হাসির মুখোশে নিখুঁত যৌন শিকারি—রাসেল ব্র্যান্ডের উত্থান ও পতন

দীর্ঘদিন নিজের বিতর্কিত ও উগ্র ব্যক্তিত্বকে পুঁজি করে খ্যাতি ও অর্থ উপার্জন করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ড। প্রকাশ্যেই নারীদের প্রতি তাঁর আপত্তিকর আচরণের নানা ইঙ্গিত থাকলেও এত দিন কীভাবে তিনি পার পেয়ে গেলেন, সেই প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।
ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী রাসেল ব্র্যান্ডের উত্থান ছিল যতটা আলোচিত, পতন তার চেয়েও বেশি নাটকীয়। একসময় ব্রিটেনের টেলিভিশন, রেডিও ও হলিউডের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। যৌনতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য, অশালীন কৌতুক এবং উগ্র ব্যক্তিত্ব ছিল তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম উপাদান। কিন্তু সেই ব্যক্তিত্বের আড়ালে নারীদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণের অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে জমা হচ্ছিল। অবশেষে ধর্ষণের একটি এবং যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দক্ষিণ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের জুরি রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। তবে ধর্ষণের আরও দুটি এবং ধর্ষণের চেষ্টার একটি অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিচারক জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাঁকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। আগামী ৯ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন বছর ধরে তদন্ত চালিয়েছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে চ্যানেল ফোরের অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান ‘ডিসপ্যাচেস’ এবং দ্য টাইমস পত্রিকার যৌথ অনুসন্ধানে পাঁচ নারী তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এর দুদিন পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
খ্যাতির আড়ালে বিতর্কিত অতীত
১৯৭৫ সালের জুনে ইংল্যান্ডের এসেক্সের গ্রেইস শহরে জন্ম রাসেল ব্র্যান্ডের। তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয় যখন তাঁর বয়স মাত্র ছয় মাস। মা বারবারার কাছেই বেড়ে ওঠেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও মঞ্চের প্রতি আগ্রহ ছিল। স্কুলের নাটক ‘বাগসি ম্যালোন’-এ ফ্যাট স্যামের চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। ১৬ বছর বয়সে ইতালিয়া কন্টি থিয়েটার স্কুলে ভর্তি হলেও মাদক গ্রহণ ও নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতির কারণে এক বছর পর বহিষ্কৃত হন।
বিশের দশকে স্ট্যান্ডআপ কমেডি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেন। তবে মদ ও পরে হেরোইনে আসক্তির কারণে তাঁর পেশাগত জীবন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পরদিন ওসামা বিন লাদেনের পোশাক পরে কর্মস্থলে হাজির হওয়ায় এমটিভির উপস্থাপকের চাকরিও হারান।

২০০২ সালে তারকা ব্যবস্থাপক জন নোয়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর মাদকাসক্তির চিকিৎসা নেন ব্র্যান্ড। ২০০৪ সালে পুনর্বাসনকেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার পর চ্যানেল ফোরের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এর স্পিন-অফ অনুষ্ঠান ‘বিগ ব্রাদার’স বিগ মাউথ’-এর উপস্থাপক হন। এখান থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে।
তবে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অনেকেই পরে তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন। এক নারী কর্মীর অভিযোগ, ব্র্যান্ড তাঁকে দর্শকদের মধ্য থেকে নারীদের খুঁজে এনে যৌন সম্পর্কের ব্যবস্থা করতে বলতেন। পরে ওই নারীদের কেউ কেউ কান্নাকাটি করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। নিজেকে তখন ‘যেন একজন দালাল’ মনে হতো বলে জানান ওই নারী কর্মী।
আরেক কর্মী অভিযোগ করেন, ব্র্যান্ড তাঁর ড্রেসিংরুমে নিজের যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করেছিলেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। ২০২৪ সালে অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্বীকার করে, ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে কর্মীদের অনানুষ্ঠানিক অভিযোগ যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়নি এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানও করা হয়নি।
যৌনতা নিয়ে কৌতুকই ছিল তাঁর জনপ্রিয়তার পুঁজি
২০০৭ সালে প্রকাশিত ব্র্যান্ডের আত্মজীবনীতে নারীদের সঙ্গে তাঁর আচরণের নানা বিবরণ উঠে আসে। বইটিতে তিনি নিজেই লিখেছিলেন, এক সহপাঠিনীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে প্রায় ২০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। ওই নারী তাঁর সঙ্গ চাননি, এমনকি তাঁকে পারিবারিক বাড়িতেও যেতে দিতে চাননি। কিন্তু ব্র্যান্ড জোর করেই তাঁর সঙ্গে সেখানে যান এবং একই বিছানায় থাকেন। পরে আবেগ, কান্না ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে তাঁর পোশাক খুলতে বাধ্য করেন বলে আত্মজীবনীতে বর্ণনা করেন।
বইটিতে একজন ল্যাপ ড্যান্সারের মুখে থুতু ফেলা এবং এক যৌনকর্মীর ফোন দেয়ালে আছড়ে ভাঙার ঘটনাও লিখেছিলেন তিনি। অথচ বইটি প্রকাশের পর ব্যাপক প্রশংসা পায়। সানডে টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করে এবং ২০০৮ সালে ব্রিটিশ বুক অ্যাওয়ার্ডসে বর্ষসেরা জীবনী নির্বাচিত হয়।
এ সময় ব্র্যান্ডের সঙ্গে মডেল কেট মসের সম্পর্ক তাঁকে ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর নিয়মিত আলোচনায় নিয়ে আসে। দ্য সান পত্রিকা টানা তিন বছর তাঁকে ‘শাগার অব দ্য ইয়ার’ উপাধি দেয়। তাঁর স্ট্যান্ডআপ শোতে উপচে পড়া দর্শক হতো। বিবিসি রেডিও টুতেও নিজের নামে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা শুরু করেন।
যৌনতা নিয়ে অশালীন মন্তব্য, নারীদের শরীর নিয়ে কৌতুক এবং ব্যক্তিগত যৌনজীবনের নানা বিবরণ প্রকাশ্যে বলতেন তিনি। এসব আচরণকে অনেক সময় বিনোদনের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করেছিল গণমাধ্যম ও দর্শকেরা।
ব্র্যান্ডের ম্যানেজমেন্ট অবশ্য তাঁর যৌন আসক্তির চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠিয়েছিল। সেখানে তাঁকে এমন নারীদের একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়, যাদের সঙ্গে নিজের আচরণের মাধ্যমে তিনি অন্যায় করেছেন। ব্র্যান্ড ওই তালিকা তৈরির অভিজ্ঞতাকে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ২০১০ সালে প্রকাশিত আরেক স্মৃতিকথায় তিনি ইঙ্গিত দেন, নারীদের সঙ্গে তাঁর আচরণের আরও ভয়াবহ অনেক ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।
বিবিসিতে ‘প্রকাশ্যেই একজন শিকারি’
ব্র্যান্ডের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত বিতর্কগুলোর একটি ‘স্যাকসগেট’। ২০০৮ সালের অক্টোবরে অভিনেতা জনাথন রসকে সঙ্গে নিয়ে ‘ফল্টি টাওয়ার্স’-এর অভিনেতা অ্যান্ড্রু স্যাকসকে একাধিক ভয়েস মেসেজ পাঠান তিনি। সেখানে স্যাকসের নাতনির সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা বলে তাঁকে অপমান করা হয়। বিবিসি রেডিও টুতে সেই বার্তা সম্প্রচারিত হলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনও এর নিন্দা জানান। পরে ব্রিটিশ সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম বিবিসিকে দেড় লাখ পাউন্ড জরিমানা করে। পদত্যাগ করেন ব্র্যান্ড ও অনুষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রক লেসলি ডগলাস। জনাথন রসকে তিন মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়।
তবে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ছিল। অনুষ্ঠানের সংবাদ পাঠিকার উদ্দেশে নিয়মিত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতেন তিনি। ওই নারী এতে অস্বস্তি বোধ করছেন জানানো হলেও ক্ষমা চাননি ব্র্যান্ড। বরং তাঁকে অন্তর্বাস পরে সংবাদ পাঠ করার বিষয়ে গান বানিয়ে শোনান।
এক অনুষ্ঠানে বিবিসির স্টুডিওর শৌচাগারে এক নারীকে অনুসরণ করে নিজের যৌনাঙ্গ দেখানোর ঘটনাটিও কৌতুক হিসেবে তিনি বর্ণনা করেছিলেন। আরেকবার অতিথি ও কর্মীদের সামনেই বোতলে প্রস্রাব করেন। ২০২৫ সালে প্রকাশিত বিবিসির এক পর্যালোচনায় বলা হয়, ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে আমলে নেওয়া হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি বা পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কায় কর্মীরা অনেক সময় নীরব থাকতেন।
হলিউড থেকে রাজনীতি, তারপর ষড়যন্ত্রতত্ত্ব
স্যাকসগেট বিতর্কের পর হলিউডে পাড়ি জমান ব্র্যান্ড। ‘গেট হিম টু দ্য গ্রিক’ এবং ‘আর্থার’ ছবিতে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরিকে বিয়ে করেন। তবে ১৪ মাসের মাথায় তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। পেরি পরে অভিযোগ করেন, তাঁর জনপ্রিয়তা ও পেশাগত সাফল্য মেনে নিতে পারতেন না ব্র্যান্ড। সম্পর্কের মধ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণও ছিল।
২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে ফিরে ব্র্যান্ড নিজেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাষ্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। গার্ডিয়ানে কলাম লেখেন, মাদকনীতি নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বক্তব্য দেন এবং বিবিসির ‘কোয়েশ্চেন টাইম’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন জানালেও পরে দলটির নেতা এড মিলিব্যান্ড ব্র্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেন।

এরপর ২০১৬ সালে তাঁর সঙ্গী লরা গ্যালাচারের ঘরে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। ২০১৭ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।
কিন্তু হলিউড প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে #MeToo আন্দোলন শুরু হলে ব্র্যান্ডের অতীত আচরণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। মূলধারার টেলিভিশন ও বিনোদনজগৎ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান তিনি। ২০১৯ সালে চ্যানেল ফোরের ‘সেলিব্রিটি বেক অফ’-এ ছিল তাঁর শেষ উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন উপস্থিতি।
কোভিড মহামারির সময় ইউটিউব ও পডকাস্টে নতুন দর্শক তৈরি করেন ব্র্যান্ড। করোনা টিকা ও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে বিপুল দর্শক ও আয় করেন। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর দাবি করেন, সত্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় মূলধারার গণমাধ্যম তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে।
এদিকে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণের ঘোষণা দিয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে টেমস নদীতে দীক্ষা নেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পান এবং রক্ষণশীল অ্যাক্টিভিস্ট চার্লি কার্ক ও সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

মামলার আগে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চলে যান ব্র্যান্ড। তবে বিচারের জন্য স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে নির্লিপ্ত ছিলেন তিনি। পরে আদালতের কর্মকর্তারা তাঁকে কারাকক্ষে নিয়ে যান।
ব্র্যান্ডের স্ত্রী লরা এখনো তাঁর পাশে রয়েছেন। বিচার চলাকালে তাঁদের ভিডিও পডকাস্টে মামলার বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত এমনভাবে আলোচনা হয়েছে, যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
তবে ভুক্তভোগী নারীদের জন্য এই রায় দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন—যে ব্যক্তি নারীদের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণকে কৌতুক ও বিনোদনের উপাদান বানিয়ে কোটিপতি হয়েছেন, প্রকাশ্যেই যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ ছিল, তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে এত দীর্ঘ সময় লাগল কেন?









