Ajker Patrika

অবরোধের মধ্যেই হরমুজে ঢুকে পড়ল মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত আরেক সুপারট্যাংকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
অবরোধের মধ্যেই হরমুজে ঢুকে পড়ল মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত আরেক সুপারট্যাংকার
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে ঢুকে পড়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া আরেক ট্যাংকার। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এই জাহাজটির ওপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য সংগ্রহকারী প্ল্যাটফর্ম শিপ ট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ চলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি হয়ে এটি উপসাগরে ঢুকে পড়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এই অবরোধের ঘোষণা দেন। মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, সোমবার অবরোধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং কোনো জাহাজই এখন পর্যন্ত এটি ভেদ করতে পারেনি।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি গতকাল বুধবার জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা একটি ইরানি সুপারট্যাংকার অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। বার্তা সংস্থাটি অবশ্য ট্যাংকারটির নাম বা এর যাত্রাপথ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।

বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্য বলছে, বুধবার আরএইচএন নামের একটি বিশালাকার অপরিশোধিত তেলবাহী খালি জাহাজ (ভিএলসিসি) পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম এই জাহাজটি কোথায় যাচ্ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

এর ঠিক আগের দিনই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা অ্যালিসিয়া নামক অপর একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়। কেপলারের তথ্যমতে, অ্যালিসিয়া বর্তমানে ইরাকের দিকে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে এই দুটি জাহাজেরই ইরানি তেল পরিবহনের রেকর্ড রয়েছে। অবরোধের মুখে যেসব জাহাজ ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাংকার রিচ স্ট্যারি। মঙ্গলবার উপসাগর থেকে বেরিয়ে গেলেও পরদিন বুধবার এটি আবার ফিরে আসে।

ওয়াশিংটন ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর থেকে কিছু কড়াকড়ি শিথিল করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, পুনরায় আলোচনার আগে নিজেদের পাল্লা ভারী করতে ইরানি তেলের ক্রেতাদের ওপর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তেহরানের একটি সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার প্রস্তাবের অংশ হিসেবে ইরান ওমানি উপকূল দিয়ে জাহাজগুলোকে আক্রমণের ঝুঁকি ছাড়া অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে নতুন কোনো সংঘাত এড়াতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অবরোধের কারণে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ওপেকের এই সদস্য দেশটি বর্তমান দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে রাখতে পারবে। কারণ তারা অনশোর ট্যাংকে তেল মজুত করে রাখার সক্ষমতা রাখে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের গড় তেল রপ্তানি ছিল দৈনিক ১৬ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল। সেখানে গত মার্চে তারা দৈনিক ১৮ দশমিক ৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে এবং চলতি এপ্রিলের এ পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ১৭ দশমিক ১ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে যুক্তরাজ্যে মিথ্যা আশ্রয় প্রার্থনার বাজার উন্মোচন বিবিসির

মিরপুরের ১০ নারীকে যাত্রাবাড়ী এনে ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল করেন রাব্বি, বিয়েও করেন একই কায়দায়

সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে

নতুন শর্তে এবার লোহিতসাগর বন্ধ করার হুমকি ইরানের

সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে নতুন ডিসি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত