Ajker Patrika

সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করল পাকিস্তান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করল পাকিস্তান
সৌদি বাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ার প্রাক্কালে দেশটির বাহা অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একদল সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া নতুন সামরিক সমীকরণের মধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যকার মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনারা বহু বছর ধরেই ‘বিভিন্ন সক্ষমতায়’ সৌদি ভূখণ্ডে অবস্থান করছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের চলমান সংঘাতে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি সেনারা ‘বিভিন্ন সক্ষমতায়’ সৌদি আরবে অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

গতকাল বুধবারে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির (এমজেডিএ) মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে এক আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা কাঠামোর রূপ দেয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার করা, সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।

সিএনএন-এর সাক্ষাৎকারে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনাদের উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেনারেল শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে পাকিস্তানের বাহিনী সেখানে ইতিমধ্যেই রয়েছে। পাকিস্তানি সেনারা গত কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন সক্ষমতায় সেখানে অবস্থান করছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মক্কা চুক্তি কোনো ‘শূন্যতা’ থেকে তৈরি হয়নি; বরং পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের টেকসই কূটনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও পারস্পরিক জনসংযোগের এক সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে আঞ্চলিক রাজনীতি ও সামরিক ভারসাম্যে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলার মতো এক বড় প্রক্রিয়ায়, সোমবার এই তিন দেশ তাদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অঙ্গীকারের ব্যবহারিক বা কার্যকর বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আসা নিরাপত্তা হুমকির জবাবে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতাসমূহ অবিলম্বে রাজত্বটিতে মোতায়েন করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আরবের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে রিয়াদে অনুষ্ঠিত জোটের কৌশলগত-রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনকে ‘অনুমানভিত্তিক’ বলে বাতিল করে দিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ২ অক্টোবরে প্রকাশিত রয়টার্সের সেই প্রতিবেদনে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছিল যে, সৌদি আরবের সীমান্ত রক্ষা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সহায়তার জন্য পাকিস্তান ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে।

অবশ্য রয়টার্স এটাও জানিয়েছিল যে, ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধে সেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। তথ্য মন্ত্রণালয় এই প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা অস্বীকার করে জানায়, সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী সম্পর্কিত বিস্তারিত সামরিক তথ্য অত্যন্ত গোপনীয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত