Ajker Patrika

কিশোরী হত্যা ও গণপিটুনি: উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, ১৪৪ ধারা জারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
কিশোরী হত্যা ও গণপিটুনি: উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, ১৪৪ ধারা জারি
কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল বারুইপুর। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং তার জেরে ছড়িয়ে পড়া গণরোষে এক সন্দেহভাজন যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকায় আজ সোমবার সকাল থেকেই ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করেছে পুলিশ। এই তিন থানা এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সারাদিন দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর, আজ সকাল থেকে এই অঞ্চলগুলোতে কড়া পুলিশি পাহারা ও টহলদারি চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও গণরোষ

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ওই ১২ বছরের কিশোরী। রোববার সকালে একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় বারুইপুর। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কিশোরীর দেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। এই উত্তেজনা চলাকালীনই খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়, যার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। পুলিশের ওপর হামলারও অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

বারুইপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনা খতিয়ে দেখতে এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে ইতিমধ্যে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না-নেওয়ার এবং কোনো প্রকার গুজবে কান না-দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আবেদন জানানো হয়েছে।

পুলিশের সাম্প্রতিকতম হালনাগাদ অনুযায়ী, নাবালিকা খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া আরও তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। আটক ব্যক্তিরা প্রথম মামলার (নাবালিকা খুন) সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

নিহত নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত রোববার রাতেই সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং খুনের আগে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক

বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিও আলোড়িত। সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি যথাযথ ও দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামীকাল মঙ্গলবার নিহত কিশোরীর বাবাকে কলকাতার ভবানীভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল রাতে নিহত নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। এ ছাড়া দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

রোববার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তৃণমূলের একাংশের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বারুইপুরে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে ‘আটকানোর’ জন্যই সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে এটিকে নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বর্তমানে বারুইপুরের পরিস্থিতি শান্ত কিন্তু থমথমে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত