
সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশের ধারণা, শুধু বড়রাই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা সঠিক নয়। শিশু-কিশোররাও এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, এ সমস্যা উদ্বেগজনকভাবে দিন দিন বাড়ছে। নতুন একটি গবেষণা বলছে, গত ২০ বছরে শিশু-কিশোরদের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটের শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশকারী সাময়িকী দ্য ল্যানসেট চাইল্ড অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ গত বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। চীন ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক গবেষণাটি করেছেন। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন চীনের হ্যাংঝৌয়ের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের দ্য সেকেন্ড অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটালের স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড. জিয়ালি ঝৌ।
গবেষণা নিবন্ধের রচয়িতাদের একজন ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের দ্য সেকেন্ড অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটালের স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড. পিয়েগ সং। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘২০০০ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ ছেলে শিশু-কিশোর এবং ৩ শতাংশ মেয়ে শিশু-কিশোর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ছিল। ২০২০ সালে এই হার বেড়ে যথাক্রমে সাড়ে ৬ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।’ এক ইমেইলে তিনি আরও বলেন, আশার কথা হলো, আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ এবং আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে এই এই ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে, বিশেষ করে শিশু-কিশোরের ওজন ও পুষ্টির দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে।’
শিশু-কিশোরদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে অবস্থিত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বেথ ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিকেল সেন্টারের সহকারী অধ্যাপক ড. মিংইউ ঝ্যাং সিএনএনকে বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হচ্ছে, তাদের পরবর্তী সময়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর শীর্ষ কারণ হৃদ্রোগ।
ড. পিয়েগ সং বলেন, শিশু-কিশোররা নানা কারণে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে শিশু বয়সে অতিরিক্ত ওজন সবচেয়ে বড় কারণ। কারণ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, প্রদাহ ও শরীরে রক্তপ্রবাহের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের যোগসূত্র রয়েছে। খাদ্যাভ্যাসও উচ্চ রক্তচাপের একটি কারণ। অতিরিক্ত সোডিয়াম (লবণ) গ্রহণ এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার এ সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভালোভাবে ঘুম না হওয়া, মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপের পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও শিশু-কিশোররা এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে।
এই গবেষক বলেন, এখনকার অনেক শিশু আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় কম খেলাধুলা করে, সক্রিয় থাকে। তাদের সিংহভাগ সময় কাটে অলসভাবে, মোবাইল ফোন কিংবা টেলিভিশনের স্ক্রিনে নজর রেখে। এ ছাড়া পরিবেশদূষণও শিশু-কিশোরদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়াচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের সহকারী অধ্যাপক ড. মিংইউ ঝ্যাংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গবেষণায় জানা গেছে, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায়ই যদি শিশু পিএফএএস (পারফ্লোরোঅ্যালকাইল অ্যান্ড পলিফ্লোরোঅ্যালকাইল) রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে আসে, তাহলে তার জন্মের পর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পিএফএএস হলো মানবসৃষ্ট প্রায় ১৫ হাজার ধরনের রাসায়নিক যৌগ, যেগুলো ক্যানসার, এন্ডোক্রাইন-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য জটিলতা ও শিশুর দৈহিক-মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। পিএফএএসকে ‘চিরকালীন রাসায়নিক’ও বলা হয়। কারণ, এসব রাসায়নিক মাটির সঙ্গে মেশে না এবং এগুলো কখনোই পুরোপুরি ভাঙে না।

ঈদের আমেজে নানা পদের মুখরোচক খাবার খাওয়া হবে। সঙ্গে হঠাৎ গরম এবং হঠাৎ ঠান্ডা আবহাওয়া। এই কারণে অনেকের রক্তচাপ কিংবা ব্লাড প্রেশার হুট করে বেড়ে যেতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫১২ শিশু। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারির ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগে এক ইবোলার সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আবার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। সাধারণ কোনো জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়, এটি চরম সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হেমোরেজিক ফিভার কিংবা রক্তক্ষরণকারী জ্বর। একজন অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে সাম্প্রতিক পরিস্থিত....
৮ ঘণ্টা আগে
ঈদ মানেই আনন্দের জোয়ার। এই ঈদে টেবিলে থাকে গরু ও খাসির মাংসের নানা পদের বাহারি রান্না। কিন্তু মজার এসব খাবার খাওয়ার জন্য দাঁত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শক্ত হাড় বা মাংস চিবানোর সম্পূর্ণ কাজ দাঁতের মাধ্যমে হয়। তবে খেতে গিয়ে দাঁতের কোনায় আটকে থাকা মাংসের টুকরো ঈদের আনন্দের মাঝে হুট করে ডেকে...
৮ ঘণ্টা আগে