Ajker Patrika

পুতিনের বেইজিং সফরে আলোচনায় চীন–রাশিয়া গ্যাস পাইপলাইন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পুতিনের বেইজিং সফরে আলোচনায় চীন–রাশিয়া গ্যাস পাইপলাইন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ মঙ্গলবার বেইজিং সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে চীনে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

রাশিয়ার সরকারঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা চীনের অবস্থানে নমনীয়তা আনতে পারে বলে আশা করছে রাশিয়া। বিশেষ করে, পরিকল্পিত ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ পাইপলাইন প্রকল্পে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে চলমান আলোচনায় বেইজিং আরও নমনীয় হবে বলে মস্কোর প্রত্যাশা।

নাম প্রকাশে এক রুশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চীনা প্রতিনিধিরা আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভও জোর দিয়ে বলেছেন, পাইপলাইন ইস্যুটি ‘আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।’ গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের উশাকভ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমার বিশ্বাস, দুই নেতার মধ্যে এ বিষয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

তবে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, কোনো চুক্তির অগ্রগতি মূলত সি চিনপিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আর বর্তমানে এমন খুব কম ইঙ্গিতই মিলছে যে—রাশিয়া সহজে কোনো সমঝোতা আদায় করতে পারবে। ব্লুমবার্গের ভাষ্য, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা অর্থনীতির কারণে রাশিয়া এখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পঞ্চম বছরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে এই সম্পর্ক মস্কোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চীনের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে এই পরিস্থিতি রাশিয়াকে সম্পর্কের ভারসাম্য নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ করে দিতে পারে।”

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপ্রমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় মূল্য প্রস্তাব করেছে গ্যাজপ্রম। সাইবেরিয়া থেকে মঙ্গোলিয়া হয়ে এই পাইপলাইন চীনে পৌঁছানোর কথা। তবে চীনা অংশীদাররা প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই গ্যাসের মূল্য নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় রাশিয়া।

গত মার্চে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর চীন জানায়, তারা নিজেদের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রুশ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে অগ্রগতি আনতে চায়। এপ্রিলের শেষ দিকে গ্যাজপ্রমের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্সেই মিলার এবং চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হাউলিং বেইজিংয়ে বৈঠক করেন। সেখানে তাঁরা ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের উন্নয়ন’ নিয়ে আলোচনা করেন।

গত ৯ মে পুতিন বলেছিলেন, গ্যাস ও তেল খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ‘প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ চীনের সঙ্গে একমত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘যদি সফরের সময় আমরা সেগুলো চূড়ান্ত করতে পারি এবং পুরো প্রক্রিয়াকে শেষ পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমি খুবই সন্তুষ্ট হব।’

রাশিয়ার ভেতর দিয়ে পরিবহন করিডর তৈরির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অংশ। তবে ব্লুমবার্গের সূত্রগুলো বলছে, এখন চীনা কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থলভিত্তিক ট্রানজিট রুট এবং আর্কটিক অঞ্চলের নর্দার্ন সি রুট সম্প্রসারণে আগ্রহ বাড়তে দেখছে মস্কো। ইরান যুদ্ধও এই পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে।

ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ২০ মে পুতিন ও সি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন। পরে সন্ধ্যায় চায়ের আড্ডাতেও আলোচনা চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

পুতিনের সঙ্গে রুশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পাঁচ উপপ্রধানমন্ত্রী, আট মন্ত্রী এবং রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনা। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরাও সফরে অংশ নিচ্ছেন।

ব্লুমবার্গ উল্লেখ করেছে, চলতি বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সি চিনপিং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ট্রাম্প ও পুতিনের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করছেন। ফেব্রুয়ারির শুরুতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ক্রেমলিন নেতার সঙ্গে ফোনালাপ করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত