
মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ইকুয়েডরের নিরাপত্তা বাহিনী সিরিজ অভিযানে নেমেছে। সম্প্রতি এ রকমই একটি অভিযানে তিন সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নিহত ও আরও বহু সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে এবার কেবল গোয়েন্দা তথ্য বা প্রশিক্ষণ নয়, এই অভিযানে সরাসরি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত মার্কিন সেনাদের একটি দলও ইকুয়েডরের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নিয়েছে।
ইকুয়েডর সরকারের ঘোষিত এই যৌথ অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসনের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণ লাতিন আমেরিকার মাদকবিরোধী যুদ্ধে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষত, অপরাধী দলগুলোকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ বা মাদক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার পর এই উদ্যোগ আরও জোরদার হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গুয়ায়াকিল শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ৫০ জন মার্কিন সামরিক কর্মী ও ইকুয়েডরের ৩০০ জনের বেশি জাতীয় পুলিশ সদস্য যৌথভাবে অভিযান চালান। ইকুয়েডরের কর্মকর্তাদের মতে, মেক্সিকোর শক্তিশালী ‘জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি শক্তিশালী মাদক নেটওয়ার্ককে ধরতে এই অভিযান চালানো হয়।
ইকুয়েডরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পোস্ট করা ছবিতে গুয়ায়াকিলের একটি অভিজাত এলাকার বাসভবনে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি কাঁধে মার্কিন পতাকার ব্যাজ পরা মাস্ক পরিহিত মার্কিন সেনাদের দেখতে পাওয়া যায়। এই অভিযানে ৩০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
এর এক দিন আগে, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন বাহিনীর তদারককারী সংস্থা ‘ইউএস সাউদার্ন কমান্ড’-এর সহায়তায় ইকুয়েডরের সেনারা মানাবি উপকূলীয় প্রদেশে ‘চার্লি’ ছদ্মনামের এক স্থানীয় মাদক কারবারি ও তাঁর দুই নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করে। কর্মকর্তারা জানান, চার্লি ইকুয়েডরের কুখ্যাত ‘চোনোরোস’ গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন এবং মেক্সিকোর জালিস্কো কার্টেলের সঙ্গেও তাঁর সরাসরি যোগাযোগ ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ইকুয়েডরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিয়ান কার্লো লোফ্রেডো বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, হয় কারাগার নয়তো জাহান্নাম; আর এই ব্যক্তি কারাগারে পৌঁছাতে পারেনি।’ ভিডিওর সঙ্গে রক্তে ভেজা রাস্তা ও গুলিবিদ্ধ ট্রাকের পাশে তিনটি মরদেহের ছবি প্রকাশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইকুয়েডরসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশকে মাদকবিরোধী যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করলেও মাঠপর্যায়ে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর অংশ নেওয়ার ঘটনা বিরল। ওয়াশিংটন অফিস অন লাতিন আমেরিকার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যাডাম আইজ্যাকসন বলেন, ‘ইকুয়েডরে আমরা যা দেখছি, তা স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও দেখা যায়নি। এটি যদি এই অঞ্চলে নতুন মডেল হিসেবে অনুসরণ করা হয়, তবে আমরা মার্কিন সেনাদের সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে দেখব।’
ইউএস সাউদার্ন কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ইকুয়েডরের নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযান আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দেশটির দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ দেয়। তবে অপারেশনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে সংস্থাটি অস্বীকার করেছে।
প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার অধীনে ইকুয়েডর ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণপন্থী লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর জোটে মূল অংশীদার হয়ে উঠেছে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম কোকেন উৎপাদক দেশ কলম্বিয়া ও পেরুর মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় ইকুয়েডর বর্তমানে কোকেন পাচারের অন্যতম প্রধান রুট এবং ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে, যার ফলে দেশটিতে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের হার মারাত্মকভাবে বেড়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে নোবোয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোনো একক রাষ্ট্র একা এমন শত্রুকে পরাস্ত করতে পারে না, যার কোনো সীমান্ত নেই। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত অপরাধকে শুধু পুলিশের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু আজ আমরা জানি, এটি তার চেয়ে বড় সংকট।’
চলতি বছরের মার্চে কলম্বিয়া সীমান্তে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের ওপর বোমা হামলায় ইকুয়েডরকে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া গত এক মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন সন্দেহে ইকুয়েডরের বেশ কিছু মাছ ধরার ট্রলার ধ্বংস করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইকুয়েডরের রাজধানী কিটো সফরের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এলিট ফোর্সের সদস্যরা এখন মাদকবিরোধী যুদ্ধে ইকুয়েডরের বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই আয়োজনকে ঘিরে নানান আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি দল বিজেপি এটিকে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসা করলেও, বিরোধীরা এর সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন...
৪১ মিনিট আগে
পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে একটি যৌথ নিরাপত্তাচৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে...
২ ঘণ্টা আগে
১৯৮৭ সালের একদিন। পূর্ব লন্ডনের স্পিটালফিল্ডস এলাকা ঘুরে দেখছিলেন বর্তমান ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস। ১৯৪৫ সালের পর থেকে সেখানে বসতি গেড়েছিলেন অনেক বাংলাদেশি। সে সময় তাঁদের বসবাস ও কাজের পরিবেশ বিস্মিত করেছিল তৃতীয় চার্লসকে। তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস (যুবরাজ) বিস্ময় বর্ণনা করেন এভাবে, ‘তারা যে
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতে ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংসদ ও রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী অন্তত ১১১ জন আইনপ্রণেতা রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করেছেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) এবং ‘ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ’-এর যৌথ বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।
৫ ঘণ্টা আগে