Ajker Patrika

বিমা করার ২৫ দিনের মাথায় স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী পাচ্ছেন ১৪ লাখ রুপি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ মে ২০২৬, ১৬: ০৩
বিমা করার ২৫ দিনের মাথায় স্বামীর মৃত্যু, স্ত্রী পাচ্ছেন ১৪ লাখ রুপি
পাঞ্জাব–হরিয়ানা হাইকোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট সম্প্রতি এক ব্যক্তির বিধবা স্ত্রীর পক্ষে দেওয়া স্থায়ী লোক আদালতের (পিএলএ) রায় বহাল রেখেছেন। ওই ব্যক্তি জীবনবিমা পলিসি নেওয়ার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় মারা যান। আর পলিসিটিতে মৃত্যুকালীন সুবিধা হিসেবে ১৪ লাখ ২২ হাজার রুপি নির্ধারিত ছিল। ফলে এখন স্ত্রীকে পুরো অর্থই দিতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, বিচারপতি জগমোহন বানসাল পর্যবেক্ষণে বলেন, ভারতী এএক্সএ লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড অভিযোগ করেছিল, পলিসিধারী ব্যক্তি বিমা নেওয়ার সময় আগে থেকেই ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার তথ্য গোপন করেছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি সেই অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

হাইকোর্ট ১৯ মে দেওয়া আদেশে বলেন, ‘স্থায়ী লোক আদালত এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, বিমা কোম্পানি প্রমাণ করতে পারেনি যে বিমা করা ব্যক্তি ক্যানসারে ভুগছিলেন। এই পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ করা আদেশে হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।’ বিমা কোম্পানির করা আবেদনের শুনানির সময় হাইকোর্ট দেখতে পান, ওই ব্যক্তি ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল মারা যান। বিমা কোম্পানি স্থায়ী লোক আদালতের ২০২৫ সালের ২ এপ্রিলের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেছিল।

আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, নারীর স্বামী সমুন্দর সিং ২০১৮ সালের ২৩ মার্চ ভারতী কোম্পানি জীবনবিমা পলিসি গ্রহণ করেন। দাবি করা হয়, বিমার অঙ্ক ছিল ৭ লাখ ১১ হাজার রুপি এবং মৃত্যুকালীন সুবিধা ছিল ১৪ লাখ ২২ হাজার রুপি। তিনি প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬৩ হাজার ১৭২ রুপি পরিশোধ করেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল আকস্মিক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

পলিসি ইস্যুর মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে তাঁর মৃত্যু ঘটে। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ এক চিঠির মাধ্যমে বিমা কোম্পানি দাবি প্রত্যাখ্যান করে। কোম্পানির অভিযোগ ছিল, বিমা করা ব্যক্তি স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমায় আক্রান্ত ছিলেন। আরও অভিযোগ করা হয়, তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকেই ওই রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন এবং আগে থেকে থাকা গুরুতর রোগের তথ্য গোপন করেছিলেন।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী স্থায়ী লোক আদালতের দ্বারস্থ হন। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিলের আদেশে লোক আদালত তাঁর দাবি মঞ্জুর করেন। হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, বিমা কোম্পানি কেবল তথ্য গোপনের অভিযোগকে ভিত্তি করেই লোক আদালতের আদেশ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নির্ভরযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে বিমা কোম্পানি তাদের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আদালত আরও উল্লেখ করেন, স্থায়ী লোক আদালত বিমা কোম্পানির তদন্ত প্রতিবেদন ও দাখিল করা চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে বিভিন্ন ত্রুটি খুঁজে পেয়েছিলেন।

হাইকোর্ট আরও বলেন, স্থায়ী লোক আদালত তাঁদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছিলেন, চিকিৎসা প্রতিবেদনের ফটোকপিতে কোনো চিকিৎসকের স্বাক্ষর ছিল না। সেটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও যথাযথভাবে সত্যায়ন করেনি। পাশাপাশি সিআর নম্বর নিয়েও অসংগতি ছিল। আদালত আরও উল্লেখ করেন, কথিত রোগ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণের মধ্যে কোনো সম্পর্ক বিমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। নথিপত্র অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

স্থায়ী লোক আদালতের রায়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্যগত বা আইনি ত্রুটি না পাওয়ায় পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিমা কোম্পানির আবেদন খারিজ করে দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

রাতভর উত্তাল চট্টগ্রাম: পুলিশের পোশাক পরিয়ে সরানো হয় ধর্ষণে অভিযুক্তকে, রাখা হয়েছে কোথায়?

বিপিসির প্রধান কার্যালয়: ৫০ কোটিতে ভবন তৈরির পর কার্যালয় যাচ্ছে ঢাকায়

তথ্য গোপন করে ১৬ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদে বহাল তিনি

পল্লবীর সেই শিশুর বাসায় প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে উদ্ধারে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশ, টিয়ার শেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত