Ajker Patrika

‘দূষিত বাতাস ছড়ানোয় মাশুল দিতে হবে’, এবার কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯: ১৯
‘দূষিত বাতাস ছড়ানোয় মাশুল দিতে হবে’, এবার কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি

কানাডার দাবানল যুক্তরাষ্ট্রে ‘নোংরা’ বাতাস ছড়িয়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ এনে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি শুল্ক আরোপ করেই ফেললেন। দেশটির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি।

তবে এই শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে দাবানলের ধোঁয়াকে দায়ী না করে তিনি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, ডেইরি ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের প্রতি কানাডা ‘অসম আচরণ’ করেছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে ওয়াইন, হকি স্টিকের মতো দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও মাছের মতো কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এ শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এই শুল্ক আরোপ উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে।

নতুন শুল্কের আওতাভুক্ত সব পণ্যের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। পণ্যটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ (USMCA)–এর আওতায় থাকুক বা না থাকুক, তাতে কোনো পার্থক্য হবে না।

এদিকে নতুন শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ‘আরও জোরদার’ করতে তাঁর দেশ প্রস্তুত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ উদাহরণ, যা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি সরাসরি লঙ্ঘন করে শুরু করেছিল দেশটি।’

কানাডার ‘সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি’র বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর এই মন্তব্য ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি দেশটির সফটউড লাম্বারের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়িতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নয় সেসব যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত আছে।

অন্যদিকে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের আমদানির ওপর নিজেদের ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বহাল রেখেছে।

সম্প্রতি কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু শহরে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন, তারই জের ধরে সোমবার এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা এল।

তবে ট্রাম্প সোমবার যেসব নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, সেগুলোতে দাবানলের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

তার বদলে তিনটি ঘোষণাপত্রে গাড়ি, ডেইরি ও অ্যালকোহল সংক্রান্ত বাণিজ্যবিরোধের বিষয়গুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, কানাডা এমন সব মোটরযান ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওপর কর আরোপ করছে যা ইউএসএমসিএ-র আওতায় পড়ে না।

তাঁর ভাষ্য, এটি ‘অযৌক্তিক’ এবং অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে অনুরূপ কর না বসিয়ে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে।

উত্তর আমেরিকার অটোমোবাইল তৈরি শিল্প যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে অত্যন্ত সুসংহত বা একীভূত।

অন্যদিকে ডেইরি খাতটি অনেক দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা, যা বিদেশি আমদানির ওপর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেয়। আর সেই সীমা অতিক্রম করলেই বসানো হয় ৩০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক।

এ ছাড়া গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে মার্কিন মদ জাতীয় পানীয় বয়কট করাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডিস ল্যাং এই নতুন শুল্ককে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। নতুন এই শুল্ক আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হওয়ার আগেই উভয় দেশের কর্মকর্তাদের ‘অর্থপূর্ণ অগ্রগতি’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত