Ajker Patrika

রেকর্ডের সর্বোচ্চ তীব্রতায় এল নিনো, শীতজুড়ে থাকার পূর্বাভাস জাপানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ১৯
রেকর্ডের সর্বোচ্চ তীব্রতায় এল নিনো, শীতজুড়ে থাকার পূর্বাভাস জাপানের
২০১৫ সালে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় একটি শুকিয়ে যাওয়া মৎস্য খামারের ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এক পরিবার; সেবার ‘এল নিনো’ আবহাওয়ার প্রভাবে কৃষিজমি ও ফসল ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ছবি: জাপান টাইমস

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি রেকর্ড করা ইতিহাসের সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শক্তি আরও বৃদ্ধি পাওয়া এই জলবায়ু পরিস্থিতি উত্তর গোলার্ধের শীতকালজুড়ে অব্যাহত থাকার জোরালো পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জানায়, এল নিনো পর্যবেক্ষণের জন্য নির্ধারিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। ১৯৪৯ সালে রেকর্ড রাখা শুরুর পর এটিই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

বেশ কয়েক মাস ধরেই আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করে আসছেন, ২০২৬ সালের এল নিনো অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। পরিস্থিতির অস্বাভাবিক তীব্রতার কারণে একে ‘সুপার এল নিনো’ বলেও অভিহিত করছেন তাঁরা।

এল নিনো হলো প্রাকৃতিকভাবে সংঘটিত এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও) জলবায়ুচক্রের উষ্ণ পর্যায়। এই চক্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুকে প্রভাবিত করে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর এল নিনো দেখা দেয়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন ব্যাহত হয়। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।

জাপানের এই সতর্কতার এক দিন আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছিল, এল নিনোর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং ডিসেম্বরের দিকে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। একই সঙ্গে ১৯৫০ সালের পর এটি অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব গত মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এল নিনো সংশ্লিষ্ট তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে। এটি গবেষকদের মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস, নিশ্চিত মৃত্যুসংখ্যা নয়। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতি উষ্ণ দিনের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট মাস বৈশ্বিক উষ্ণতার রেকর্ডে ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিল। ওই দুই মাসে বিশ্বজুড়ে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বায়ুর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কোপার্নিকাসের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়, এল নিনোর তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বজায় ছিল। এতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত