Ajker Patrika

রুফটপ সোলারে ৬ বিলিয়ন ডলার ঢালছে থাইল্যান্ড, এক বছরে উৎপাদন হবে ৫০০০ মেগাওয়াট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
রুফটপ সোলারে ৬ বিলিয়ন ডলার ঢালছে থাইল্যান্ড, এক বছরে উৎপাদন হবে ৫০০০ মেগাওয়াট
জ্বালানি সমস্যা সমাধানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে করণীয় হতে পারে বিল্ডিংয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসানো। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ–সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে আগামী এক বছরের মধ্যে ১০ লাখ পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসাতে সহায়তা করবে থাইল্যান্ড। এর মাধ্যমে মোট ৫ গিগাওয়াট (৫ হাজার মেগাওয়াট) সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত প্রমফান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হবে ২০০ বিলিয়ন বাথ বা ৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি রূপান্তর জরুরি তহবিল থেকে। এশিয়ার বড় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডই সর্বশেষ দেশ, যারা বাড়ির ছাদের সৌরবিদ্যুৎকে জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। এর আগে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুন পর্যন্ত ছয় মাসে থাইল্যান্ডের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। অন্যদিকে, গ্যাস থেকে এসেছে ৬০ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ। জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস বা আইইইএফএ’র তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি আমদানি করতে হয় থাইল্যান্ডকে।

পণ্যবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, থাইল্যান্ড তার মোট এলএনজির অর্ধেকই স্পট মার্কেট থেকে কেনে। ফলে এলএনজির দামের বড় ধরনের ওঠানামার ঝুঁকিতে দেশটি তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার পর এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

আকানাত রয়টার্সকে বলেন, জরুরি তহবিল ব্যবহার করে জ্বালানি রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, তার প্রভাব থাইল্যান্ডকে ভবিষ্যতেও বারবার মোকাবিলা করতে হবে।

উচ্চাভিলাষী সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যে সরকারি প্রণোদনা

৫ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এই লক্ষ্য থাইল্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ২৫ বছরে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের রূপরেখা নির্ধারণকারী এই পরিকল্পনা আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী আকানাত।

এই লক্ষ্য অর্জন করা গেলে থাইল্যান্ডের ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি হবে। জ্বালানি খাতের মডেলিং প্রতিষ্ঠান ট্রানজিশনজিরোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ থাইল্যান্ডে ছোট আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল আনুমানিক ৩ দশমিক ৬ গিগাওয়াট। এর মধ্যে আবাসিক বাড়ির ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ছিল ১ দশমিক ৪ গিগাওয়াট।

ট্রানজিশনজিরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে থাইল্যান্ড ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। কিন্তু সরকারি প্রণোদনা কমে যাওয়ার পর দেশটিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের গতি কমে যায়। পরে গত দশকের শেষ দিকে ভিয়েতনাম থাইল্যান্ডকে ছাড়িয়ে যায়।

থাইল্যান্ড সরকার প্রতিটি পরিবারকে বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানোর জন্য ৫০ হাজার বাথ বা প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর পাশাপাশি প্যানেল স্থাপনের জন্য ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে বলে গত মাসে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী একনিতি নিথিতানাপ্রাপাস। এর পাশাপাশি, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে থাইল্যান্ড সরকার দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের নতুন উৎস খুঁজছে। দেশটি তার আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনতে নতুন দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় চুক্তি করার চেষ্টাও করছে বলে জানিয়েছেন আকানাত।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পিটিটির অনুসন্ধান ও উৎপাদন শাখা পিটিটিইপি আন্দামান সাগর ও মিয়ানমারে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য বাজেট বরাদ্দ করেছে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত