Ajker Patrika

চীনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী, শুল্কের গেরো খুলে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কি কার্নি। ছবি: সিনহুয়া
চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্কি কার্নি। ছবি: সিনহুয়া

কানাডা ও চীন বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং ক্যানোলা (সরিষার মতো তেলবীজ) পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার চীন সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ কথা জানিয়েছেন। দুই দেশই বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং নতুন কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই সফর করেন কার্নি। কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর তিনি বেইজিংয়ে গেলেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কার্নি জানান, কানাডা প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেবে। এসব গাড়ির ওপর সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের (এমএফএন) শর্ত অনুযায়ী ৬ দশমিক ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে এই ব্যবস্থার মেয়াদ কত দিন হবে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

কার্নি বলেন, ‘এটি সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার মতো, তবে এমন একটি চুক্তির আওতায়, যা কানাডীয়দের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করবে।’ এই সিদ্ধান্তের আগে ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের শুল্কের অনুসরণেই সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে চীন থেকে কানাডায় ৪১ হাজার ৬৭৮টি বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানি হয়েছিল।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংসহ দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর কার্নি আবারও বলেন, কানাডা প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি দেবে এবং এসব গাড়ির ওপর ৬.১ শতাংশ এমএফএন শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তিনি এখানেও কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি। তিনি আবারও বলেন, ‘এটি সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের আগের পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার মতো, তবে এমন একটি চুক্তির আওতায়, যা কানাডীয়দের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনবে।’

এই সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কারণ ২০২৪ সালে ট্রুডোর সরকার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মতোই চীনের বিরুদ্ধে তখন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে চীন কানাডায় ৪১ হাজার ৬৭৮টি বৈদ্যুতিক গাড়ি রপ্তানি করেছিল। ট্রুডো ওই সময় শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির কারণে চীনা নির্মাতারা বৈশ্বিক বাজারে অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে, যা কানাডার অভ্যন্তরীণ শিল্পের জন্য হুমকি তৈরি করছে।

মার্ক কার্নি বলেন, ‘কানাডাকে যদি প্রতিযোগিতামূলক বৈদ্যুতিক যান শিল্প গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের উদ্ভাবনী অংশীদারদের কাছ থেকে শিখতে হবে, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে এবং স্থানীয় চাহিদা বাড়াতে হবে।’ তিনি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সংরক্ষণ ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্বের কথা উল্লেখ করেন, যা নতুন বিনিয়োগ আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

কার্নি বলেন, এই ইভি চুক্তির ফলে কানাডার অটো শিল্পে ‘উল্লেখযোগ্য’ চীনা বিনিয়োগ আসবে, কানাডায় ভালো মানের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটি দ্রুত নেট-জিরো লক্ষ্যের দিকে এগোবে। গত বছরের মার্চে ট্রুডোর শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় চীন কানাডার ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক বসায়। এর মধ্যে ক্যানোলা তেল ও ক্যানোলা মিল অন্তর্ভুক্ত ছিল। আগস্টে ক্যানোলা বীজের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হয়। এর ফলে ২০২৫ সালে চীনে কানাডীয় পণ্যের আমদানি ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়।

নতুন চুক্তির আওতায় কার্নি জানান, কানাডা আশা করছে আগামী ১ মার্চের মধ্যে চীন ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক কমাবে এবং সম্মিলিতভাবে তা প্রায় ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ফলে বর্তমান ৮৪ শতাংশ সম্মিলিত শুল্কের তুলনায় বড় ধরনের হ্রাস ঘটবে।’ তিনি আরও বলেন, চীন কানাডার জন্য চার বিলিয়ন ডলারের ক্যানোলা বীজের বাজার।

এ ছাড়া, ১ মার্চ থেকে অন্তত বছরের শেষ পর্যন্ত কানাডার ক্যানোলা মিল, লবস্টার, কাঁকড়া ও মটরশুঁটির ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে বলে কানাডা আশা করছে। কার্নি বলেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ খুলে যাবে, যা কানাডার কৃষক, মৎস্যজীবী ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের জন্য চীনা বাজারের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করার পর এবং দীর্ঘদিনের মিত্র দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার হুমকি দেওয়ার পর কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। একইভাবে, ট্রাম্প গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে তার শুল্কের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত চীনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ের মধ্যে থাকা জি–৭ ভুক্ত একটি দেশের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী। মার্ক কার্নি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, তা এখন বেশি পূর্বানুমানযোগ্য এবং এর ফলও দেখা যাচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত