Ajker Patrika

হাঙ্গেরিতে অরবানের পতনে কপাল খুলল ইউক্রেনের, পাচ্ছে ১০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হাঙ্গেরিতে অরবানের পতনে কপাল খুলল ইউক্রেনের, পাচ্ছে ১০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ
ইইউ নেতাদের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। ছবি: ব্লুমবার্গ

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলার) ঋণ অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বহু প্রতীক্ষিত এই ঋণ ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে ইউক্রেনের জন্য প্রধান বাধা হিসেবে ছিল ভিক্টর অরবানের নেতৃত্বাধীন দেশ হাঙ্গেরি। কিন্তু সম্প্রতি হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে অরবানের দলের ভরাডুবি হওয়ায় বাধাটি দুর্বল হয়ে যায়। হাঙ্গেরির সরকার দেশটির ভেটো প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এই অর্থ সহায়তার পথ খুলে গেছে।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, বুধবার (২২ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতেরা এক বৈঠকে ঋণ ছাড়ের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন। বর্তমানে ইইউ-এর পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বে থাকা সাইপ্রাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর কিছুক্ষণ আগে ইউক্রেনও ঘোষণা দেয়, তারা ক্ষতিগ্রস্ত দ্রুজবা পাইপলাইন মেরামত করেছে। এই পাইপলাইনে মূলত রাশিয়ার সরবরাহ করা তেল হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় পৌঁছায়।

এদিকে ইউক্রেনকে ঋণ অনুমোদনের পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজেও সম্মতি দিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূতেরা। এই ঋণটি ইউক্রেনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির সরকারি তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই অর্থ সহায়তা দেশটির সামরিক কার্যক্রম এবং সরকারি ব্যয় স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্র কার্যত তাদের সহায়তা বন্ধ করে দিলে ইউক্রেনের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

এদিকে আগামী মাসে হাঙ্গেরির দায়িত্ব নিতে যাওয়া পিটার ম্যাগিয়ার দেশটিকে আবারও ইউরোপীয় মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ নিষেধাজ্ঞা ও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা সহজ হবে।

উল্লেখ্য, ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ইইউ-এর ভেতরে অরবানের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত