স, আর্থিক সক্ষমতা, ভাষাজ্ঞান ও অতীত কল্যাণ সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মার্কিন সরকার অভিবাসীদের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসনসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেয়। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসে। এরপরই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এর লক্ষ্য, আবেদনকারীরা যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র কুর্দিরা, ঠেকাতে সাহায্য করছে তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল অভিবাসন পুলিশ

ক্রিকেটারদের বিপিএল ‘বয়কট’, হচ্ছে না নোয়াখালী-চট্টগ্রামের ম্যাচ

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্বে ক্ষমতার সংঘাত—বেরিয়ে এল বিবিসির অনুসন্ধানে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ২২
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার (মাঝে) একসময়ের বিশ্বস্ত দুই উপনেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি (বায়ে) ও মোল্লা ইয়াকুব (ডানে)। ছবি: বিবিসি
তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার (মাঝে) একসময়ের বিশ্বস্ত দুই উপনেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি (বায়ে) ও মোল্লা ইয়াকুব (ডানে)। ছবি: বিবিসি

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বে গভীর মতপার্থক্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের চিত্র উঠে এসেছে বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। বাইরের হুমকির বদলে সরকারের ভেতরের বিভক্তিই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।

একটি গোপন অডিও বার্তার বরাতে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিবিসি জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের একটি মাদ্রাসায় ভাষণ দিয়েছিলেন আখুন্দজাদা। ওই ভাষণে তাঁকে বলতে শোনা যায়—সরকারের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ একদিন পুরো ‘ইসলামি আমিরাত’-এর পতন ঘটাতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই বিভাজনের ফলেই আমিরাত ভেঙে পড়বে।’

আখুন্দজাদার এই বক্তব্য দীর্ঘদিনের একটি সন্দেহকে নতুন করে জাগিয়ে দিয়েছে। অনেকেই সন্দেহ করেন—তালেবানের শীর্ষ পর্যায়ে আসলে দুটি ভিন্ন শক্তিকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। তবে তালেবান নেতৃত্ব বরাবরই এমন বিভক্তির কথা অস্বীকার করে এসেছে।

এদিকে বিবিসির আফগান সার্ভিস বিগত এক বছর ধরে বিষয়টির সত্যতা জানতে অনুসন্ধান চালিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি শতাধিক সাবেক ও বর্তমান তালেবান সদস্য, কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে এবং তালেবানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের স্পষ্ট কাঠামো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।

এই বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—তালেবানের শীর্ষ নেতৃত্বে এখন দুটি আলাদা শিবির রয়েছে। এই দুটি শিবিরের একদিকে রয়েছে কান্দাহারভিত্তিক আখুন্দজাদার অনুগত গোষ্ঠী, যারা একটি কঠোর, আধুনিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমে বিশ্বাসী। অন্যদিকে রয়েছে কাবুলভিত্তিক প্রভাবশালী মন্ত্রী, সামরিক নেতা ও ধর্মীয় চিন্তাবিদদের একটি দল, যারা ইসলামি কাঠামোর মধ্যে থেকেও আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারীদের শিক্ষার সুযোগ পুনর্বহালের পক্ষে।

তালেবানের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র এই দ্বন্দ্বকে আখ্যা দিয়েছেন—‘কান্দাহার হাউস বনাম কাবুল’। এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নেয় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে, যখন আখুন্দজাদার নির্দেশে হঠাৎ করেই আফগানিস্তানজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিন দিন পরেই অবশ্য কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আবারও ইন্টারনেট চালু করা হয়। বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাবুলভিত্তিক শীর্ষ মন্ত্রীরা আখুন্দজাদার আদেশ অমান্য করেই ইন্টারনেট পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবানের ইতিহাসে এটি ছিল প্রায় নজিরবিহীন ঘটনা। কারণ এই সংগঠনের মূল নীতিই হলো নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য। এক তালেবান সূত্র একে সরাসরি ‘বিদ্রোহ’ বলে অভিহিত করেছেন।

শুরুর দিকে আখুন্দজাদা এমন ছিলেন না বলেই দাবি করেছেন অনেক সূত্র। ২০১৬ সালে তাঁকে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয় মূলত ঐকমত্য তৈরির সক্ষমতার কারণে। তাঁর দুই উপ-নেতা ছিলেন সিরাজউদ্দিন হাক্কানি ও মোল্লা ইয়াকুব। বিশ্বস্ত এই দুই উপনেতা যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতেন। কিন্তু ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর দ্রুতই এই ভারসাম্য ভেঙে পড়ে। উপ-নেতারা মন্ত্রিত্বে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন, আর আখুন্দজাদা একক ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হন। তিনি কাবুল ছেড়ে কান্দাহারকে ক্ষমতার কেন্দ্র বানান এবং ধীরে ধীরে নিরাপত্তা, ধর্মীয় নীতি ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন। এভাবে মেয়েদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা নিষিদ্ধকরণসহ একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত কাবুলের মন্ত্রীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই নেওয়া হয়, যা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

সিরাজউদ্দিন হাক্কানি ও মোল্লা ইয়াকুবের মতো কাবুলভিত্তিক নেতারা নিজেদের ‘মধ্যপন্থী’ নয়, বরং ‘বাস্তববাদী’ হিসেবে দেখেন। তাঁদের বিশ্বাস, বর্তমান কাঠামোতে আফগানিস্তান দীর্ঘ মেয়াদে টিকতে পারবে না। তাঁদের কাছে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত ছিল সরাসরি অর্থনীতি ও শাসনব্যবস্থার ওপর আঘাত। এ কারণেই তাঁরা শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি ছাড়াই আবারও ইন্টারনেট চালু করার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে ইন্টারনেট আবারও চালু হলেও দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি। কেউ কেউ মনে করছেন, ধীরে ধীরে কাবুলভিত্তিক নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। আবার অন্য সূত্র বলছে, আখুন্দজাদা নিজেই চাপের মুখে পিছু হটেছেন।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অবশ্য এমন বিভক্তির কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কখনোই বিভক্ত হতে দেব না। মতের পার্থক্য পরিবারে যেমন থাকে, এখানেও তেমনই।’

তবু সাম্প্রতিক বক্তব্য ও ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে—তালেবানের ভেতরের এই মতপার্থক্য শুধু পারিবারিক মতানৈক্য নয়, বরং আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন এক গভীর ক্ষমতার সংঘাত। ২০২৬ সালে এই দ্বন্দ্ব কথার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেয় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আজকের রাশিফল: আপনার স্পষ্ট কথা কারও বুক ফুটা করে দিতে পারে, পকেট সামলান

ইরাক থেকে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে সশস্ত্র কুর্দিরা, ঠেকাতে সাহায্য করছে তুরস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেল অভিবাসন পুলিশ

ক্রিকেটারদের বিপিএল ‘বয়কট’, হচ্ছে না নোয়াখালী-চট্টগ্রামের ম্যাচ

বিমানের পরিচালক হলেন খলিলুর রহমান, ফয়েজ তৈয়্যব ও ইসি সচিব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত