Ajker Patrika

হলিডে ট্র্যাজেডি: ক্ষতিপূরণ মামলা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৫৭
হলিডে ট্র্যাজেডি: ক্ষতিপূরণ মামলা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে
লিন্ডা ও তাঁর স্বামী জিওফ কিচেন। ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান তীব্র টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে পাঁচ সেকেন্ডের কম সময়ে প্রায় ১৭৮ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ব্রিটিশ যাত্রী জিওফ কিচেন। তাঁর স্ত্রী প্রথমবারের মতো সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একই ঘটনায় আহত কয়েকজন ব্রিটিশ যাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিমান সংস্থাটির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুরগামী সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের এসকিউ ৩২১ ফ্লাইটটি মিয়ানমারের আকাশে ভয়াবহ টার্বুলেন্সের মুখে পড়ে। বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের বিমানটিতে ছিলেন ২১১ জন যাত্রী ও ১৮ জন ক্রু।

সেদিন ব্রিস্টলের কাছাকাছি থর্নবারির বাসিন্দা ৭৩ বছর বয়সী জিওফ কিচেন ও তাঁর ৭৪ বছর বয়সী স্ত্রী লিন্ডা কিচেন ছয় সপ্তাহের ছুটিতে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। কিন্তু উড়োজাহাজটির আকস্মিক পতনে তাঁদের স্বপ্নের ভ্রমণ রূপ নেয় মর্মান্তিক ঘটনায়।

লিন্ডা কিচেন জানান, ইউরোপের আকাশসীমা পার হওয়ার সময় কিছুটা ঝাঁকুনি থাকলেও মূল টার্বুলেন্সটি শুরু হয় ফ্লাইটের প্রায় ১০ ঘণ্টা পর। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল, বিমানটি যেন হঠাৎ নিচে পড়ে যাচ্ছে।’

লিন্ডা জানান, তাঁর কিন্ডল ও স্বামীর মোবাইল ফোন মেঝেতে পড়ে যেতে দেখে তিনি ধারণা করেছিলেন বিমানটি হয়তো বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে তিনি পেছনের দিকে ছিটকে পড়েন এবং তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। এ সময় স্বামী জিওফ তাঁর ওপর এসে পড়লে তিনি নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না।

পরে কয়েকজন যাত্রী জিওফকে সরিয়ে নেন এবং একজন চিকিৎসক তাঁকে বাঁচাতে সিপিআর দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিওফকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুর কারণ হৃদ্‌রোগজনিত সমস্যা বলে ধারণা করা হয়।

এদিকে লিন্ডা নিজেও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান এবং তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার জন্য ঘটনার ১০ দিন পর তাঁকে যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই দিন পর স্বামীর মৃত্যুর খবর পান লিন্ডা। ৫২ বছরের দাম্পত্যজীবনের সঙ্গীকে হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন।

কিচেন পরিবারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে দুটি মামলা করা হয়েছে—একটি লিন্ডার ব্যক্তিগত ক্ষতির জন্য এবং অন্যটি জিওফ কিচেনের সম্পত্তি ও স্বার্থের প্রতিনিধিত্বে। একই সঙ্গে জিওফের মৃত্যুর ঘটনায় করোনারের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ঘটনার পর যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। বিমানটি পরে জরুরি অবতরণ করে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত