Ajker Patrika

২৬ আফগান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের, তালেবান বলছে—নিহতরা বেসামরিক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
২৬ আফগান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের, তালেবান বলছে—নিহতরা বেসামরিক
পাকিস্তানের হামলায় নিহত এক ব্যক্তির মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন আফগানরা। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় আবার নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান এই হামলায় ২৬ জন টিটিপি বা পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে আফগান সরকারের দাবি, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশুসহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

আজ বুধবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তজুড়ে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) আস্তানা লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, এই অভিযানে ২৬ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে এবং তাদের ৪টি আস্তানা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি গোপন আস্তানা ও একটি গোলাবারুদের মজুত রয়েছে।

আতাউল্লাহ তারার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জবাবে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গত ৯ জুন মুসা দারা এলাকায় আধাসামরিক বাহিনী ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির একটি চৌকিতে হামলা (যেখানে ৬ জন সেনা নিহত হন), ২ জুন উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা এবং ৯ মে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নু এলাকার একটি থানায় আত্মঘাতী বোমা হামলা।

পাকিস্তানের কাউন্টার-টেররিজম কৌশল ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’-এর অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের হামলাকে ‘অপরাধ ও আগ্রাসন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এক্সে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার শেষ রাতে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান আফগানিস্তানের কুনার, খোস্ত এবং পাকতিকা প্রদেশে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করেছে। এই হামলায় ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধসহ মোট ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১৪ জন নারী ও শিশু গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, স্পেরা জেলার একটি বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে একই পরিবারের ৯ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। পার্শ্ববর্তী পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় ৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। পাকিস্তান আফগানিস্তানে হামলা চালানোর পর আফগান বাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে পরিস্থিতি যুদ্ধে রূপ নেয়। পরবর্তীতে গত মার্চ মাসে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনায় তা ভেঙে পড়ে। গত কয়েক সপ্তাহের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর মঙ্গলবারের এই বিমান হামলা দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনাকে আবারও চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল।

ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আফগান তালেবান সরকার তাদের মাটিতে পাকিস্তানি তালেবান বা টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুলের তালেবান প্রশাসন এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করে দাবি করেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট তাদের নিজস্ব সমস্যা এবং এর জন্য আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতিসংঘের গত মে মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই এই দুই দেশের সীমান্ত সংঘাতের কারণে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত