Ajker Patrika

প্রাচীন মিসরে রাজাদের সঙ্গে সেবকদেরও বলি দেওয়ার নতুন প্রমাণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
প্রাচীন মিসরে রাজাদের সঙ্গে সেবকদেরও বলি দেওয়ার নতুন প্রমাণ
প্রাচীন মিসরের একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শোভাযাত্রার চিত্রসম্বলিত ফ্রেস্কো। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

প্রাচীন মিসরের রাজাদের মৃত্যুর পর তাঁদের সেবক, কর্মকর্তা ও কারিগরদেরও হত্যা করে সমাধিস্থ করা হতো—বিতর্কিত এই ধারণার পক্ষে নতুন প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। প্রাচীন কঙ্কালের খুলিতে মৃত্যুর সময়ের কাছাকাছি সময়ে সৃষ্ট গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার পর এই ধারণা আরও জোরালো হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. রোজলিন ক্যাম্পবেল। ‘ফ্রন্টেয়ার্স ইন এনভায়রনমেন্টাল আর্কিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় তিনি মিসরের আবিদোসের কাছে উম্ম এল-কাবের রাজকীয় সমাধিক্ষেত্র থেকে পাওয়া ৪৬টি খুলির পরীক্ষা করেন।

উম্ম এল-কাব এলাকায় মিসরের প্রথম রাজবংশের শাসকদের সমাধি ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া-স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার আশপাশে রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির কবরও পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নারী, সিল বহনকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শক ও কারিগর।

১৯২০-এর দশকে ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্লিন্ডার্স পেট্রি এসব কবর খনন করেছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, রাজাদের মৃত্যুর পর তাঁদের অনুগত ব্যক্তিদের মানববলির অংশ হিসেবে হত্যা করা হয়েছিল। তবে সে সময় কঙ্কালে আঘাতের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় পরবর্তী গবেষকেরা এ ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের কেউ কেউ মনে করেছিলেন, ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবে মারা যাওয়ার পর রাজাকে সমাহিত করার সময় তাঁদেরও সেখানে পুনরায় সমাধিস্থ করা হয়েছিল।

ক্যাম্বেল কিং জের, কিং জেট ও রানি মেরনেইথের সমাধির আশপাশের কবর থেকে পাওয়া খুলিগুলো পুনরায় পরীক্ষা করেন। ৪৬ টির মধ্যে ১৮ টিতেই সম্ভাব্য প্রাণঘাতী আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি খুলিতে চোখের অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ক্ষতও রয়েছে।

গবেষকের মতে, এসব আঘাত সম্ভবত মৃত্যুর সময়ের কাছাকাছি ঘটেছিল। তবে আঘাতগুলো রাজদণ্ড বা গদার আঘাতে হয়েছে—এমন প্রমাণ নেই; বরং কাঠ বা হরিণের শিংয়ের মতো চওড়া ও সমতল বস্তু দিয়ে আঘাত করার সম্ভাবনাই বেশি।

ক্যাম্বেল সতর্ক করে বলেছেন, সব সেবককে যে বলি দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। নমুনাও তুলনামূলকভাবে ছোট।

গবেষকেরা জানান, এই ধরনের পার্শ্ববর্তী কবরের সংখ্যা দ্বিতীয় রাজবংশের শুরুতে দ্রুত কমে যায় এবং একসময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে মৃত রাজাদের সেবা করার জন্য জীবিত মানুষকে হত্যা না করে তাঁদের প্রতীকী মূর্তি ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।

মিসরের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সালিমা ইকরাম বলেন, মানববলির ধারণাটি নতুন নয়, তবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই সমাধিগুলোর মানবদেহ পরীক্ষা এই গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত