Ajker Patrika

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটসহ বিমান জ্বালিয়ে দিল বিদ্রোহীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২: ০১
ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়ায় মার্কিন পাইলটসহ বিমান জ্বালিয়ে দিল বিদ্রোহীরা
পাপুয়ায় বিদ্রোহীরা একটি বেসামরিক উড়োজাহাজ জ্বালিয়ে দিয়েছে। ছবি: টিপিএনপিবি

পাপুয়া অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহীরা এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে এবং একটি বেসামরিক বিমান পুড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখপাত্র এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া সরকারের উদ্দেশে দেওয়া ‘বার্তা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের

পশ্চিম পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিপিএনপিবি) মুখপাত্র সেবি সামবোম নিহত পাইলটের নাম নিকোলাস এফ গসেলিন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিমানটি হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলে অবতরণের পর বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধারা সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেবি সামবোমের দাবি, বিমানটি ‘নিয়মিতভাবে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক সদস্যদের বহন করছিল এবং টিপিএনপিবির দেওয়া চূড়ান্ত সতর্কবার্তা (আলটিমেটাম) লঙ্ঘন করছিল।’

ইন্দোনেশিয়া থেকে স্বাধীনতার দাবিতে পাপুয়া দ্বীপের সম্পদসমৃদ্ধ পশ্চিমাংশে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমাত্রার সশস্ত্র সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা আরও উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ করায় তাঁদের হামলা আগের তুলনায় আরও প্রাণঘাতী ও ঘন ঘন হয়ে উঠেছে।

পাপুয়ায় ইন্দোনেশিয়ার যৌথ পুলিশ-সামরিক অভিযানের মুখপাত্র ইউসুফ সুতেজো নিশ্চিত করেছেন, ইয়াহুকিমোর একটি বিমানবন্দরে এক মার্কিন পাইলট ও সাত যাত্রী বহনকারী একটি বিমান পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি, বিমানটি বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছিল কি না বা পাইলট নিহত হয়েছেন কি না। তাঁর ভাষ্য, সাত যাত্রীই ছিলেন পাপুয়ান।

সেবি সামবোম বলেন, ইয়াহুকিমোর বালিংগামা জেলায় চালানো এই হামলা ছিল ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি একটি বার্তা। তাঁর অভিযোগ, দুই সরকারই ‘ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনী ও পশ্চিম পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির মধ্যকার পাপুয়া সংঘাতের মূল কারণগুলো সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়া যদি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘রেড জোনে’ বেসামরিক বিমান প্রবেশের অনুমতি দিতে থাকে, তাহলে বিদ্রোহীরা আরও হামলা চালানো শুরু করবে।

টিপিএনপিবির পাঠানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্রোহীরা বন্দুক ও কুঠার হাতে নিয়ে এবং স্বাধীনতার প্রতীক ‘মর্নিং স্টার’ পতাকা উড়িয়ে হামলার ঘোষণা দিচ্ছে।

জাকার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানটিতে একজন পাইলট ও সাত যাত্রী ছিলেন। এটি হাইল্যান্ড পাপুয়ার আরেক শহর ওয়ামেনা থেকে ইয়াহুকিমোর উদ্দেশে উড়ে গিয়েছিল। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিমানটি অবতরণের পর থেকেই এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি পরিচালনা করে এয়ারলাইন অপারেটর পিটি এএমএ। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের বিমানগুলো পাপুয়ার দুর্গম গ্রামগুলোতে খাদ্য, জ্বালানি ও ডাক পৌঁছে দেয়। মন্তব্যের অনুরোধে পিটি এএমএও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।

এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইল্যান্ড পাপুয়ার দুর্গম ও পার্বত্য নডুগা এলাকায় একটি ছোট বাণিজ্যিক বিমান অবতরণের পর পাপুয়ান বিদ্রোহীরা নিউজিল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মেহারটেন্সকে অপহরণ করেছিল। তাঁকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুক্তি দেওয়া হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত