Ajker Patrika

‘বেতন ২০০৬ সালে স্থবির, বাড়িভাড়া ২০৪৬ সালের’, বেঙ্গালুরুতে ভাড়াটিয়াদের ক্ষোভ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘বেতন ২০০৬ সালে স্থবির, বাড়িভাড়া ২০৪৬ সালের’, বেঙ্গালুরুতে ভাড়াটিয়াদের ক্ষোভ
ভারতে আইসিটি রাজধানী বেঙ্গালুরু। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) রাজধানী হিসেবে পরিচিত শহর বেঙ্গালুরুতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। দেশের অন্য প্রধান মেট্রোপলিটন শহরগুলোকে পেছনে ফেলে এই শহরের বাড়িভাড়ার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সেখানকার কর্মজীবী বাসিন্দারা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বার্তায় বেঙ্গালুরুর এক বাসিন্দা এই আবাসন সংকটকে এক ‘অদ্ভুত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বেসরকারি খাতের বেতন যেন ২০০৬ সালের পুরোনো স্তরে আটকে আছে, অথচ বাড়িওয়ালারা এমনভাবে ভাড়া দাবি করছেন যেন মানুষ ২০৪৬ সালের স্কেলে বেতন পাচ্ছে।

ওই বাসিন্দা বেঙ্গালুরুর জনপ্রিয় ইন্দিরানগর এবং নিউ থিপ্পাসান্দ্রা এলাকার আবাসন চিত্র তুলে ধরে করপোরেট চাকরিজীবীদের আয় এবং বাড়িভাড়ার ব্যবধানকে একটি ‘সম্পূর্ণ গাণিতিক কৌতুক’ বলে অভিহিত করেছেন।

নিজের মাসিক খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে আইটি খাতের শুরুর দিকের দিনগুলোর (২০০৬ সাল) পর থেকে বেসরকারি খাতের বেতন তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্থবির হয়ে রয়েছে।

‘অন্যদিকে, স্বাধীন বাড়িওয়ালারা যেন হাতে ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে আছেন এবং আজ থেকে ২০ বছর ভবিষ্যতের সমান ভাড়া দাবি করছেন,’ মন্তব্য করেন ওই ক্ষুব্ধ বাসিন্দা।

তিনি অভিযোগ করেন, ইন্দিরানগর বা নিউ থিপ্পাসান্দ্রার মতো এলাকায় ১৫ বছরেরও বেশি পুরোনো দোতলা বাড়ির একটি মাত্র কক্ষের (১ বিএইচকে) জন্য মাসে ২২ হাজার থেকে ২৪ হাজার রুপি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অগ্রিম বা সিকিউরিটি ডিপোজিট হিসেবে চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি পর্যন্ত। এমনকি এত চড়া মূল্যের এসব বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পানির ব্যবস্থা নেই, বরং নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা পৌরসভার পানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

বেঙ্গালুরুর বিদ্যমান জীবনযাত্রাকে একটি ‘অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক টাইম মেশিন’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে বেতন দিচ্ছে অতীতের (২০০৬ সাল) স্কেলে, বাড়িওয়ালা আপনার কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন ভবিষ্যতের (২০৪৬ সাল) স্কেলে, আর শহরের পৌর অবকাঠামো এখনো চলছে ৯০-এর দশকের বেসিক লিগ্যাসি সফটওয়্যারের ভরসায়।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের এই প্রযুক্তি নগরীতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ তরুণ পেশাজীবী ও প্রকৌশলী কাজ করতে আসায় আবাসন চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। এর সুযোগ নিয়ে বাড়িওয়ালারা বেপরোয়াভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করছেন বলে অভিযোগ উঠলেও পৌর পরিষেবা বা অবকাঠামোগত মান সেভাবে উন্নত হয়নি। এই বৈষম্য এখন বেঙ্গালুরুর মধ্যবিত্ত কর্মজীবীদের জন্য অন্যতম প্রধান সামাজিক ও আর্থিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত