Ajker Patrika

ছয় বছর ধরে বিনা বিচারে আটক উমর খালিদ-শারজিল ইমামের জামিন দিল্লি হাইকোর্টে নাকচ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ২০
ছয় বছর ধরে বিনা বিচারে আটক উমর খালিদ-শারজিল ইমামের জামিন দিল্লি হাইকোর্টে নাকচ
উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র আন্দোলনের কর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় গতকাল বুধবার বিচারপতি প্রতিভা এম. সিং ও বিচারপতি দীনেশ ভাটের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই দুই ছাত্র নেতা ৬ বছরে ধরে বিনা বিচারে বন্দী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের খবরে বলা হয়েছে—আদালত বলেছেন, গুলফিশা ফাতিমার মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছে—তা পরিবর্তন করার এখতিয়ার হাইকোর্টের নেই। বিচারিক শৃঙ্খলার কারণে সুপ্রিম কোর্টের ওই সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘এই আদালত বিচারিক শৃঙ্খলার কাছে বাধ্য।’

এর আগে, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করেছিল। একই আদেশে গুলফিশা ফাতিমা, মীরান হায়দারসহ কয়েকজন সহ-অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হয়।

গুলফিশা ফাতিমার মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম অন্য অভিযুক্তদের তুলনায় ‘আলাদা অবস্থানে’ রয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, কথিত পুরো ষড়যন্ত্রের ‘আদর্শগত চালিকাশক্তি’ হিসেবে তাদের ভূমিকা ছিল।

সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশনার পরও উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। আবেদনে তাঁরা তিনটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

প্রথমত, তারা দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্ট গুলফিশা ফাতিমার মামলার রায় পুনর্বিবেচনা করেছে এবং ওই রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্বিতীয়ত, অন্য অভিযুক্ত তসলিম আহমেদ ও খালিদ সাইফিকে শুধু বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, গুলফিশা ফাতিমার মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন জামিনের আবেদন করার সময় আরও ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে।

তবে দিল্লি হাইকোর্ট বলেছে, তসলিম আহমেদ ও খালিদ সাইফির বিরুদ্ধে যে ধরনের ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে, তা শারজিল ইমাম ও উমর খালিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে এক নয়। ফলে ওই দুই সহ-অভিযুক্তকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের আদেশের ভিত্তিতে ইমাম ও খালিদ একই ধরনের সুবিধা বা ‘সমতা’ দাবি করতে পারেন না।

আদালত আরও বলেছে, গুলফিশা ফাতিমার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করেছিল। এসব শর্তের মধ্যে ছিল সুরক্ষিত সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়া অথবা সুপ্রিম কোর্টের আদেশের তারিখ থেকে এক বছর পূর্ণ হওয়া, যেটি আগে ঘটবে সেটি পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

হাইকোর্টের বেঞ্চ বলেছে, ‘উপরের আলোচনা এবং মামলার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, বিশেষ করে গুলফিশা মামলায় আপিলকারীদের ক্ষেত্রে আরোপ করা শর্তগুলোর বিষয়টি সামনে রেখে, এই আদালত ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্তে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাচ্ছে না। সুতরাং, আপিলগুলো খারিজ করা হলো।’

শারজিল ইমাম তার দ্বিতীয় নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। উমর খালিদ চ্যালেঞ্জ করেছিলেন তার তৃতীয় জামিনের আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত। এই মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম দুজনই ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন, কিন্তু এখনও তাদের বিচার শুরু হয়নি।

উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উমর খালিদকে ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মামলায় ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) আরও ১৮টি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

শারজিল ইমামকে ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি বিহারের জাহানাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএবিরোধী আন্দোলনের সময় দেওয়া বক্তৃতার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২০ সালের আগস্টে তাকে ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর দিল্লির একটি আদালত শারজিল ইমামকে তাঁর এক কাজিনের বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য সাত দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। অন্যদিকে, উমর খালিদকে সর্বশেষ গত ২২ মে দিল্লি হাইকোর্ট তিন দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর মায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ওই জামিন পেয়েছিলেন।

এর আগে ১৯ মে একটি ট্রায়াল কোর্ট উমর খালিদের জামিনের আবেদন খারিজ করে। তিনি তাঁর চাচার মৃত্যুর পর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ২ জুন মায়ের অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে তাঁর দেখাশোনার জন্য সাময়িক মুক্তি চেয়েছিলেন।

উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম দুজনই গ্রেপ্তারের সময় ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯-২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত