
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেওয়ার কারিগর হিসেবে দল তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে। গতকাল মহা আড়ম্বরে অনুষ্ঠিত শপথ অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তাঁর এই অভিষেককে ঘিরে যতটা না উৎসবের মেজাজ, তার চেয়েও বেশি আলোচনা চলছে নৈতিকতা ও আদর্শের লড়াই নিয়ে।
শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত ‘নারদা স্টিং অপারেশন’-এর ভিডিও। তেহেলকা সাংবাদিক ম্যাথিউ স্যামুয়েলের সেই স্টিং অপারেশনে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্যামেরার সামনে অর্থের লেনদেন করতে দেখা গিয়েছিল।
মজার বিষয় হলো, ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময় এই ভিডিওটিকেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল বিজেপি। খোদ নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ‘দুর্নীতিবাজ’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর, বিজেপির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে সেই ভিডিওটি রহস্যজনকভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। এই ‘ডিজিটাল ক্লিনিং’ এখন বিরোধী শিবিরের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে বাগ্যুদ্ধ।
অবশ্য আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। কংগ্রেস নেতা থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি অভিযোগে তদন্ত শুরু করে বিজেপি সরকার। এর পরপরই তিনি বিজেপি যোগ দিলে রহস্যজনক ভাবে তদন্ত থেমে যায়।
শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী করার এই সিদ্ধান্তকে ‘দুর্নীতির পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিজেপি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে “ওয়াশিং মেশিন” রাজনীতি শুরু করেছে। যে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একসময় বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগে সরব ছিল, আজ তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে উৎসবে মেতেছে তারা। সিবিআই বা ইডির অভিযানের পর যারা বিজেপিতে যোগ দেন, তাঁদের সব পাপ কি অমিলিতভাবে মুছে যায়?’
রাউত প্রশ্ন তোলেন, ‘এটি কোন ধরনের নৈতিকতা? বিজেপি কোন আদর্শের কথা বলে? ইডি-সিবিআই কি এখন কেবল বিরোধী নেতাদের ভয় দেখিয়ে দলে টানার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে?’
শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণের পাশাপাশি সঞ্জয় রাউত মহারাষ্ট্র সরকারের একটি বড় ধরনের জমি কেলেঙ্কারি নিয়েও সরব হয়েছেন। মিরা ভাইন্দরে ২৫৪ একর সরকারি জমি যেভাবে বেসরকারি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, সেটিকে তিনি ‘জনগণের সম্পদ লুট’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাউত দাবি করেছেন, যদি ২৫৪ একর সরকারি জমি এভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন হয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে হাসপাতাল, স্কুল বা রাস্তা তৈরির মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য কোনো জমি অবশিষ্ট থাকবে না।
পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক গভীর আদর্শিক সংকটের দিকে ইঙ্গিত করছে। সমালোচকেরা বলছেন, গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলে নেতাদের অতীত দুর্নীতির রেকর্ড মুছে দিয়ে তাঁদের ‘পবিত্র’ করার এই সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, তারা যোগ্যতার ভিত্তিতেই শুভেন্দুকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া সেই পুরোনো ভিডিওটি তাদের পিছু ছাড়ছে না।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। বিরোধীরা যখন তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন সাধারণ মানুষের কাছে নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হবে তার প্রধান কাজ।

শ্রীলঙ্কায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দেশটির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী বৌদ্ধ ভিক্ষু পাল্লেগামা হেমরত্ন থেরোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৭১ বছর বয়সী এই ভিক্ষু শ্রীলঙ্কার আটটি পবিত্র ধর্মীয় স্থানের প্রধান রক্ষক এবং ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান অনুরাধাপুরার প্রধান পুরোহিত...
৩৪ মিনিট আগে
চলমান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। আজ রোববার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রতিক্রিয়া পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
২ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ২৫ শতাংশ মুনাফা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো হেভিওয়েট নেতাদের রাজনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে বসিয়ে বিজেপি এটাই প্রমাণ করছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের লড়াইয়ের চেয়েও রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ মেলানো ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২ ঘণ্টা আগে