Ajker Patrika

হামাস সদস্যদেরও গাজা পুলিশে নেওয়ার পরিকল্পনা, প্রবেশ করবে আন্তর্জাতিক বাহিনী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হামাস সদস্যদেরও গাজা পুলিশে নেওয়ার পরিকল্পনা, প্রবেশ করবে আন্তর্জাতিক বাহিনী
হামাস যোদ্ধা। ছবি: এএফপি

গাজায় নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হামাসের বর্তমান পুলিশ সদস্যদের একটি অংশকে নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) এবং গাজার জন্য নতুন পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে উপত্যকায় প্রবেশ করবে। দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী (আইডিএফ) ধাপে ধাপে গাজা থেকে সরে যাওয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গঠিত বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী নতুন গাজা পুলিশকে প্রশিক্ষণে সহায়তা করবে, অস্ত্র নিষ্ক্রিয় ও অপসারণের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে অবস্থান করবে। গাজায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি নতুন পুলিশ বাহিনী জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন কার্যকর করার দায়িত্ব পালন করবে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর জন্য ৫ হাজার সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মরক্কো, কসোভো, আলবেনিয়া ও কাজাখস্তানের অল্প কয়েকজন প্রতিনিধি সম্ভাব্য মোতায়েনের প্রস্তুতির জন্য ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। এই চার দেশ ভবিষ্যতে আরও দেশকে বাহিনীতে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করবে।

বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে হামাসের পুলিশ বাহিনীতে কাজ করা কিছু সদস্য নতুন গাজা পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন বিভিন্ন কাজে নিয়োগ দেওয়া হবে। এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষের জীবিকা যাতে নষ্ট না হয়, সেটি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা–এনসিএজি গাজায় প্রবেশের পর যাতে স্বাধীনভাবে ও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।

এনসিএজি এবং নতুন পুলিশ বাহিনী গাজায় সব ধরনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলা, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করবে। মার্কিন এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, নতুন পুলিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে নির্বাচিত ৫ হাজার সদস্যের বেশিরভাগ এখনো গাজা থেকে বের হতে পারেননি। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করার অভিযোগও রয়েছে।

গাজার নিরাপত্তা কাঠামো পরিবর্তনের পাশাপাশি হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। বোর্ড অব পিসের নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব হামাস অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হামাসের পুলিশ বাহিনীর কাছে থাকা অস্ত্র এনসিএজির কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর গাজায় থাকা ভারী অস্ত্র, অস্ত্রের গুদাম এবং সুড়ঙ্গগুলো নিষ্ক্রিয় বা অপসারণের কাজ শুরু হবে।

সবশেষে গাজায় থাকা ব্যক্তিগত অস্ত্রগুলো হস্তান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আইন অনুসরণ করা হবে। ওই আইনে নির্দিষ্ট কঠোর শর্ত পূরণ এবং অস্ত্র যথাযথভাবে নিবন্ধিত থাকলে ব্যক্তির আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার আওতায় ইসরায়েলি বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন মিলিশিয়া ও সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও তাদের অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে। অস্ত্রগুলো এনসিএজির কাছে হস্তান্তর করা হলেও সেগুলো নিষ্ক্রিয় বা অপসারণের কাজে আইএসএফ সহায়তা করবে। নিরাপদে অস্ত্র হস্তান্তর কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে আইএসএফ-এর নেতৃত্ব ইতিমধ্যে পরিকল্পনা করছে।

গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে এই নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ কাঠামো কার্যকর করা হবে। প্রতিটি পর্যায় আইডিএফ-এর প্রত্যাহারের সঙ্গে কঠোরভাবে যুক্ত থাকবে। পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে আন্তর্জাতিক যাচাই কমিটি। বোর্ড অব পিসের কর্মকর্তা এই কাঠামোর মূল নীতিকে বলেছেন, ‘এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন এবং এক অস্ত্র।’

এর লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতি এড়ানো, যেখানে এনসিএজি দিনে গাজা নিয়ন্ত্রণ করবে, কিন্তু রাতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যরা বেরিয়ে এসে নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ ছাড়া গাজার সব রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে একটি ‘সামাজিক শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। অস্ত্র হস্তান্তরের পর কোনো একটি গোষ্ঠী যেন অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা বা সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে, এই চুক্তির মাধ্যমে তা ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে।

গাজার পুনর্গঠন সম্পর্কেও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ‘বোর্ড অব পিস’ এবং এনসিএজির তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পুনর্গঠন কাজ পরিচালিত হবে। বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলকে জানান, যেসব এলাকায় অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় বা অপসারণ করা হবে, সেসব এলাকায় পুনর্গঠন শুরু হবে।

দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপের ওপর ২০২৭ সালের শুরুতে প্রথম পরীক্ষামূলক আবাসন প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনর্গঠনের জন্য বোর্ড অব পিস প্রধানত উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। তবে হামাস তাদের নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়নি বলে জানান এক মার্কিন কর্মকর্তা।

ইসরায়েলি-সাইপ্রিয়ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং বোর্ড অব পিসের গাজা নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ইয়াসির গাবাই পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, গাজার পুনর্গঠন প্রকল্পগুলোর ব্যয় কমিয়ে আনতেও গাবাই সফল হয়েছেন।

এভাবে গাজার নতুন নিরাপত্তা কাঠামো, হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক বাহিনীর মোতায়েন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারকে একই প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পরবর্তী ধাপে নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন এলাকাগুলোতে পুনর্গঠন এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত