
শহুরে জীবনের প্রতি কারও থাকে আকর্ষণ, আবার কারও প্রয়োজন। অনেকে জীবনের তাগিদে শহরে ছুটে আসছে। আবার শহরে থাকা অনেকে পালাতে চাইছে এই ব্যস্ত জীবন ছেড়ে। যতই দিন যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে শহরায়ন-নগরায়নের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। তবে শহর ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ ও সামর্থ্য খুব কম মানুষেরই থাকে। এদিকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, উন্নত জীবনের নামে এই দ্রুতগতির শহরায়ন মানুষের জন্য যতটা না ইতিবাচক, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতির হয়ে উঠছে।
মার্কিন সাপ্তাহিক সংবাদ ম্যাগাজিন নিউজউইক ইংল্যান্ডের লাফবোরো ইউনিভার্সিটি ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটির বিবর্তনবাদ নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের এ তথ্য তুলে ধরেছেন।
আধুনিক শহরে বসবাস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নাও হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেন, ‘দ্রুত শিল্পায়ন’ এত দ্রুত মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন করছে যে আমাদের জৈবিক গঠন তা অনুসরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ব্যস্ত, জনাকীর্ণ ও দূষিত শহরে বসবাস এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের অভাব মানুষের মূল জৈবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে, যা বেঁচে থাকার ও প্রজননের জন্য অপরিহার্য।
গবেষকদের মতে, শহরে বসবাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে অ্যালার্জি এবং অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি, জ্ঞানগত ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, যা মানসিক বিকাশ ধীর এবং মানসিক বয়স দ্রুত হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে, আর শারীরিক শক্তি ও ধৈর্য্যও কমতে পারে।
এছাড়াও তাঁরা বলছেন, এটি প্রজনন স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যার ফলে বন্ধ্যাত্ব ও শুক্রাণু কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রজনন হার কমছে আর দীর্ঘস্থায়ী রোগের সংখ্যা বাড়ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। যার ফলে এ ধরনের প্রভাবের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।
লাফবোরো ইউনিভার্সিটির মানব বিবর্তনীয় শারীরবিদ্যার সিনিয়র লেকচারার ড্যানি লংম্যান বলেন, মানব ইতিহাসের অধিকাংশ সময় আমাদের জৈবিক কাঠামো প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শিল্পায়নের ফলে আমাদের চারপাশের পরিবেশ এত দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে যে আমাদের দেহ তা পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেনি। তিনি এটিকে ‘পরিবেশগত অমিল তত্ত্ব’ (Environmental Mismatch Hypothesis) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
লংম্যান বলেন, এই গবেষণায় পরীক্ষাগার, পরীক্ষা, ক্ষেত্র গবেষণা এবং জনসংখ্যা গবেষণার ফলাফলগুলো একত্রিত করা হয়েছে। নতুন তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তে গবেষকেরা নৃবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, শারীরবিদ্যা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য পর্যালোচনা করেছেন, যাতে বোঝা যায় আধুনিক পরিবেশ মানুষের শরীরকে কীভাবে প্রভাবিত করে। তাদের ফলাফলে শহরে বসবাসের স্বল্পকালীন ও দীর্ঘকালীন উভয় প্রভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
শহরে প্রতিদিনের শব্দ, ভিড়, যানবাহন, বাড়তে থাকা প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রকৃতির সঙ্গে সীমিত সংযোগ শরীরের চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সবসময় সক্রিয় রাখে। এর ফলে উদ্বেগ বেড়ে যেতে পারে, ঘুম বিঘ্নিত হতে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের স্থায়ী চাপ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, হৃদয়ে চাপ, জ্ঞানগত হ্রাস, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় ভারসাম্যহীনতা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের হ্রাসের কারণ হতে পারে।
লংম্যান বলেন, দূষিত, গোলমালপূর্ণ ও ভিড়পূর্ণ শহুরে পরিবেশ শারীরিক সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে ধৈর্যশীলতাসম্পন্ন কাজে। ব্যস্ত শহরের সড়কে যাতায়াত কেবল অসুবিধাজনক নয় বরং এর বাস্তব জৈবিক প্রভাবও থাকতে পারে।
গবেষকেরা মনে করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির এবং শহরের সম্প্রসারণের কারণে মানুষ শিগগিরই প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ফিরতে পারবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক শহুরে জীবন ও আমাদের জৈবিক গঠনের মধ্যে অমিল বোঝা আজকের শহরগুলোর স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর না করে পানি, শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু ওষুধ বা সিরিঞ্জ দিয়ে
১৫ ঘণ্টা আগে
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৪২ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১২৫ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
দেশের প্রান্তিক ও স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে থাকা এলাকায় উন্নত আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে ‘হেলথ এক্সপ্রেস’ নামে নতুন কর্মসূচি চালু করেছে উইপ্রো জিই হেলথকেয়ার। কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের শহরগুলোতে আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি সম্পর্কে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা
১৬ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৮০ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৮ জন।
২ দিন আগে