Ajker Patrika

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড—সাজা ঘোষণা ৯ নভেম্বর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩৯
ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড—সাজা ঘোষণা ৯ নভেম্বর
আদালত প্রাঙ্গণে স্ত্রী লরার সঙ্গে রাসেল ব্র্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

হলিউড অভিনেতা ও কমেডিয়ান রাসেল ব্র্যান্ডকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শোবিজ অঙ্গনে কাজ করার সময় এক নারীকে ধর্ষণ ও আরও তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে তাঁকে দোষী ঘোষণা করেন দক্ষিণ লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের জুরি। বিচারক জানিয়েছেন, এসব অপরাধের জন্য তাঁকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ান জানায়, চার সপ্তাহের বিচার শেষে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন ৫১ বছর বয়সী ব্র্যান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে ছয় নারীর করা মোট সাতটি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে তিনটি ধর্ষণ, তিনটি যৌন নিপীড়ন ও একটি শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে ১০ বছর সময়কালের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে এসব অভিযোগ আনা হয়। তবে জুরি তাঁকে চারটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হোটেলকক্ষ, বারের শৌচাগার ও লন্ডনে নিজের বিলাসবহুল বাড়িতে নারীদের যৌন নির্যাতন করেছেন। এ ছাড়া একটি রেডিও স্টেশন ও টেলিভিশন স্টুডিওসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে নিজের সহযোগীদের সামনেও নারীদের যৌন নিপীড়ন করেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে প্রশংসা, মুগ্ধতা ও প্রেমের কথার মাধ্যমে নারীদের কাছে টানতেন তিনি। পরে তাঁর আচরণ বদলে যেত এবং তিনি ভীতিকর ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতেন।

বিচার চলাকালে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজের খ্যাতি ও প্রভাব ব্যবহার করে নারীদের শোষণের অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, কিছু ঘটনা তাঁর মনে নেই এবং অন্য ঘটনাগুলো ছিল পারস্পরিক সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক। ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ প্রকাশের পর এসব ঘটনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ব্র্যান্ডের আইনজীবী ইয়ান উইন্টার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, যৌন সম্পর্কে সম্মতি থাকলে অভদ্র বা অস্বাভাবিক আচরণ অপরাধ নয়। তবে অভিযোগকারীরা কেন চিৎকার করেননি বা শারীরিকভাবে প্রতিরোধ করেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে স্ত্রী লরার দিকে তাকিয়ে ব্র্যান্ড বলেন, ‘লরা, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ পরে বিচারক মি. জাস্টিস বেনাথান জানান, ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ব্র্যান্ডের উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড হতে পারে। ৯ নভেম্বর তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তা অ্যান্ডি ফার্ফি অভিযোগকারীদের সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, খ্যাতি ও প্রভাব ব্যবহার করে ব্র্যান্ড নারীদের শোষণ করেছেন। এই রায় প্রমাণ করে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন—তিনি যত ক্ষমতাবান বা বিখ্যাতই হোন না কেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত