Ajker Patrika

নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নিহত ২৭০ ছাড়াল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৩৪
নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নিহত ২৭০ ছাড়াল
আকস্মিক বন্যার ফলে কাদায় ডুবে যাওয়া কয়েকটি বহুতল ভবন। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট

নেপাল ও চীনা ভূখণ্ড তিব্বতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭০ জনের বেশি। এর মধ্যে নেপালেরই ২৭০ জন এবং চীনের তিব্বতের আছে ৩ জন। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বিদেশি পর্যটকসহ শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। বন্যার পানিতে ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি নেপালের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সকালে ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় নেপালের তিনটি জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২৭০জন নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেপাল পুলিশ জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ২৭০ জন ছাড়িয়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও চীনা রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার পৃথক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।


আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয় ভোতে কোশি নদীর উপনদী লহন্দে নদীর প্রবাহ একটি তুষারধসে আটকে যাওয়ার পর। চীনের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার রাসুয়াগাধি এলাকার কাছে প্রথমে তিমুরে আঘাত হানে বন্যা। শত শত মানুষের বসতি এই এলাকায় ছিল। পানির স্রোতে বসতির বড় একটি অংশ ভেসে যায়। এরপর বন্যার পানি দ্রুত ভাটির দিকে ধেয়ে যায়।

এ সময় ওই এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাননি। তারা প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করছিলেন, এমন সময় হঠাৎ বন্যা আঘাত হানে। রাসুয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, বুধবার সকালে হঠাৎ মাটি কাঁপতে অনুভব করে তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প হয়েছে। বাইরে বের হয়ে তিনি দেখেন, ওপরের দিক থেকে বিশাল পানির দেয়াল নেমে আসছে। পানির সঙ্গে ধোঁয়ার মতো কিছু একটা দেখা যাচ্ছিল এবং সেটি তিমুরে বাজারের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছিল।

ধুঙ্গানা বলেন, বন্যার পানির উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত উঠেছিল এবং ঢেউয়ের মতো বাজারের ওপর দিয়ে ধেয়ে যায়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাজার নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েক ডজন মানুষ পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। রাসুওয়াগাধি কাস্টমস চেকপয়েন্টে অপেক্ষায় থাকা ৩০০ টির বেশি গাড়ি ও ট্রাকও পানিতে ভেসে যায়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৪৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। মোট নিখোঁজের সংখ্যা কয়েকশ। নিখোঁজ মানুষের বিপুল সংখ্যার কারণে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বুধবারের বন্যা নেপালের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে। এমনকি এটি ১৯৯৩ সালের সারলাহী, রৌতাহাট ও মাকওয়ানপুরের ভয়াবহ বন্যাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৯৯৩ সালের ওই বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটিই নেপালের ভয়াবহতম দুর্যোগের একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নৌয়াকোটের বিদুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান রবীন্দ্র নেপাল জানান, সোলে থেকে আক্কারে বাজার পর্যন্ত শত শত বাড়ি বন্যায় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কিছু মানুষ নিরাপদে পালাতে সক্ষম হলেও অনেক বয়স্ক মানুষ ও শিশু এখনো নিখোঁজ। তিনি বলেন, বুধবার ভোর থেকেই তিনি পৌর ভবনে আটকে আছেন। বাড়ি ফেরার জন্য কোনো রাস্তা বা সেতু আর অবশিষ্ট নেই।

কর্তৃপক্ষ বলছে, আকস্মিক বন্যার বিষয়ে যথাযথ তথ্য না থাকাই এবার এত বড় প্রাণহানি ও সম্পদহানির অন্যতম কারণ। রাসুওয়া জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিব্বত থেকে বন্যার উৎপত্তি হলেও এ বিষয়ে তারা আগে কোনো তথ্য পাননি।

এদিকে, চীনা তিব্বতের দক্ষিণ-পশ্চিম সিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে চীন-নেপাল সীমান্তের একটি বন্দরে ভূমিধসের ঘটনায় আাজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫৫৮ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আর স্থানীয় ২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা।

অপরদিকে, বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর বুধবার বিকেলে নেপালের জলবিদ্যুৎ ও আবহাওয়া বিভাগ এবং চীনের আবহাওয়া প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। বৈঠকের পর চীন সম্মত হয়েছে যে সীমান্তের চীনা অংশে পানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করলে নেপালকে দ্রুত জানানো হবে। নেপাল ও চীনের মধ্যে দুর্যোগ ঝুঁকি কমানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আগে থেকেই একটি চুক্তি রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত