Ajker Patrika

এপস্টেইন ফাইলে সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আপত্তিকর ছবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এপস্টেইন ফাইলে সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর আপত্তিকর ছবি
ছবিতে অ্যান্ড্রুকে জিন্স ও সাদা পোলো শার্ট পরা অবস্থায় এক নারীর ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখা গেছে। ছবি: সংগৃহীত

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক নথিতে এমন কিছু আলোকচিত্র পাওয়া গেছে, যেখানে অ্যান্ড্রুকে এক অজ্ঞাত নারীর ওপর হামাগুড়ি দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া এপস্টেইন কর্তৃক অ্যান্ড্রুকে এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ই-মেইলও ফাঁস হয়েছে।

নতুন প্রকাশিত নথিতে অ্যান্ড্রুর অন্তত তিনটি ছবি পাওয়া গেছে, যা রাজপরিবারের জন্য চরম অবমাননাকর বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবিতে অ্যান্ড্রুকে জিন্স ও সাদা পোলো শার্ট পরা অবস্থায় এক নারীর ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখা গেছে। একটি ছবিতে তিনি সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছেন এবং অন্যটিতে ওই নারীর পেটে হাত দিয়ে আছেন। তবে ছবির ওই নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এ ছাড়া ২০১০ সালের আগস্টের এক ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টেইন অ্যান্ড্রুকে ‘দ্য ডিউক’ সম্বোধন করে এক ২৬ বছর বয়সী ‘সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী’ রুশ নারীর সঙ্গে নৈশভোজের প্রস্তাব দিচ্ছেন। জবাবে অ্যান্ড্রু সেই নারীর সঙ্গে দেখা করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এপস্টেইন লন্ডনে থাকাকালে অ্যান্ড্রুকে ই-মেইল করেন যে তাঁদের ‘ব্যক্তিগত সময়’ প্রয়োজন। জবাবে অ্যান্ড্রু তাঁকে বাকিংহাম প্যালেসে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান এবং সেখানে ‘প্রচুর গোপনীয়তা’ বজায় থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে থেকে জানা গেছে, অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা ভার্জিনিয়া জিওফ্রে গত বছরের এপ্রিল মাসে অস্ট্রেলিয়ায় নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অ্যান্ড্রু সব সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন, যদিও ২০২২ সালে তিনি জিওফ্রের সঙ্গে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে আদালতের বাইরে রফাদফা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর (প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রু) ইতিপূর্বে তাঁর সকল রাজকীয় সামরিক পদবি ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা হারিয়েছেন। গত বছর রাজা চার্লস তাঁকে রাজকীয় উপাধি ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। বর্তমান এই নথিগুলো তাঁর সম্মান পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে আরও বড় ধাক্কা দিল।

যদিও এই নথিতে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে নতুন কোনো ফৌজদারি অপরাধের সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, তবে এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডিত অপরাধীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ও গোপন অভিসারের চিত্র ব্রিটিশ রাজপরিবারকে আবারও বড় ধরনের অস্বস্তির মুখে ফেলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত