Ajker Patrika

ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯: ০৮
ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যু
রাশিয়ার রাতভর হামলার পর উদ্ধারকাজে ইউক্রেন সেনাবাহিনী। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনজুড়ে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় শিশুসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর বরাতে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাতভর চালানো ওই হামলায় রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অজ্ঞাতসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১৬১টি লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করেছে বলেও দাবি করেছে বিমানবাহিনী।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, মধ্যাঞ্চলের পোলতাভা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। ২০২২ সালে মস্কো যুদ্ধ শুরু করার পর এটি রাশিয়ার চালানো সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের জ্বালানি অবকাঠামো ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রুশরা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে হামলা চালাতে চেয়েছিল।’

হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহরে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। জরুরি সেবা বিভাগ বলেছে, এতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৫০ জন।

বিমান হামলার কারণে সৃষ্ট আগুনে ঘনবসতিপূর্ণ দারনিতস্কি এলাকায় দুজন নিহত হয়েছে বলেও জানান কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো।

জেলেনস্কি আরও জানান, মধ্য ইউক্রেনের দনিপ্রো ও ক্রেমেনচুকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহুতল ভবনে আঘাত হানলে দুজন নিহত হয়। এ ছাড়া ওলেকসান্দ্রিয়ায় আরও দুজন নিহত হয়েছে।

হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক ও শিল্প স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হয়েছে। এতে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য উচ্চনির্ভুল অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে কিয়েভে ফায়ার পয়েন্ট নামের একটি কোম্পানির স্থাপনা ছিল। সেখানে ফ্লামিঙ্গো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়। এ ছাড়া কিয়েভ, চেরনিহিভ, কিরোভোহরাদ, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক, পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলেও হামলা চালানো হয়েছে।

ওদেসা অঞ্চলের বন্দর ও জাহাজ মেরামতের অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন কয়েকটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

হামলার কথা তুলে ধরে ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক সংসদীয় কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেৎস টেলিগ্রামে বলেন, ‘ইউক্রেন আবারও সারা রাত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আরেকটি নির্ঘুম রাত, সন্ত্রাসের আরেকটি ঘটনা। এরপরও সবকিছুকে উপেক্ষা করে মানুষকে দিনের কাজের পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।’

আল-জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে অবিরাম বোমাবর্ষণ চলছে। রুশ বিমান হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো, রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে দনিপ্রো নদীর ওপর দিয়ে শহরটির বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করা সেতুগুলোও রয়েছে। প্রায় সারাক্ষণই বিমান হামলার সাইরেন বাজছে। বাসিন্দাদের বেজমেন্ট, আশ্রয়কেন্দ্র ও পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।

অন্য একটি পোস্টে জেলেনস্কি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার চারটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে পার্ম, সামারা ও আস্ত্রাখান অঞ্চলের দুটি তেল স্থাপনা ও একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরেও পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

জেলেনস্কি এসব হামলাকে মস্কোর হামলার ‘ন্যায্য’ জবাব বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, হামলার শিকার এসব স্থাপনা রাশিয়ার ‘এই নৃশংস যুদ্ধের অর্থায়ন ও পরিচালনায়’ সহায়তা করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত