প্লাটিলেট আতঙ্কে ড্রাগন ফল ও পেঁপে পাতা

দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। এ সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া নিয়ে স্বজনদের চিন্তার শেষ থাকে না। সোশ্যাল মিডিয়া ও লোকমুখে চলতে থাকে নানান পরামর্শ—ড্রাগন ফল, পেঁপে পাতার রস কিংবা অমুক ভেষজ খেলে নাকি প্লাটিলেট বেড়ে যাবে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসা গাইডলাইন অনুযায়ী, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার আসল বিজ্ঞান লুকিয়ে রয়েছে শরীরে তরল পদার্থের সঠিক ভারসাম্য ও পুষ্টিকর সহজপাচ্য খাবারে।
ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত শরীরের অস্থিমজ্জাকে সাময়িকভাবে প্রভাবিত করে। ফলে প্লাটিলেট উৎপাদন কমে যায়। তবে ডেঙ্গুর বড় ঝুঁকি শুধু প্লাটিলেট কমে যাওয়া নয়; বরং প্লাজমা লিকেজ বা রক্তনালি থেকে পানি বের হয়ে রক্ত অতিমাত্রায় ঘন হয়ে যাওয়া। রক্ত কতটুকু ঘন হচ্ছে, তা বোঝা যায় হেমাটোক্রিট পরীক্ষার মাধ্যমে। রক্তের ঘনত্ব বেড়ে গেলে রক্তচাপ কমে রোগী শকে চলে যেতে পারে। তাই ডেঙ্গুতে প্রধান লক্ষ্য থাকে রক্ত স্বাভাবিক তরল রাখা।
বর্তমানে পেঁপে পাতার রস বা কৃত্রিম জুস খাইয়ে প্লাটিলেট বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। যদিও পেঁপে পাতার রসে থাকা কিছু এনজাইম প্লাটিলেট ধরে রাখতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে, তবে এটি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে অপরিশোধিত পেঁপে পাতার রস খেলে পেটে তীব্র ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে, যা রোগীর দেহে পানির অভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল: এ ধরনের খাবার প্লাজমা লিকেজ রোধ করে। শুধু পানি বেশি খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে। তাই ডাবের পানি, খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস, চালের জাউ, লেবুর শরবত ও পাতলা ডাল দিতে হবে। ডাবের পানির পটাশিয়াম রক্তরসের ভারসাম্য বজায় রাখে।
সহজপাচ্য ফার্স্ট ক্লাস প্রোটিন: রক্তের প্লাজমা ধরে রাখতে এবং প্লাটিলেট তৈরির প্রধান কাঁচামাল অ্যালবুমিন প্রোটিন সরবরাহ করতে সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংসের স্যুপ বা বোন ব্রোথ দেওয়া অপরিহার্য।
ভিটামিন সি ও রক্তনালির সুরক্ষা: ভিটামিন সি রক্তনালির প্রাচীর মজবুত করে, যা প্লাজমা লিকেজ কমায়। প্রতিদিনের খাবারে আমলকী, দেশি মাল্টা, লেবু বা পেয়ারা রাখা উচিত।
নতুন প্লাটিলেট তৈরিতে আয়রন ও ফোলেট: অস্থিমজ্জাকে নতুন অণুচক্রিকা তৈরিতে সাহায্য করতে আয়রন ও ফোলেট বা ভিটামিন বি-৯ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি। এ রকম খাবারের মধ্যে কাঁচকলার ঝোল, মিষ্টিকুমড়ার বীজ ও বিটরুটের হালকা স্যুপ বেশ কার্যকর।
জ্বর ছেড়ে যাওয়ার পর অনেক রোগী মারাত্মক পেশির ব্যথা ও দুর্বলতায় ভোগে, যাকে পোস্ট-ডেঙ্গু সিনড্রোম বলা হয়। জ্বর-পরবর্তী এই সময়ে দ্রুত প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার না খেলে রোগীর পেশি ক্ষয় ও চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে।
গাঢ় লাল বা কালচে রঙের খাবার: অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের ঝুঁকি বুঝতে ব্যাঘাত ঘটায় বলে ডালিম বা আনারসের জুস, চকলেট ও কফির মতো খাবার এড়িয়ে চলা ভালো।
তৈলাক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার: এগুলো পাকস্থলীতে সমস্যা তৈরি করে বমির প্রবণতা বাড়ায়।
ডেঙ্গু হলে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বা অলৌকিক উপায়ে প্লাটিলেট বাড়ানোর পেছনে না ছুটে, সঠিক মাত্রায় ফ্লুইড, হেমাটোক্রিট খেয়াল রাখা এবং সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাই নিরাপদ পথ।
পরামর্শ দিয়েছেন: জিনিয়া কুলসুম, পুষ্টিবিদ

জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা—আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে এসব উপসর্গে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে সাধারণ সর্দি-কাশি মনে হলেও এর পেছনে থাকতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। দেশে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে নিয়মিত নজরদারি চলছে।
৩৭ মিনিট আগে
রোদ-বৃষ্টির খামখেয়ালি এই শরৎ ঋতুতে সাধারণ উপসর্গ ভেবে কোনো অসুস্থতাকে অবহেলা করা উচিত নয়। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং দূষিত পানি এই সময়ে নানা জীবাণুর আদর্শ প্রজননক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
১ ঘণ্টা আগে
গোলমরিচ শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানোর মসলা নয়। এটি এর স্বাস্থ্যগুণ ও ঔষধি বৈশিষ্ট্যের জন্য প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী উপাদান পাইপারিন শরীর সুস্থ রাখতে নানাভাবে সাহায্য করে।
২ ঘণ্টা আগে
জন্মগত ছানি হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শিশুর জন্মের সময় অথবা জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে চোখের স্বচ্ছ লেন্স ঘোলা হয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় চোখের লেন্স স্বচ্ছ থাকে এবং আলোকে রেটিনায় সঠিকভাবে ফোকাস করতে সাহায্য করে। কিন্তু ছানি হলে আলো চোখের ভেতরে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে শিশুর দৃষ্টিশক্তির স্বাভাবি
২ ঘণ্টা আগে