Ajker Patrika

ভারী বৃষ্টিতে নাকাল ব্যাংকক, ‘দুর্যোগকবলিত’ এলাকা ঘোষণা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ০৪
ভারী বৃষ্টিতে নাকাল ব্যাংকক, ‘দুর্যোগকবলিত’ এলাকা ঘোষণা
বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়া একটি মহাসড়ক। ছবি: এএফপি

টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, যানজটে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার পর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলাকেই দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আজ শনিবার ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামীকাল সোমবার সব স্কুল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বাড়িতে থাকার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জলাবদ্ধ সড়কে যান চলাচল কমানো যায়। দুর্যোগ ঘোষণা দেওয়ার ফলে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমএ), অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

গতকাল শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও যানজট অব্যাহত ছিল। পূর্ব ব্যাংককের এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে পাথুম থানি প্রদেশের রাংসিত পৌর এলাকাকেও জরুরি দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ রোববার সকাল ৯টার কিছু পর ব্যাংককের বাসিন্দাদের কাছে সেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে জানানো হয়, শহরের খালগুলোর পানির স্তর ইতিমধ্যে সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।

থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্ন মধ্যাঞ্চলীয় সমভূমি, ব্যাংকক ও আশপাশের প্রদেশজুড়ে অবস্থান করা একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়া অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দামান সাগর, দক্ষিণাঞ্চল ও থাইল্যান্ড উপসাগরের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুও শক্তিশালী হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

স্বাভাবিকের তুলনায় ২১৮ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি

ব্যাংককের বর্ষাকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের সময় সেপ্টেম্বর। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বিএমএর ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ২৬৯ মিলিমিটার।

শহরের পানি নিষ্কাশন কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে পানির স্তর স্থিতিশীল হতে শুরু করে। এসব কেন্দ্র সম্মিলিতভাবে প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ২০০ ঘনমিটার পানি সরিয়ে নিচ্ছে।

বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আপডেটে গভর্নর চাদচার্ত বলেন, বৃষ্টি থেমে গেলে জলাবদ্ধতার পানি পুরোপুরি নিষ্কাশনে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না এবং আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় রাজধানীর কিছু বাসিন্দা প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাম ইনথ্রার একটি ম্যাক্রো স্টোরে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। পার্কিং এলাকা পূর্ণ হয়ে গাড়ি সড়ক পর্যন্ত চলে আসে। ক্রেতাদের শপিং কার্টে ইনস্ট্যান্ট নুডলস, পানীয় জল ও টিনজাত মাছসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য দেখা যায়।

চাও ফ্রায়া নদীতে বাড়ছে পানি

ব্যাংককের উজানে চিয়াং নাত প্রদেশের চাও ফ্রায়া বাঁধ থেকে পানির নিঃসরণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। রয়্যাল ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ৮৫০ ঘনমিটার থেকে পানির নিঃসরণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৫০ ঘনমিটার করা হয়েছে।

বাঁধের ভাটিতে চাও ফ্রায়া নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি নই নদীর তীরের বাসিন্দাদেরও পানির স্তর ও সরকারি ঘোষণাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে থাইল্যান্ডের আরও ২০টি প্রদেশে বিভিন্ন মাত্রায় বন্যার খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশগুলো হলো—নাখন রাতচাসিমা, চানথাবুরি, ফেচাবুন, চন বুরি, চাচোয়েংসাও, বুরি রাম, সুরিন, সিং বুরি, সামুত প্রাকান, নাখন সাওয়ান, ফিচিত, রায়ং, আং থং, চিয়াং নাত, উথাই থানি, প্রাচিন বুরি, আয়ুথায়া, সা কেও, ফিৎসানুলোক, সুপান বুরি এবং নাখন ফানম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত