Ajker Patrika

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও নৌযানে মার্কিন হামলা, তিনজনের মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৫১
প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও নৌযানে মার্কিন হামলা, তিনজনের মৃত্যু
গত পাঁচ দিনে পঞ্চমবারের মতো দেশটিতে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল। ছবি: এক্স

আবারও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাদক বহনকারী দাবি করে চালানো এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে পঞ্চমবারের মতো দেশটিতে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনের’ মাধ্যমে পরিচালিত একটি নৌকায় তারা ‘প্রাণঘাতী গতিশীল হামলা’ (লিথাল কাইনেটিক স্ট্রাইক) চালিয়েছে। তবে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠীটির নাম প্রকাশ করেনি তারা।

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘এই অভিযানে তিনজন পুরুষ মাদক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।’ সবশেষ এই হামলার পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে দুটি নৌকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে মোট পাঁচজন নিহত হন এবং একজন জীবিত উদ্ধার হন। এরপর মঙ্গলবার দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, তারা একই এলাকায় আরও চারজনকে হত্যা করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন জোর দিয়ে বলছে, লাতিন আমেরিকায় সক্রিয় তথাকথিত ‘মাদক সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে তারা কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত। তবে যেসব নৌকাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, সেগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কি না এ বিষয়ে কোনো অকাট্য প্রমাণ তারা দিতে পারেনি। ফলে এসব অভিযানের বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই হামলাগুলো সম্ভবত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল। কারণ, আপাতদৃষ্টে এমন সব বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিলেন না।

গত জানুয়ারিতে ক্যারিবীয় সাগরে একটি ছোট নৌকায় হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল মামলা দায়ের করেন আইনজীবীরা। গত অক্টোবরের ওই হামলায় ত্রিনিদাদের একটি গ্রামের দুই ব্যক্তি নিহত হন। নিহতদের পরিবারের পক্ষে করা ওই মামলায় বলা হয়, ‘পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃতভাবে করা এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে যুক্তিসংগত কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) গত ডিসেম্বরে বলেছে, ‘যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশাসন ভিত্তিহীন ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী দাবি করে যাচ্ছে। অথচ তদন্তে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন সাধারণ জেলে, যারা স্রেফ পরিবারের ভরণপোষণের চেষ্টা করছিলেন।’

গত মাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধি জোয়াকিন কাস্ত্রো এবং সারা জ্যাকবস ইন্টার-আমেরিকান কমিশন অন হিউম্যান রাইটসের কাছে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি লিখেছেন। সেখানে তাঁরা উল্লেখ করেন, নিহতদের অধিকাংশেরই নাম ও জাতীয়তা এখনো অজানা রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যস্ত থাকলেও লাতিন আমেরিকায় নৌকায় হামলার এই হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে যুক্তরাজ্যে মিথ্যা আশ্রয় প্রার্থনার বাজার উন্মোচন বিবিসির

মিরপুরের ১০ নারীকে যাত্রাবাড়ী এনে ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল করেন রাব্বি, বিয়েও করেন একই কায়দায়

সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে

নতুন শর্তে এবার লোহিতসাগর বন্ধ করার হুমকি ইরানের

সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে নতুন ডিসি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত