Ajker Patrika

ঘণ্টায় ঘণ্টায় সুর পাল্টাচ্ছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ২০: ১২
ঘণ্টায় ঘণ্টায় সুর পাল্টাচ্ছেন ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

ইরান যুদ্ধের দশম দিনে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য বিশ্বজুড়ে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। গতকাল সোমবার এক দিনেই ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর কয়েক দফায় কয়েক দিকে মোড় নিয়েছে। ফলে মিত্র দেশ বা বাজার বিশ্লেষক—কেউই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বা সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন না।

গতকাল সকালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে যাওয়া এবং শেয়ারবাজারে ধস নামার পর ট্রাম্প মরিয়া হয়ে সাংবাদিকদের ফোন করতে শুরু করেন। নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিককে তিনি বলেন, ‘সবকিছুর জন্য আমার কাছে পরিকল্পনা আছে, আপনারা খুশিই হবেন।’

সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করেন, ‘যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে, আমরা সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছি।’ এই বক্তব্যের প্রভাবে তেলের দাম ১২০ ডলার থেকে এক ধাক্কায় ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

কিন্তু সন্ধ্যা হতেই ট্রাম্প তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি নতুন করে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘আমরা এখনই একে বিশাল সাফল্য বলতে পারি, অথবা আরও এগিয়ে যেতে পারি। আমরা আরও এগিয়েই যাব।’ অর্থাৎ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ‘যুদ্ধ শেষের পথে’ থেকে তিনি ‘হামলা জোরদার করার’ দিকে ঝুঁকে পড়েন।

ট্রাম্প যখন দাবি করছেন অভিযান ‘প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছে’, ঠিক তখনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। হেগসেথ জানান, অভিযানের পরবর্তী ধাপে আরও শক্তিশালী ৫০০, ১০০০ এবং ২০০০ পাউন্ডের ‘গ্রাভিটি বোমা’ ব্যবহার করা হবে। তিনি সাফ বলেন, ‘আমরা তো অভিযানের আসল অংশটি এখনো শুরুই করিনি।’ যখন ট্রাম্পকে এই বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তিনি অদ্ভুতভাবে উত্তর দেন, ‘আমার মনে হয় আপনি দুটোই বলতে পারেন।’

এদিকে ইরান যুদ্ধের কারণে আমেরিকায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। গত এক সপ্তাহে পেট্রলের দাম গ্যালন প্রতি ৪৮ সেন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে ৯২ হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছেন এবং বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।

সামনে নভেম্বর মাসের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচন। তার আগে জর্জিয়ার বিশেষ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। ট্রাম্পের সমর্থক অনেক ভোটারও এখন বলছেন, তাঁরা ট্রাম্পকে সমর্থন দিলেও এই যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক মন্দাকে সমর্থন করছেন না। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী শন হ্যারিস এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বলছেন, ‘আমেরিকানরা এই যুদ্ধ চায়নি, এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

ট্রাম্পের বক্তব্যে একদিকে যেমন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ও ‘নতুন রাষ্ট্র গঠনের’ উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পাচ্ছে, অন্যদিকে তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষের আশাও দেখাচ্ছেন। এই দ্বিমুখী বার্তার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন এখন এক অনিশ্চিতায় ঝুলছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ট্রাম্প হয়তো সামরিকভাবে ইরানের নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী ধ্বংসের সাফল্য উদ্‌যাপন করছেন, কিন্তু এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চড়া মূল্য হয়তো তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামায়াতের মঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি

নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার দাবি ইরানি গণমাধ্যমের, ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল

ইরান যুদ্ধ থেকে ‘প্রস্থানের পথ’ খুঁজছে ইসরায়েল

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মানুষের ৪৭টি মাথার খুলি, বিপুল পরিমাণ হাড়সহ গ্রেপ্তার ৪

ইরান থেকে ট্রাম্পকে বেরিয়ে আসতে পরামর্শ দিচ্ছেন উপদেষ্টারা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত