
লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) অতীত বেশ নোংরা। বর্তমানে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সংস্থাটির পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়। তবে ইতিহাসই ইঙ্গিত দেয়, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম কেমন ছিল।
১৮০০ সালের শেষ দিক থেকে ২০ শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্য আমেরিকায় একের পর এক সামরিক হস্তক্ষেপ চালায়—যা ‘ব্যানানা যুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধগুলোর মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে ব্যবসা করা মার্কিন করপোরেট কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষা।
১৯৩৪ সালে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডিলানো রুজভেল্টের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্র ‘গুড নেইবার পলিসি বা ভালো প্রতিবেশী নীতি’ গ্রহণ করে। এই নীতির আওতায় দেশটি লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোতে আর আগ্রাসন চালাবে না বা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেয়।
তবে এই ‘ভালো প্রতিবেশী’ ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্নায়ুযুদ্ধের সময় বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে নির্বাচিত বামপন্থী সরকারগুলোকে উৎখাতের জন্য নানা গোপন তৎপরতায় অর্থ ও সহায়তা দেয়।
১৯৫০-এর দশক: গুয়াতেমালা
১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জ্যাকব আরবেনজকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ারের আমলে সিআইএর সহযোগিতায় স্থানীয় যোদ্ধারা উৎখাত করে। আরবেনজ মার্কিন মালিকানাধীন এক কোম্পানিকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে সমাজতন্ত্রের আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
সিআইএর ‘অপারেশন পিবি সাকসেস’-এর অধীনে সামরিক কর্মকর্তা কার্লোস কাস্তিয়ো আরমাসের নেতৃত্বে প্রশিক্ষিত বাহিনী তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর ১৯৬০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলে।
১৯৬০-এর দশক: কিউবা
১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরশাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তাকে উৎখাত করে কিউবায় কমিউনিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। আইজেনহাওয়ারের শাসনামলে সিআইএ কিউবান নির্বাসিতদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাস্ত্রোকে উৎখাতের পরিকল্পনা করে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর জন এফ কেনেডিকে পরিকল্পনাটি জানানো হয়।
কিন্তু কাস্ত্রোর গোয়েন্দারা আগেই পরিকল্পনাটি জেনে যায়। ১৯৬১ সালে কেনেডি ‘বে অব পিগস’ অভিযানে অনুমোদন দেন। তবে কিউবান সেনাবাহিনীর হাতে অভিযানটি ব্যর্থ হয়।
১৯৬০-এর দশক: ব্রাজিল
১৯৬১ সালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হন জোয়াও গুলার্ত; যিনি সমাজ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের নীতি নেন। তিনি কিউবা ও অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইটিটি কোম্পানির একটি শাখা জাতীয়করণ করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় সিআইএ প্রো-আমেরিকান রাজনীতিক ও দলগুলোকে অর্থায়ন করে এবং গুলার্তের নেতৃত্বকে দুর্বল করে। ১৯৬৪ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে গুলার্ত ক্ষমতাচ্যুত হন এবং ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৬০-এর দশক: ইকুয়েডর
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর ১৯৫০-এর দশকে ইকুয়েডরে কিছুটা স্থিতি ফিরলেও ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন হয়। প্রেসিডেন্ট হোসে ভেলাসকো ইবারা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্লোস হুলিও আরোসেমেনা সোভিয়েত ব্লকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শুরুর উদ্যোগ নেন।
সিআইএ মার্কিন শ্রমিক সংগঠনগুলোর সহায়তা নিয়ে দেশটিতে অ্যান্টি-কমিউনিস্ট প্রচারণা চালায়। এক সিআইএ কর্মকর্তা পরে বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইকুয়েডরের প্রায় সব প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই কিনে ফেলেছিলাম।’ ১৯৬৩ সালে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটিয়ে আরোসেমেনাকে সরিয়ে দেয়, কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করে এবং কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশক: বলিভিয়া
১৯৬৩-৬৪ সালে সিআইএ গোপনে বলিভিয়ার রাজনীতিতে অর্থ ঢালে এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নেতাদের পক্ষে কাজ করে।
১৯৬৪ সালে জেনারেল রেনে বারিয়েন্তোস নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ভিক্টর পাজ এস্তেনসোরোকে উৎখাত করেন। পরে ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় হুগো বানজার সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট হন। ওয়াশিংটন তাঁর সরকারকে অর্থ সহায়তা দেয়।
১৯৭০-এর দশক: চিলি
চিলির নির্বাচিত বামপন্থী প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দেকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সিআইএ অর্থায়ন করে। আলেন্দে মার্কিন মালিকানাধীন তামার কোম্পানিগুলো জাতীয়করণের পরিকল্পনা করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে জেনারেল অগাস্টো পিনোশে অভ্যুত্থান ঘটান। আলেন্দে বন্দী হওয়ার আগেই আত্মহত্যা করেন। পরবর্তী ১৭ বছর চিলি ছিল পিনোশের নেতৃত্বে এক নির্মম মার্কিন-সমর্থিত একনায়কতন্ত্রের অধীনে।
১৯৭৫: অপারেশন কনডোর
প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের আমলে সিআইএ লাতিন আমেরিকার ছয়টি দেশের সামরিক একনায়কতন্ত্রকে সহায়তা করে ‘অপারেশন কনডোর’ নামে এক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। দেশগুলো হলো—আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, ব্রাজিল, চিলে, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে। উদ্দেশ্য ছিল বামপন্থী কর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের নির্মূল করা। বন্দী বিনিময়, গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার এবং নির্যাতনের কৌশল আদান-প্রদান করা হতো। এতে অন্তত ৯৭ জনকে হত্যা করা হয়।
১৯৮০-এর দশক: এল সালভাদর
১৯৮১ সালে মার্কিন প্রশিক্ষিত এলিট ‘আতলাকাতল ব্যাটালিয়ন’ এল সালভাদরের এল মোজোতে গ্রামে প্রায় এক হাজার সাধারণ মানুষকে হত্যা করে—যার মধ্যে নারী ও শিশুরাও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এল সালভাদরের গৃহযুদ্ধে (১৯৮০— ৯২) সরকারকে বড় আকারে সামরিক সহায়তা দেয়, বামপন্থী বিদ্রোহ দমন করতে।
১৯৮০-এর দশক: গ্রেনাডা
গ্রেনাডায় ১৯৭৯ সালে মউরিস বিশপ মার্ক্সবাদী নীতি গ্রহণ করে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালে তাঁর দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে। কিউবান প্রভাব ঠেকাতে তারা গ্রেনাডায় আক্রমণ চালায়, কিউবানদের আটক করে এবং দেশটির ভবিষ্যৎকে ওয়াশিংটনের পক্ষে নিয়ে যায়।
১৯৮৯: পানামা
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন জাস্ট কজ’ নামে পানামায় হামলা চালায়।
তারা প্রেসিডেন্ট মানুয়েল নোরিয়েগাকে মাদক পাচারের অভিযোগে সরানোর যুক্তি দেয়। তবে এতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে, যা যুক্তরাষ্ট্র পরে ছোট করে দেখায়।
এই দীর্ঘ ইতিহাস প্রমাণ করে যে লাতিন আমেরিকায় সিআইএর ভূমিকাকে ‘গণতন্ত্র রক্ষার অভিযান’ বলা হলেও বাস্তবে তা ছিল রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার এক নোংরা অধ্যায়।
সূত্র: আল জাজিরা

কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজ জাজিরা কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ‘বেশ কয়েকটি’ মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, তবে সব ক্রু বেঁচে গেছেন।
২৫ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আজ সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম এই পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেই যাবে না। এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
জীবিত আছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্ট। গতকাল রোববার ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে