প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও তিন শতাধিক আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার গভীর রাতে এই আবর্জনাভর্তি বেলুনগুলো পাঠায় পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদ সংস্থা ইয়ুনহাপ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইয়ুনহাপকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্তত ৩১০টি আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠিয়েছে। উত্তরের প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের ক্ষমতাধর বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণের বিরুদ্ধে নতুন করে পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই বেলুনগুলো পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়ুনহাপ বলেছে, ‘রোববার গভীর রাতে পাঠানো বর্জ্যবোঝাই বেলুনগুলোর সর্বশেষ ব্যাচটিতে বাতিল কাগজ ও প্লাস্টিক ছিল, এখন পর্যন্ত কোনো বিষাক্ত পদার্থ শনাক্ত করা যায়নি।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আজ সোমবার ভোর পর্যন্ত আকাশে আর কোনো অতিরিক্ত বেলুন শনাক্ত করা যায়নি।
এর আগে, গত মে মাসের শেষ দিকে কমপক্ষে ২৬০টি বেলুনের সঙ্গে মানুষের মলসহ ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি ব্যাগ জুড়ে দিয়ে সেগুলো দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠায় উত্তর। সে সময় দক্ষিণ কোরিয়ার দেশটির ৯টি প্রদেশের ৮টিতেই ময়লাসহ উড়ে আসা বেলুন পাওয়া গেছে। এগুলো এখন বিশ্লেষণ করে দেখছে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ।
১৯৫০-এর দশকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের সময় থেকেই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণার অংশ হিসেবে বেলুন ব্যবহার করে এসেছে। এ অবস্থায় নতুন বেলুনগুলোতে ময়লা–আবর্জনার সঙ্গে উত্তর কোরিয়া কোনো প্রোপাগান্ডা লিফলেট পাঠিয়েছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাকটিভিস্টদের লিফলেট এবং ময়লা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশোধ নেওয়া হবে—উত্তর কোরিয়ার এমন হুঁশিয়ারির কয়েক দিনের মধ্যেই সর্বশেষ বেলুন উড়ে আসার ঘটনাটি ঘটেছে। গত রোববার উত্তর কোরিয়ার উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম কং ইল এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘শিগগিরই সীমান্তের ওপারে দক্ষিণ কোরিয়ার ভেতরে ময়লা-আবর্জনা চালান করা হবে। এগুলো অপসারণের জন্য কতটুকু সামর্থ্যের প্রয়োজন তা বুঝতে পারবে দেশটি।’
ময়লাসহ বেলুন উড়ে আসার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং বিশেষ করে রাজধানী সিউলের উত্তর অংশে বসবাস করা নাগরিকদের কাছে মঙ্গলবার দিনের শেষ ভাগে খুদেবার্তা পাঠিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষগুলো। এসব বার্তায় নাগরিকদের বাড়ির বাইরের কাজকর্ম নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, ময়লা-আবর্জনাসহ এ ধরনের কোনো বেলুনসদৃশ বা অচেনা বস্তু নজরে পড়লেই যেন তারা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পগুলোকে অবহিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, সাদা রঙের গ্যাস বেলুনের সঙ্গে উড়ে এসেছে টয়লেট পেপার, কালো মাটি, ব্যাটারির মতো পরিত্যক্ত আরও বিভিন্ন আবর্জনা। কিছু ছবিতে ঘটনাস্থলের কাছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ ও সেনাসদস্যদের অবস্থান করতেও দেখা গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ুনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাওয়া কিছু আবর্জনাকে মানুষের মল হিসেবেও সন্দেহ করা হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী এমন কাজকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সামরিক বাহিনীর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি আমাদের জনগণের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। বেলুন উড়ে আসার ঘটনায় উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণভাবে দায়ী। আমরা উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে এই অমানবিক ও নৃশংস কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করছি।’
অতীতে দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও উত্তর কোরিয়ার দিকে পিয়ংইয়ংবিরোধী লিফলেটের পাশাপাশি চকো পাইয়ের মতো উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ বিভিন্ন বস্তু বেলুনে করে পাঠিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাকটিভিস্টরা। তবে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এ ধরনের কাজকে অপরাধ আখ্যা দিয়ে আইন পাস করা হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় মোড় দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর অনিচ্ছাকৃত হামলার জন্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-সংক্রান্ত সব ধরনের আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া।
১ ঘণ্টা আগে
জেন-জি বিপ্লবে অশান্ত নেপালে চলছে সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী ভোট গণনা। বিপ্লবের জনপ্রিয় মুখ বালেন্দ্র শাহ ভোটে এগিয়ে আছেন বেশ বড় ব্যবধানে। ব্যবধান বজায় থাকলে এই র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বালেন্দ্র শাহ ওরফে বালেন শাহই হতে পারেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
২ ঘণ্টা আগে
কল্পবিজ্ঞান বা সায়েন্স ফিকশন মুভির সেই দৃশ্যগুলো এখন ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে বাস্তব হয়ে উঠছে। যেখানে একসময় রক্ত-মাংসের সৈনিকেরা পরিখায় লড়াই করত, সেখানে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অত্যাধুনিক সশস্ত্র রোবট। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানের পর থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একটি উচ্চ প্রযুক্তির সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে