
ইন্দোনেশিয়ায় ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ছে। এসব কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও প্রচারের জন্য ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থান, স্থানীয় সৃজনশীল প্রতিভা এবং বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশটিতে ইসরায়েলি কোম্পানির এই উপস্থিতি নিয়ে এখন আরও বেশি নজরদারির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি চশমা কোম্পানি সুইফটঅপটিক্সের (SwiftOptics) একটি উদাহরণ। কোম্পানিটি নিজেদের ‘এক্সট্রিম আইওয়্যার’ ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচয় দেয়। ইন্দোনেশিয়ায় কোম্পানিটি প্রচারণামূলক কনটেন্ট তৈরি করেছে। এর মধ্যে নিয়াসে ধারণ করা একটি ভিডিও রয়েছে, যেখানে ইন্দোনেশীয় নির্মাতা ফ্র্যাঙ্ক ভিডিওগ্রাফি (@frank_videography) কাজ করেছেন। কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়েহোনাতান দাদোনও নিয়াস, লম্বক ও বালির বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেনি। দেশটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে। একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া দখলদারত্ব ও ঔপনিবেশিকতার বিরোধিতা করে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কয়েক দশকের আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছে।
তবে দেশটিতে ইসরায়েলি কোম্পানির বাণিজ্যিক উপস্থিতি সেই অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে গাজায় চলমান পরিস্থিতির কারণে। ইসরায়েলের হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে বেসামরিক অবকাঠামো। এই প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়ায় ইসরায়েলি কোম্পানির বাড়তে থাকা কার্যক্রমকে শুধু সাধারণ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থাতেও এমন কিছু সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশটির ইসরায়েল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ দুর্বল হতে পারে।
ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় ইসরায়েলি নাগরিকেরা অন্যান্য অনেক দেশের নাগরিকদের মতো সাধারণ ভিসাব্যবস্থার আওতায় দেশটিতে প্রবেশ করতে পারেন না। তাদের ‘কলিং ভিসা’ নামে আরও কঠোর একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ইন্দোনেশিয়া যেসব দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
তবে ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য এই ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার একটি পথ রয়েছে। ইসরায়েলি নাগরিকেরা পর্তুগাল, জার্মানি বা গ্রিসের মতো দেশের পাসপোর্টের অধিকারী হলে সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেন। ফলে ইন্দোনেশিয়ার অভিবাসন রেকর্ডে তাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব সব সময় দেখা নাও যেতে পারে।
এর আগে এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছিল, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকার কথা বলা দুই ব্যক্তি ইউরোপীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে বালিতে একটি বিলাসবহুল ভিলা ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইন্দোনেশিয়ার রেকর্ডে তাদের ইসরায়েলি পরিচয়ের তথ্য ছিল না।
এই ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বৃহত্তর সমস্যার দিক তুলে ধরে। বিদেশি পাসপোর্ট, ভিন্ন করপোরেট কাঠামো এবং স্থানীয় অংশীদারত্বের মাধ্যমে নাগরিকত্ব ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে আলাদা করা হলে ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান বিধিনিষেধ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ইসরায়েলি কোম্পানির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিও একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। কোনো ইসরায়েলি কোম্পানির বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি না থাকলেও এসব কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে বাস্তবিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
কোম্পানি বাজারে প্রবেশ করে, স্থানীয় কর্মী নিয়োগ করে, ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন স্থানে প্রচারণামূলক ভিডিও তৈরি করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাদের পণ্য ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত দেখা যেতে থাকে। এভাবে সময়ের সঙ্গে ইসরায়েলি ব্যবসা ইন্দোনেশিয়ার মানুষের কাছে পরিচিত ও স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে ইন্দোনেশিয়া সরকারের ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিমাণ ও ধরন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন উঠছে।
এর মধ্যে বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি পাসপোর্ট, করপোরেট কাঠামো, স্থানীয় অংশীদারত্ব বা অন্য কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যমান বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
তবে প্রশ্নটি এমন নয় যে ইন্দোনেশিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিটি ইসরায়েলি কোম্পানি দেশটির আইন লঙ্ঘন করেছে কি না। মূল প্রশ্ন হলো, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বৃহত্তর একটি বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া ইন্দোনেশিয়ায় গড়ে উঠছে কি না এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতির ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে।
ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের কারণে ইন্দোনেশিয়া যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ প্রত্যাখ্যান করে থাকে, তাহলে সেই অবস্থান শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইসরায়েলি বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও সেই নীতির প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন বলে মত উঠছে।
ইন্দোনেশিয়ার জনগণের জন্য দেশটিতে কোন বিদেশি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেসব কোম্পানি কোন দেশের এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে তারা কীভাবে ইন্দোনেশিয়ার ভূখণ্ড ও সম্পদ ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়াস, বালি বা লম্বকের মতো ইন্দোনেশিয়ার স্থানগুলো কোনো ইসরায়েলি কোম্পানি বাণিজ্যিক প্রচারে ব্যবহার করলে কোম্পানিটি শুধু ইন্দোনেশিয়ার বাজারে অংশ নিচ্ছে না, দেশটির প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদও তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করছে।
ইন্দোনেশিয়ায় স্থানীয় কোম্পানি, সৃজনশীল প্রতিভা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সুযোগের অভাব নেই। দেশটির পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সমুদ্রসৈকতের প্রচার বা সৃজনশীল খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার জন্য ইসরায়েলি ব্যবসার ওপর নির্ভর করার প্রয়োজনও নেই।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান রয়েছে। দেশটি কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান করছে। গাজায় ফিলিস্তিনিরা যখন ব্যাপক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং অবকাঠামো ধ্বংসের মুখে রয়েছে, তখন ইন্দোনেশিয়ায় ইসরায়েলি ব্যবসার উপস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নটি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ইসরায়েলি কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রনীতি, বিদ্যমান বিধিনিষেধ এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে দেশটির দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল ঠেকাতে ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। তাদের বাহিনীর তালিকায় এমন বিপুলসংখ্যক সেনার নাম ছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
১৬ মিনিট আগে
ইরানের হেনগাম দ্বীপ ও কেশম দ্বীপের শিব দেরাজ উপকূলের কাছে এক ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। এতে একজন নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আয়োজিত গতকাল শনিবার রাতের নৈশভোজে ব্রিকস জোটের কয়েকজন নেতা অংশ নেননি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ।
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলে আটক বাংলাদেশি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাভাষী হিন্দুদের জন্য একটি আলাদা আবাসভূমি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করায়...
২ ঘণ্টা আগে