Ajker Patrika

সাড়ে ৪ লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে ‘হালাল বারবিকিউ’ রেস্তোরাঁ, আয় কত জানেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১১: ৫১
সাড়ে ৪ লাখ ডলারের চাকরি ছেড়ে ‘হালাল বারবিকিউ’ রেস্তোরাঁ, আয় কত জানেন
গুগলের চাকরি ছেড়ে বারবিকিউ রেস্তোরাঁ দিয়েছেন এক প্রযুক্তিবিদ। ছবি: সংগৃহীত

গুগল, মাইক্রোসফট, ইউটিউব কিংবা ক্রুজের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ১৪ বছর প্রকৌশলী হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গড়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি। বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু প্রযুক্তিশিল্পের প্রতি একধরনের ‘মোহভঙ্গ’ হওয়ায় সেই লোভনীয় চাকরি ছেড়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি হালাল বারবিকিউ রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন তিনি।

চলতি বছরে তাঁর এই নতুন উদ্যোগ ‘কাফি বারবিকিউ’ প্রায় ৪০ লাখ ডলার রাজস্ব বা রেভিনিউ আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর সালাহউদ্দিন অনুভব করেন, এই শিল্পটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের চেয়ে কেবল অর্থ উপার্জনের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি সিলিকন ভ্যালির উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সান ফ্রান্সিসকো ছেড়ে টেক্সাসে আসার পর তিনি প্রথমে তাঁর আগের বেতনের অর্ধেকেরও কম সুবিধায় একটি ইসলামি দাতব্য সংস্থায় যোগ দেন। সেই কাজের পাশাপাশি অবসরে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতদের জন্য বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করতে শুরু করেন তিনি।

আমন্ত্রিত অতিথিরা সালাহউদ্দিনের রান্নার শৈলী ও স্বাদের প্রশংসা করে জানান, টেক্সাসের ঐতিহ্যবাহী বারবিকিউর চেয়ে এটি সম্পূর্ণ আলাদা।

সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তখনই আমার মাথায় আসে, টেক্সাস বারবিকিউর বাজারে এমন নতুন কোনো স্বাদের জায়গা খালি আছে কি না—যা এখনো কেউ পূরণ করেনি। সেই ভাবনা থেকেই ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমরা “কাফি বারবিকিউ” চালু করি।’

তিনি আরও জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিন তিন দিনের সমপরিমাণ খাবার প্রস্তুত করেছিলেন, কিন্তু চাহিদার কারণে প্রথম দিনই সব খাবার শেষ হয়ে যায়! ফলে উদ্বোধনের দিন রাতেই তাঁদের আবার নতুন করে রান্নার প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল।

রেস্তোরাঁটি চালু হওয়ার পর থেকে টেক্সাসসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গত বছর (২০২৫) এই রেস্তোরাঁটি প্রায় ২৩ লাখ ডলার আয় করেছিল। এ বছর তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই অভাবনীয় সাফল্যের মধ্যেও সালাহউদ্দিন বেশ সতর্ক। তিনি জানান, ব্যবসাটি লাভজনক অবস্থানে পৌঁছালেও এখনো প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থ পুরোপুরি উঠে আসেনি। রেস্তোরাঁটি চালু করতে তাঁর প্রায় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলারের মতো প্রাথমিক মূলধন বিনিয়োগ করতে হয়েছিল।

এ ছাড়া একটি সফল রেস্তোরাঁ পরিচালনার পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও অনেক বেশি। প্রতি মাসে এই রেস্তোরাঁটি চালাতে ২ লাখ ১৫ হাজার ডলারেরও বেশি খরচ হয়। ব্যয়ের হিসাবটি মূলত এই রকম:

খাদ্যসামগ্রী কেনা: ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার

শ্রমিক ও কর্মচারীদের বেতন: ৫০ হাজার ডলার

স্থান ভাড়া: ১৫ হাজার ডলার

অন্যান্য (বিজ্ঞাপন ও বিবিধ): ২৫ হাজার ডলার

ব্যবসায়িক সাফল্যের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আবদুল-কাফি বলেন, ‘ব্যবসার পরিধি ও আয় দ্রুত বাড়লেও রেস্তোরাঁটি খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমি নিজে এক ডলারও বেতন নিইনি। বর্তমানে আমি আমার আগের জমানো সঞ্চয় থেকেই নিজের ব্যক্তিগত খরচ চালাচ্ছি।’

প্রযুক্তি খাতের আরামদায়ক ও নিশ্চিত জীবন ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং চ্যালেঞ্জিং একটি খাতে সালাহউদ্দিনের এই সফল রূপান্তর ইতিমধ্যে মার্কিন গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত