
ইরান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে চীন। আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বেইজিংকে এক কূটনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। একদিকে ওয়াশিংটনকে সামলানো, অন্যদিকে তেহরানকে চটানো যাবে না—এমন এক ভারসাম্য রক্ষার নীতি নিয়েছে দেশটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে হতে যাওয়া এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে বেইজিংয়ের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করে দিচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে চীন তাদের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায়। কারণ, তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।
যুদ্ধের বিষয়ে চীনের এই পরিমিত দৃষ্টিভঙ্গি তাদের পর্দার আড়ালে এমন এক প্রভাব তৈরিতে সাহায্য করেছে যে, গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় ইরানকে রাজি করানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিংকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
উন্নয়নশীল বিশ্বে চীনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কাজ করা স্বাধীন সংস্থা চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার বলেন, ‘আপনারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বারবার বলতে শুনেছেন যে, চীন কীভাবে ইরানিদের সঙ্গে কথা বলেছে। এটি তাদের আলোচনার টেবিলে সরাসরি না বসালেও অন্তত সেই কক্ষের ভেতরে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।’
রয়টার্সকে এই বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প লেনদেনে বিশ্বাসী এবং স্তুতি পছন্দ করেন—এই বিষয়টি মাথায় রেখে চীন আগামী সম্মেলনে বাণিজ্য এবং তাইওয়ান ইস্যুতে তাদের লক্ষ্যগুলো হাসিল করতে চায়। বেইজিংয়ের প্রভাবশালী দৃষ্টিভঙ্গি হলো—তাঁকে তুষ্ট করা, লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এই শীর্ষ সম্মেলনের আগে অবশ্য কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রকাশ করেনি। গত আট বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ১৪ ও ১৫ মে এই সফর অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ চীনের জন্য এক ক্রমবর্ধমান হুমকি। তাই বেইজিং একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের আচরণের কড়া সমালোচনা থেকে বিরত থাকছে, যাতে একবার স্থগিত হওয়া এই সম্মেলনটি এবার নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হতে পারে।
গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং এই সংকট নিয়ে তাঁর নীরবতা ভেঙে চার দফার শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
‘পুরো সভ্যতা এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব’—ইরানকে দেওয়া ট্রাম্পের এমন হুমকির জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং কোনো নিন্দা জানাননি। তিনি শুধু বলেছেন, চীন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রায় ৩০টি কল ও বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে বিশেষ দূত ঝাই জুন পাঁচটি উপসাগরীয় ও আরব দেশের রাজধানী সফর করেছেন। সংঘাতপূর্ণ আকাশপথ এড়াতে সড়কপথে ভ্রমণের সময় ঝাই জুন বিমান হামলার সাইরেনও শুনেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে সি তাঁর শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এটি একদিকে যেমন ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার প্রয়াস, তেমনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি চাপও বটে।
এদিকে, চীনের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক কুই শৌজুন বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছে তা দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে চীনের ‘তৎপরতা ও হস্তক্ষেপের কৌশলগত ধরনে পরিবর্তন আসছে।’
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, চীনের চেয়ে ইরানেরই চীনকে বেশি প্রয়োজন। ফলে ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনকে সুরক্ষিত রেখেই বেইজিং যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিতে পারছে। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো ড্রু থম্পসন বলেন, ‘বেইজিংয়ের আদর্শ লক্ষ্য হলো ইরানের মতো পশ্চিম-বিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে শর্তহীন সম্পর্ক বজায় রাখা, আবার একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এক ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানো।’
ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চীনের ভূমিকা থাকলেও তাদের প্রভাব সীমিত। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কথা বাস্তবায়নের জন্য চীনের পর্যাপ্ত সামরিক উপস্থিতি নেই। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের প্যাট্রিসিয়া কিম মনে করেন, চীনের এই অতি-তৎপরতা কূটনীতির চেয়ে নাটকীয়তা বেশি।
তিনি বলেন, ‘ইরানিরা চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে বড় করে দেখাতে চায় এবং বেইজিংকে যুদ্ধবিরতির জামিনদার হতে অনুরোধ করেছে। কিন্তু বেইজিং এমন কোনো দায়িত্ব নিতে মোটেও আগ্রহী নয়। তারা বরং একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সব চাপ সহ্য করছে।’
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্মেলনে চীন হয়তো বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে একমত হতে পারে—যা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। এটি ইতিহাসের বৃহত্তম অর্ডার হতে পারে। এর পাশাপাশি বড় ধরনের কৃষিপণ্য কেনার প্রতিশ্রুতিও আসতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকটি খুব নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এআই পরিচালনা, বাজার সুবিধা বা অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার মতো উচ্চাভিলাষী বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ স্কট কেনেডি বলেন, ‘চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বড় ধরনের বা গ্র্যান্ড বার্গেইন চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়।’

ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধান শত্রু কে হতে যাচ্ছে—তা নিয়ে এরই মধ্যে ভবিষ্যদ্বাণী শুরু হয়েছে। ইরানের পর ইসরায়েলের প্রধান শত্রু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্কের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইসরায়েলি বিশ্লেষক বোয়াজ গোলানি দেশটির দৈনিক মাআরিভে প্রকাশিত এক নিবন্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ‘পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির’...
১ ঘণ্টা আগে
ধর্মীয় প্রার্থনা সভায় পবিত্র বাইবেলের শ্লোক পড়তে গিয়ে জনপ্রিয় হলিউড সিনেমা ‘পাল্প ফিকশন’-এর একটি কাল্পনিক সংলাপ আওড়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ। গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক বিশেষ প্রার্থনা সভায় তিনি বাইবেলের ‘ইজেকিয়েল ২৫: ১৭’ শ্লোকটির কথা...
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরানকে কোনো অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে চীন। ওয়াশিংটন যখন তেহরানকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে রাজি করাতে চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক তখনই এ বিষয়টি সামনে এল। স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী...
১ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে—এমন আশাবাদ আরও জোরালো হয়েছে। এমনটি ট্রাম্প চূড়ান্ত আলোচনায় যোগ দিতে এবং চুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসতে পারেন।
২ ঘণ্টা আগে