এখন বেশির ভাগ মা মনে করেন, বাদাম ও খেজুর হচ্ছে শিশুদের জন্য উৎকৃষ্ট খাবার। তাঁদের ধারণা, এগুলো না খেলে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হবে। তাই কিছু পরিমাণ খেজুর ও বাদাম শিশুদের প্রতিদিন খাওয়াতেই হবে। তবে বাদাম ও খেজুর খাবার হিসেবে ভালো হলেও এই ভাবনার জোরালো কোনো ভিত্তি নেই।
খেজুর ও বাদাম খাওয়ানোর প্রক্রিয়া বেশ বিচিত্র। অনেকে ৪ থেকে ৫ ধরনের বাদাম একসঙ্গে গুঁড়া করে খাওয়ান। অনেকে শুকনো খেজুর গুঁড়া করে খাওয়ান বা নরম খেজুর ব্লেন্ড করে খাওয়ান। সুজির মধ্যে খেজুর কিংবা বাদামও মিশিয়ে দিচ্ছেন অনেকে, আবার কেউ কেউ সাগুর মধ্যে খেজুর ও বাদাম মিশিয়ে খাওয়াচ্ছেন। খেজুর, বাদাম এবং বিভিন্ন রকমের শস্য দিয়ে একসঙ্গে খিচুড়ি বানিয়েও খাওয়াচ্ছেন অনেকে। যদিও অনেক মায়ের চাওয়া, শিশুদের প্রতিটি খাবারেই যেন খেজুর ও বাদামের উপস্থিতি থাকে।
বাদাম ও খেজুর না খাওয়ালে শিশু মেধাবী হবে না, সেটা ভাবা ঠিক নয়। খেজুর ও বাদাম খাওয়ার সঙ্গে মেধাবী হওয়ার প্রত্যক্ষ কোনো যোগাযোগ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। আপনার শিশুর জন্য উপযোগী হচ্ছে বাড়ির খুব স্বাভাবিক খাবারগুলো। বাড়িতে তৈরি খাবারগুলো সুষম খাবার হিসেবে খাওয়ালেই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
বাদাম ও খেজুর—দুটোই দামি খাবার, যা সবার পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। দামি খাবার মানেই সেটা সবচেয়ে ভালো, সেটিরও কোনো প্রমাণ নেই। যেকোনো জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করা হয় সেই জিনিসের জোগানের ওপর ভিত্তি করে। একসময় বিদেশি ড্রাগন ফল অনেক দামি ছিল। দেশে এই ফলের উৎপাদন বেশি হওয়ার কারণে এখন দাম কমেছে এবং প্রায় সবার নাগালের মধ্যে। তবে হ্যাঁ, বাদাম ও খেজুরের কিছু গুণ রয়েছে। নিয়মিত খাওয়ালে সেসব গুণ শরীরের কাজে লাগে।
বাদাম
এটি প্রোটিনজাতীয় খাবার। প্রোটিনের সঙ্গে অনেক ধরনের ভিটামিন ও মিনারেলও পাওয়া যায়। কিন্তু বাদামের প্রোটিনের মান সেকেন্ড ক্লাস। এতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে না। বাদামের প্রোটিনের চেয়ে ডিম বা মাছ-মাংসের প্রোটিন অনেক উন্নত মানের, এগুলো ফার্স্ট ক্লাস কিংবা প্রথম শ্রেণির প্রোটিন।
আবার বাদামে যে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে, সেগুলোও আমরা প্রায় সব ধরনের শাকসবজি ও ফলমূল থেকে পাওয়া যায়। তবে বাদাম ও দুধ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। আমরা বাদামের ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলগুলো দুধ থেকেই পেতে পারি। শিশুদের বাদামের চেয়ে দুধ খাওয়ানো সহজ।
তবে বাদামে থাকা ভালো চর্বি অথবা গুড ফ্যাট অনেক উপকারী। বাদামের এই গুড ফ্যাটও আমরা বিভিন্ন মাছ থেকে পেতে পারি; বিশেষ করে সামুদ্রিক কিংবা যেকোনো তৈলাক্ত মাছ থেকে। শিশুদের বাদাম খাওয়ানোর চেয়ে মাছ খাওয়ানো সহজ। সে ক্ষেত্রে শিশু ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিনের পাশাপাশি গুড ফ্যাট (ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড) এবং অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেলও পাবে।
৬ মাস বয়সের পরই শিশুর খাবারে বাদাম দিলে কিছু বিপত্তি ঘটতে পারে। বাদাম গুঁড়া করে দিলেও কিছু দানা থাকতে পারে, যা শিশুর খাদ্য বা শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে অথবা দুর্ঘটনাবশত ফুসফুসের নালিতে ঢুকতে পারে। তাই শিশু যখন খাবার ভালোমতো চিবিয়ে খাওয়া শিখবে, তখন হালকা খাবার হিসেবে দিনে একবার বাদাম খাওয়াতে পারেন। বাদামের পরিবর্তে বাদাম দিয়ে তৈরি খাবারও খাওয়ানো যাবে। বাদাম চিবিয়ে খেলে শিশু বাদাম থেকে পরিপূর্ণ পুষ্টি পাবে।
খেজুর
অন্যান্য ফলের মতো খেজুর একটি বিদেশি ফল। এতে আয়রন, জিংক, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, বি, সিসহ অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। পরিমাণে কিছুটা কমবেশি করে প্রায় একই উপাদান কলাতেও পাওয়া যায়। খেজুর ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ভালো উৎস।
কলা ছাড়া অন্যান্য ফল থেকেও খেজুরের উপকারিতা পাওয়া যায়। মানভেদে খেজুরের দাম অনেক বেশি। ভালো মানের খেজুর আমাদের দেশে খুব কম আসে। তাই খেজুরের পরিবর্তে শিশুকে কলা বা অন্যান্য সহজলভ্য ফল খাওয়াতে পারেন।
খেজুর শর্করাসমৃদ্ধ খাবার। এর গ্লাইসিমিক ইনডেক্স ও গ্লাইসিমিক লোড অনেক বেশি। শিশুর খাবারে এক বেলা একটু বেশি খেজুর যোগ করলে তাদের অন্যান্য খাবার খাওয়ার
প্রতি আগ্রহ কমে যাবে। কিন্তু চিনিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে শিশু অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হবে। তাই তাদের সব খাবারে খেজুর না দিয়ে ফল হিসেবে দিনে একবার পরিমিত খেজুর খেতে দিন।
শিশুকে খেজুর ও বাদাম খাওয়াতে তেমন নিষেধাজ্ঞা নেই। এগুলো খাবার হিসেবে ভালো। তবে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য
এগুলোকে অপরিহার্য নয়। শিশুর বয়স, ওজন এবং উচ্চতা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার দিতে হবে। তবে মনে রাখা দরকার, বাদাম
গুঁড়া করলে আর খেজুর ব্লেন্ড করলে এগুলোর গুণ অনেকটা কমে যায়। এগুলো খাওয়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

ইবোলা অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক এবং প্রাণঘাতী একটি রোগ। এটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। মূলত তিন প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস মানুষের মধ্যে প্রাদুর্ভাব ঘটায়। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাব ‘বুন্দিবুগিও’ নামক একটি সুনির্দিষ্ট প্রজাতির ভাইরাসের কারণে হচ্ছে।
২০ ঘণ্টা আগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল আর অন্য পাঁচ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
১ দিন আগে
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হিসেবে ‘জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
১ দিন আগে
মাত্র ৬২ দিনে সংক্রামক রোগ হাম ও এর উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে চার শ ছাড়িয়ে গেছে। গত কয়েক দশকে এত অল্প সময়ে সংক্রামক কোনো রোগে এত বেশি শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিশ্বেই সম্পূর্ণ নতুন রোগ করোনা সংক্রমণের শুরুর প্রথম নয় সপ্তাহে (৬৩ দিন) দেশে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় সোয়া তিন শ মানুষের।
২ দিন আগে