Ajker Patrika

পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হবে সৌদি আরবও—চুক্তি অনুমোদন করলেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ২২: ০৭
পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হবে সৌদি আরবও—চুক্তি অনুমোদন করলেন ট্রাম্প
সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: এএফপি

সৌদি আরবকে বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লির জন্য নিজস্ব জ্বালানি সমৃদ্ধ করার সুযোগ রেখে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সময় বুধবার (২২ জুলাই) বুধবার রাতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

চুক্তিটি ৩০ বছর মেয়াদি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সময় বুধবারই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলো প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেবে।

তবে চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত হলেও তাত্ত্বিকভাবে একই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথও খুলে দিতে পারে।

চুক্তি ঘোষণার পর তা মার্কিন কংগ্রেসে পাঠাবে ট্রাম্প প্রশাসন। এর আগে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং কংগ্রেসের সম্ভাব্য আপত্তির আশঙ্কায় কয়েক মাস ধরে চুক্তিটি ঝুলে ছিল বলে জানিয়েছিল সিএনএন।

চুক্তি অনুযায়ী—সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের একটি যৌথ দল তা প্রয়োজনীয় ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক কি না, তা যাচাই করবে। সম্ভাব্য সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাও মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মাণ করবে। তবে সংবেদনশীল সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি সরাসরি সৌদি আরবের হাতে তুলে দেওয়া হবে না।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির আওতায় প্রথম ১০ বছর সৌদি আরব নিজস্ব সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি তৈরি করতে বা অন্য কোনো দেশ থেকে তা কিনতে পারবে না। একই সঙ্গে সৌদি পারমাণবিক কর্মসূচিতে কী ধরনের আন্তর্জাতিক পরিদর্শন হবে, তা নিয়েও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। এ কারণে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সংশয় তৈরি হতে পারে।

সৌদি আরবকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘অতিরিক্ত প্রটোকল’ স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ধরনের কঠোর নজরদারি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে এতে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

ইসরায়েলও সৌদি আরবের পারমাণবিক প্রযুক্তি অর্জন নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে তাঁর দেশও একই পথে যেতে পারে।

বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বহু বছর ধরেই সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় এটি সৌদি আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়। পরে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত