Ajker Patrika

ছুরি নয়, কুড়াল দিয়ে পাইলটকে হামলা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহপাইলট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৫৩
ছুরি নয়, কুড়াল দিয়ে পাইলটকে হামলা করেছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের সহপাইলট
চিৎকার ও ককপিটে রক্ত: ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে আসলে কী ঘটেছিল

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে মাঝআকাশে দুই পাইলটের রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি ও বিমান ভূপাতিত করার চেষ্টার ঘটনায় নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রসিকিউটর জেনারেল জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে ককপিটে থাকা পাইলটকে একটি ক্র্যাশ কুড়াল দিয়ে হামলা করেছিলেন কো-পাইলট। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি দুবাই থেকে তেল-আবিব যাচ্ছিল। যাত্রার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট (৫ হাজার ২০০ মিটার) নিচে নেমে যায়। পরে যাত্রীরা হামলাকারীকে কাবু করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন।

উল্লেখ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সাধারণত ককপিটে একটি ক্র্যাশ কুড়াল রাখা হয়।

হামলার শিকার হওয়া ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার জানান, হামলার পর আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান তিনি। এ সময় বুঝতে পারেন, উড়োজাহাজটি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে এবং তাঁকে কিছু একটা করতে হবে। স্মিত বলেন, ‘আমি নিজেকে বললাম, দরজাটা ভেতর থেকে খোলার জন্য শেষবারের মতো একটা চেষ্টা করতে হবে।’

এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢোকার সুযোগ পান। হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে নেন তাঁরা। পরে দুই রিজার্ভ পাইলট উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করান।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। উড়োজাহাজটি প্রথমে ‘সাধারণ জরুরি অবস্থা’র সংকেত পাঠায়। পরে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপ’-এর সংকেত পাঠানো হয়। বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক যাত্রী আলমোগ ইতালি বলেন, ‘হঠাৎ উড়োজাহাজটি রোলার কোস্টারের মতো নিচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রচণ্ড জি-ফোর্স অনুভূত হচ্ছিল। ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড ধরে দ্রুত নিচে নামছিল। এরপর কিছুটা স্থির হয় এবং আবার নিচে নামতে শুরু করে।’

এরপর লোকজন ককপিটের দিকে ছুটে যেতে শুরু করেন বলেও জানান তিনি।

হামলায় ছুরিকাঘাতে আহত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে বিমানে করে আবুধাবিতে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

ভারতের নাগরিক মাচ্ছার ‘সুস্থ আছেন এবং ভালোভাবে সেরে উঠছেন’ বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। মাচ্ছার বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমি সুস্থ হয়ে উঠব এবং আবারও পুরোপুরি সুস্থ ও কর্মক্ষম হয়ে যাব।’

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ গত বৃহস্পতিবার বলেন, ককপিট থেকে গোলমালের শব্দ শুনে উড়োজাহাজের ভেতরে প্রথম সতর্কতা জারি করেছিলেন তাল্লি মানেস নামে এক ইসরায়েলি নারী। ক্যাপ্টেন মাচ্ছার আহত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হওয়ার পর তাল্লির স্বামী জভিকা এবং ইয়ানিভ হায়ুন, চিকিৎসক শোতা মুসায়েভ ও আসাফ রাজুয়ান নামে আরও তিন ব্যক্তি ককপিটে ঢোকেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ইয়ানিভ হায়ুনকে বলতে শোনা যায়, হামলাকারী ‘উড়োজাহাজটি অচল করে দিতে যন্ত্রপাতি নষ্ট করার চেষ্টা করছিলেন’।

হায়ুন জানান, তিনি হামলাকারীকে গলা চেপে ধরে ককপিটের বাইরে নিয়ে আসেন। পরে অন্য যাত্রীরা তাঁকে চেপে ধরে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। তিনি আরও বলেন, ‘তিনি উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ধরে ফেলেন। উড়োজাহাজটি কিছুটা সোজা হতে শুরু করে। এরপর আরেকজন পাইলট আমাকে বলেন, তিনি সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন।’

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কানকে জভিকা মানেস বলেন, তিনি ও অন্য যাত্রীরা হামলাকারীকে তাঁর নিজের জিপ টাই এবং মাল্টিমিডিয়া হেডফোন দিয়ে বেঁধে ফেলেন।

ইউএইর অ্যাটর্নি জেনারেল দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, ঘটনার পুরো পরিস্থিতি ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হামলা চালানো কো-পাইলট ওমানের নাগরিক ছিলেন বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারীকে কাবু করার পর তিনি উড়োজাহাজের ক্রুদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলুন, আমাকে মেরে ফেলুন!’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘তাই এটা পরিষ্কার যে তিনি আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলেন...উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করছিলেন। এমন সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে।’

গত বুধবার সন্ধ্যায় সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আহত পাইলট, যাত্রী ও দ্বিতীয় ক্রুর সদস্যরা ‘৯/১১-এর মতো একটি বিপর্যয় ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন’।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত