
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে—এমন আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে। এমনটি ট্রাম্প চূড়ান্ত আলোচনায় যোগ দিতে এবং চুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসতে পারেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন—ইরান আগামী ২০ বছর কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রস্তাব দিয়েছে। গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় তেহরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষার বিষয়টিই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেখছি কী ঘটে। তবে আমি মনে করি, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর খুব কাছাকাছি আছি আমরা।’ কয়েক ঘণ্টা পর নেভাদার লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধ ‘খুব শিগগির শেষ হওয়া উচিত’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি লেবানন যুদ্ধবিরতি ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করে, তবে তা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশাল বিজয় হবে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তির সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ‘আর যদি তা ঘটে, তবে তেলের দাম অনেক কমে যাবে, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পাবে এবং...তার চেয়েও বড় কথা, কোনো পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটবে না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, গত সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, সেটি আগামী সপ্তাহের পর বাড়ানোর প্রয়োজন হবে কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে তেহরান একটি চুক্তি করতে চায় বলে তিনি যোগ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্বাস করা কঠিন হলেও, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। আমি মনে করি, প্রায় চার সপ্তাহের বোমাবর্ষণ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী অবরোধের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে হোয়াইট হাউসে বৈঠক হতে পারে। আর যদি ইসলামাবাদে ইরান চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে যেতে পারেন।
এদিকে, গত সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেহরান তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করেছে যে সমস্ত উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যদিকে, তেহরান তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
দুই ইরানি সূত্র জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে একটি সমঝোতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তেহরান তাদের মজুতের একটি অংশ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, যা তারা আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বুধবার তেহরানে পৌঁছান এবং কিছু ‘জটিল বিষয়ে’ অগ্রগতি অর্জন করেছেন। যদিও তেহরান বলেছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ভাগ্য এখনো নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসিম মুনিরের এই সফর দ্বিতীয় দফার আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আশা জাগিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, চুক্তি না হলে মার্কিন সেনারা পুনরায় যুদ্ধ অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন চুক্তির বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। সূত্রটি আরও যোগ করেছে, ইরান কেবল তখনই হরমুজ প্রণালি খুলবে যদি একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং জাতিসংঘ গ্যারান্টি দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে আর হামলা করবে না।

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’...
১ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় পবিত্র বাইবেলের শ্লোক পড়তে গিয়ে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি কাল্পনিক সংলাপ আওড়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ। গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রার্থনা সভায় তিনি বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল ২৫: ১৭’ শ্লোকটির কথা...
১ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার...
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে চীন। ওয়াশিংটন যখন তেহরানকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এ বিষয়টি সামনে এল। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী...
১ ঘণ্টা আগে