Ajker Patrika

দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম—আছে ক্যানসার বাড়ার যোগসূত্রও

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম—আছে ক্যানসার বাড়ার যোগসূত্রও
ছবি: দ্য নিউজউইক

বিশ্বজুড়ে তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মিলেনিয়াল ও জেন জেড প্রজন্মের মানুষ আগের প্রজন্মের তুলনায় জৈবিকভাবে (বায়োলজিক্যালি) দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছেন, আর এই দ্রুত বার্ধক্যই অল্প বয়সে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইসে অবস্থিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকেরা ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি ব্রিটিশ এবং ১০ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে জন্ম নেওয়া মানুষদের জৈবিক বয়স ও প্রকৃত বয়সের মধ্যে ব্যবধান আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি।

জৈবিক বয়স বলতে শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষয়, কোষের অবস্থা এবং শারীরিক কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত বয়সকে বোঝায়। অন্যদিকে প্রকৃত বয়স হলো জন্মের পর কেটে যাওয়া বছরের সংখ্যা। গবেষকদের মতে, শরীর যত দ্রুত জৈবিকভাবে বুড়িয়ে যায়, ক্যানসারের ঝুঁকিও তত বাড়ে।

গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জৈবিক বার্ধক্যের মাত্রা একই বয়সে থাকা ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সালে জন্ম নেওয়া মানুষের তুলনায় বেশি। একই ধরনের প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রেও পাওয়া গেছে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জৈবিক বয়স ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সালে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।

এই দ্রুত বার্ধক্য অল্প বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। বিশেষ করে ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং জরায়ুর ক্যানসারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে। যাদের জৈবিক বার্ধক্যের মাত্রা সবচেয়ে বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে, এমনকি জিনগত ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়ার পরও।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গ বা ব্যবস্থার দ্রুত বার্ধক্য নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বয়সী মনে হওয়া ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবার দ্রুত বার্ধক্যে পৌঁছানো চর্বিযুক্ত টিস্যুর সঙ্গে কোলোরেক্টাল বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার নানা পরিবর্তন এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অনিয়মিত ঘুম এবং দেহঘড়ির (সার্কাডিয়ান রিদম) ব্যাঘাত দ্রুত বার্ধক্যের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

লন্ডনের ক্রমওয়েল হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্ডি গায়া বলেন, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান পরিহার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু সুস্থ থাকার উপায় নয়, এগুলো ক্যানসার প্রতিরোধেরও কার্যকর কৌশল। তাঁর মতে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক ব্যায়াম কোষের বার্ধক্য কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার কম ঘুম দীর্ঘ মেয়াদে কোষের ক্ষয় ত্বরান্বিত করতে পারে।

গবেষকেরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে জৈবিক বয়স পরিমাপের মাধ্যমে লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে ক্যানসার প্রতিরোধ ও আগাম শনাক্তকরণের নতুন পথ খুলে যেতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক পরিবেশ, জীবনযাপন ও সামাজিক পরিবর্তন কীভাবে শরীরকে দ্রুত বুড়িয়ে দিচ্ছে, তা বোঝা গেলে ক্যানসার প্রতিরোধে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যকর কৌশল তৈরি করা সম্ভব হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত