Ajker Patrika

ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর বিক্ষোভে উসকানি, পাকিস্তানে ৮ সাংবাদিকের যাবজ্জীবন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ২০
গত বছরের জানুয়ারিতে সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অতিরিক্ত সেন্সরশিপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন কিছু গণমাধ্যমকর্মী। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে
গত বছরের জানুয়ারিতে সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অতিরিক্ত সেন্সরশিপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন কিছু গণমাধ্যমকর্মী। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

পাকিস্তানের একটি বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) দেশটির আটজন সুপরিচিত সাংবাদিক, ইউটিউবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্লেষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থনে অনলাইন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তাঁদের অনুপস্থিতিতে এই দণ্ড দেওয়া হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৯ মে ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের জেরে হওয়া মামলায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। ওই দিন ইমরান খানের সমর্থকেরা বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর থেকে পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী ইমরান খানের দল এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, দণ্ডিত ব্যক্তিদের অধিকাংশ বর্তমানে পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন। দণ্ডিত আটজনের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ইউটিউবার আদিল রাজা এবং সৈয়দ আকবর হোসেন; প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহীন সেহবাই, সাবির শাকির, ওয়াজাহাত সাঈদ খান ও মঈদ পিরজাদা; রাজনৈতিক বিশ্লেষক হায়দার রাজা মেহদি এবং আরও দুজন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকটিভিস্ট।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী ‘সন্ত্রাসবাদের আওতাভুক্ত’। তাঁদের অনলাইনে প্রচারিত কনটেন্ট বা বক্তব্য সমাজে ‘ভীতি ও অস্থিরতা’ সৃষ্টি করেছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত আসামিদের ওপর অতিরিক্ত জেল ও জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও সাজার কথা বলা হয়েছে। তবে এ রায় কার্যকর হওয়ার জন্য ইসলামাবাদ হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

এদিকে, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই কঠোর সাজার কড়া সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)। ২০২৩ সালে এ তদন্ত শুরুর সময়ই সংস্থাটি বলেছিল, এটি সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিশোধ। সিপিজের এশিয়া প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর বেহ লি ই এক বিবৃতিতে বলেছেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত বন্ধ করতে হবে এবং গণমাধ্যমের ওপর নিরন্তর ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে।

২০২৪ সালে সাধারণ নির্বাচনের পর পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা স্তিমিত হলেও ইমরান খানের মুক্তি ও তাঁর দলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো নিয়ে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সংসদীয় অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন ইমরান খান। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। বর্তমানে ইমরান খান ১৯ কোটি পাউন্ডের দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা খাটছেন। তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিও একই মামলায় সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত