Ajker Patrika

কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২: ৪৬
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ড: আতঙ্কে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন বাংলাদেশি পর্যটকেরা
কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের পর তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বোর্ডিং হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ অন্তত নয়জনের মৃত্যুর পর স্থানীয় পর্যটন খাতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কলকাতায় অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশি পর্যটক তাঁদের নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে অবস্থানরত অনেকে ভারতে ভ্রমণের পূর্বপরিকল্পনা স্থগিত করছেন। নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট, স্যাডার স্ট্রিট ও কলিন স্ট্রিট এলাকার হোটেল সমিতি ও ট্রাভেল এজেন্টরা নিশ্চিত করেছেন যে, গত কয়েক দিনে আগাম টিকিট কেটে দেশে ফেরার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে) মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫জি নম্বর পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘শিখা ইন’ নামে একটি বোর্ডিং হাউসে আগুনের সূত্রপাত হয়। পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা বৈধ পরিচালন পারমিট ছিল না।

ঘটনার পরপরই কলকাতার পৌরসভা (কেএমসি) পুরো শহরের বোর্ডিং হাউসগুলোর অগ্নি নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি অডিট দল গঠন করেছে। পাশাপাশি, ভবনের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের সন্ধান পেতে কলকাতা পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর সেখানে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। ভারতে অবস্থানরত স্বজনদের অবিলম্বে সফর শেষ করে দেশে ফেরার তাগিদ দিচ্ছেন তাঁরা। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই ভবনেই অবস্থান করছিলেন পাবনার বাসিন্দা মো. খুরশীদ আলম। পরে মারকুইস স্ট্রিটের অন্য একটি হোটেলে উঠে তিনি বলেন, ‘আগুনের খবর এবং পাঁচ বাংলাদেশির মৃত্যুর পর আমার স্ত্রী ও বাবা-মা ক্রমাগত ফোন করে বাড়ি ফিরে যেতে বলছেন। আমি ব্যবসায়িক কাজে এসেছি, তাই দ্রুত কাজ শেষ করে শুক্রবার বিকেলেই রওনা দেব।’

প্রশাসনিক কড়াকড়ি বা তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার ভয়েও অনেকে এলাকা ছাড়ছেন। ঢাকার বাসিন্দা ইসমাইল সরকার বলেন, ‘আমরা চাই না এলাকার হোটেলগুলোতে চলা প্রশাসনিক অভিযানে আটকে পড়তে। তাই আপাতত ফিরে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আসাই শ্রেয় মনে করছি।’

কলকাতার স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্ট গোপাল মান্না বলেন, ‘অগ্নিদুর্ঘটনার পর অনেক পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। অনেকেই আমাদের কাছে এসে জরুরি ভিত্তিতে ফিরতি টিকিট করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।’

এই ঘটনার ফলে কলকাতার তথাকথিত ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া আবারও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। করোনা মহামারি এবং বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের দৈনিক আগমন ঐতিহাসিক গড় ৮ হাজার থেকে নেমে মাত্র ১ হাজার-এ পৌঁছেছিল। গত জুলাই মাসে ভিসা প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল হওয়ার পর ব্যবসায়ে মন্দা কাটতে শুরু করেছিল। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও পর্যটক কমে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় হোটেল ও খুচরা ব্যবসায়ীরা নতুন করে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত