Ajker Patrika

সৌদি আরব যাচ্ছে তুরস্কের সেনারা, যেসব কাজ করবে তারা

মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যাচ্ছেন তুরস্কের সেনারা, যেসব কাজ করবেন তাঁরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ০৯
মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরব যাচ্ছেন তুরস্কের সেনারা, যেসব কাজ করবেন তাঁরা
ন্যাটো মহড়ায় অংশ নেওয়া তুরস্কের উভচর বাহিনীর এক সদস্য। ছবি: এএফপি

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের হামলা বাড়তে থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবে অতিরিক্ত সেনা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন তুরস্কের কয়েকজন কর্মকর্তা।

এর আগে, সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব জানায়, তারা মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় নিজেদের যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবে দ্রুত মোতায়েনের জন্য ‘সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা’ পাঠানো হবে।

আঙ্কারার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত তুরস্কের দুই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনা সুরক্ষায় তুরস্ক গত বছর থেকেই সৌদি আরবে কারিগরি দল, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে।

তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আঙ্কারা এবার আরও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, কারিগরি কর্মী, জরুরি সাড়া দেওয়ার দল এবং তাদের সঙ্গে থাকা যুদ্ধসক্ষম সেনা সদস্য সৌদি আরবে পাঠাবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১০ সালে সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে হওয়া সামরিক প্রশিক্ষণ চুক্তি অনুযায়ী কারিগরি কাজে সহায়তার জন্য আঙ্কারা সীমিতসংখ্যক সেনা সৌদি আরবে পাঠাতে পারে। তবে এর বাইরে আরও সেনা মোতায়েন করতে হলে তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটিও আমাদের অনুমোদন করতে হবে। তবে আমরা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিলটিকে অগ্রাধিকার দিতে পারি।’

দ্বিতীয় এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবকে শুধু প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আঙ্কারা অন্তত একটি কমান্ড ঘাঁটিতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, ‘কমান্ড ঘাঁটি প্রকল্পের জন্য কারিগরি দলগুলো পুরো সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে কাজ করেছে। মক্কা কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় প্রকল্পটির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল।’

কর্মকর্তারা জানান, তুরস্কের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার পর সৌদি আরবে তুর্কি বিশেষ বাহিনীর সীমিতসংখ্যক সদস্য পাঠানো হতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে এই অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত আলাদা কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, পার্লামেন্টের অনুমোদন পাওয়ার পর তুর্কি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবে অভিজ্ঞ পাইলট ও বিমান মোতায়েন করবে। তবে কতজন পাইলট এবং কতটি বিমান পাঠানো হবে, তা জানানো হয়নি। এসব বাহিনীর কাজ হবে ইয়েমেনে থাকা হুতিদের ছোড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা।

তুরস্কের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিপুলসংখ্যক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছি না। ইয়েমেনে সরাসরি হস্তক্ষেপেরও কোনো পরিকল্পনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঙ্কারা এখনো মনে করে, আগামী কয়েক মাসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হতে পারে।’

রিয়াদ, পবিত্র দুই শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সুরক্ষা

তুর্কি সামরিক বাহিনী সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় অংশের নিরাপত্তায় সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তারা রিয়াদ ও দেশটির পবিত্র শহরগুলোর প্রতিরক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে। সৌদি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি বাহিনী সৌদি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একটি যৌথ সমন্বয় ঘাঁটিতে কাজ করবে। তবে তুর্কি কমান্ড ইউনিটের নিজস্ব একটি আলাদা ঘাঁটিও থাকবে।

তুরস্কের সামরিক সদস্য ও কারিগরি প্রতিরক্ষা সহায়তা দলগুলো সৌদি আরবের একাধিক স্থানে পরিচালিত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। তুর্কি প্রেসিডেন্সির পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ও শিক্ষাবিদ মুরাত ইয়েসিলতাশ বলেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তুরস্কের গ্র্যান্ড ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আলোচ্যসূচিতে মক্কা চুক্তি বা সৌদি আরবে সেনা মোতায়েনের অনুমোদনের বিষয়টি তোলা হতে পারে।

তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, তুরস্কের প্রাথমিক সহায়তা সৌদি আরবের মাটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা অথবা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও পুনরুদ্ধার সক্ষমতা মোতায়েনের মধ্যেই সীমিত থাকার সম্ভাবনা বেশি। ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধরত সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা কম। তিনি লিখেছেন, ‘এই পদ্ধতির মাধ্যমে তুরস্ক রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। একই সঙ্গে তুরস্ক যে ঝুঁকি নেবে এবং সামরিকভাবে যতটা সম্পৃক্ত হবে, সেটিও নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় রাখা সম্ভব হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত