Ajker Patrika

অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্পর্ক নেই—বড় গবেষণায় দাবি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ০৪
অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্পর্ক নেই—বড় গবেষণায় দাবি
ছবি: সংগৃহীত

অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার (আলট্রা-প্রসেসড ফুড) খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, এই ফলাফল দিয়ে সব ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাবারকে নিরাপদ বলা যাবে না। বিশেষ করে কোন খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, তা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত গবেষণাটিতে ৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি বয়স্ক মানুষের স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাস প্রায় ২৩ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে গবেষণায় অংশ নেওয়ার সময় তাঁদের বয়স ছিল ৫০ থেকে ৭১ বছর এবং কেউই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন না। ২০১৮ সালে গবেষণা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার অংশগ্রহণকারীর কোলোরেক্টাল ক্যানসার শনাক্ত হয়।

কোলোরেক্টাল ক্যানসার মূলত বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসারকে বোঝায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবারের সামগ্রিক গ্রহণমাত্রার সঙ্গে এই ক্যানসারের ঝুঁকির উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই। তবে খাবারের ধরন অনুযায়ী ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেছে।

গবেষণায় ক্যালসিয়াম, আঁশ ও পূর্ণশস্যের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত কিছু খাবার, যেমন—সিরিয়াল, রুটি ও এমনকি হিমায়িত মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের তুলনামূলক কম হারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, কোল্ড কাটস ও হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক দেখা গেছে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের গবেষক এরিক্কা লফফিল্ড বলেন, ‘অতি প্রক্রিয়াজাত’ শব্দটি কোনো খাবারে কতটা আঁশ, প্রোটিন, চিনি কিংবা সোডিয়াম রয়েছে, তা বিবেচনা করে না। তাই শুধু প্রক্রিয়াজাতকরণের মাত্রা দিয়ে খাবার স্বাস্থ্যকর কি না, তা নির্ধারণ করা নির্ভরযোগ্য নয়।

গবেষণায় যুক্ত ছিলেন না এমন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ও ক্যানসার মহামারিবিদ অ্যান্ড্রু চ্যানের মতে, অতি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ক্যানসারের সম্পর্ক জটিল। বর্তমান শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। খাবারের নির্দিষ্ট উপাদান, কৃত্রিম সংযোজক কিংবা অতিরিক্ত চিনি ও লবণ ক্যানসারের ঝুঁকিতে কী ভূমিকা রাখে, তা জানতে আরও গবেষণা দরকার।

তবে তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার বাড়ার উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে নতুন করে এ ক্যানসার শনাক্তের হার প্রতিবছর প্রায় ৩ শতাংশ বাড়ছে। বয়স্কদের মধ্যে রোগটির প্রকোপ কমলেও তরুণদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, কীটনাশক ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের সংস্পর্শকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন গবেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের সঙ্গে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের সম্পর্কের বিষয়ে আগের গবেষণায়ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাংস সংরক্ষণের জন্য ধূমায়ন, লবণ প্রয়োগ ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। লাল মাংসে থাকা হিম আয়রনও প্রদাহ ও ডিএনএর ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

এ অবস্থায় আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার এবং চিনিযুক্ত পানীয়, লাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের ব্যবহার সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বেশি করে ফলমূল, শাকসবজি ও পূর্ণশস্য খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো, কোনো একটি খাবারকে এককভাবে দায়ী না করে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বাড়িয়ে প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া পুষ্টিকর খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত