Ajker Patrika

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: ৮ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ, আটকা পৌনে তিন লাখ যাত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৪০
ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: ৮ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ, আটকা পৌনে তিন লাখ যাত্রী
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ২ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে এবং আটকা পড়েছেন প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী। ছবি: এএফপি

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির আকাশ যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত ছাই ও লাভার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে, যার ফলে আটকে পড়েছেন প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার বিমানযাত্রী।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, জাকার্তা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরিতে গত শুক্রবার রাত থেকে হঠাৎই ভূকম্পন ও তীব্র বিস্ফোরণ শুরু হয়। সপ্তাহান্তে অগ্ন্যুৎপাত আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সোয়েকার্নো-হাত্তা এবং সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হালিম পারদানাকুসুমার পুনরায় চালু করার সময় আবারও পিছিয়ে আজ সন্ধ্যা ও মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, এখনো বিমানবন্দরগুলো চালু করা হয়নি।

আকাশজুড়ে ১৫ হাজার মিটার ছাইয়ের আস্তরণ

দেশটির আবহাওয়া ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও ধোঁয়া জাভা দ্বীপের আকাশে ছয় হাজার মিটার (২০,০০০ ফুট) ও সুমাত্রা দ্বীপের দিকে প্রায় ১৫ হাজার মিটার (৫০,০০০ ফুট) উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে জাকার্তা, বানতেন ও লামপুং প্রদেশের আকাশসীমায় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমেছে।

পেন্টাগন ও বিমান বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের মতে, আকাশে ভাসমান এই ধরনের ভলকানিক অ্যাশ বিমানের শক্তিশালী জেট ইঞ্জিনের মেকানিজম বিকল করে দিতে পারে এবং মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে হঠাৎ বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। পাশাপাশি নির্ধারিত টিকিট রিফান্ড ও নতুন শিডিউল জানতে এসে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তাঁরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকেরা জানান, ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়ার পরও তাঁরা হোটেল বা গন্তব্যে ফিরতে পারছেন না।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে ঠিক কবে নাগাদ আকাশসীমা পুরোপুরি নিরাপদ হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে নিকটবর্তী ট্রেন রুট ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোকে বিকল্প অবতরণক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বিপৎসীমা ৩ কিলোমিটার, সুনামি আতঙ্ক নেই

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) ও স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ সুন্দা প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতকবলিত এলাকা থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যবর্তী এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে সব প্রকার যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সুনামির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থা।

উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে মূল ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের পর জন্ম নেওয়া ‘আনাক ক্রাকাতাউ’ (ক্রাকাতাউয়ের সন্তান বলা হয়) এর আগেও ২০১৮ সালে ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। সেবার আগ্নেয়গিরির পর সৃষ্ট সুনামিতে ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। তবে এবার যাতে কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটে, সে জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত