আজকের পত্রিকা ডেস্ক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে শুধু ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়, বরং বেশি সময় বসে থাকাও হতে পারে মস্তিষ্ক সংকোচনের অন্যতম কারণ। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানান, দিনে কতক্ষণ বসে বা শুয়ে কাটানো হচ্ছে—তাকে বলে ‘সেডেন্টারি বিহেভিয়র’—তা মানুষের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমনকি প্রতিদিন ব্যায়াম করলেও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৪০৪ জন স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর সাত বছর ধরে তাঁদের মস্তিষ্কের গঠন ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার নানা দিক বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।
দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮৭ শতাংশই সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করছিলেন, যা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত। তবে যাঁরা দীর্ঘ সময় বসে থাকেন, তাঁদের মস্তিষ্কে দ্রুত বার্ধক্যজনিত ক্ষয় লক্ষ করা যায়।
বিশেষ করে মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অংশটি দ্রুত সংকোচন দেখা যায়। এই অংশ স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের প্রথম ধাপেই আক্রান্ত হয়। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ফলাফল বসে থাকা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করে না, বরং একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা বা সম্ভাব্য সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।
পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজিস্ট মারিসা গগনিয়াত বলেন, ‘আলঝেইমার প্রতিরোধে শুধু প্রতিদিন ব্যায়াম করলেই চলবে না, বসে থাকার সময়ও কমাতে হবে।’
গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা জিনগতভাবে আলঝেইমারের ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বসে থাকার প্রভাব আরও প্রবলভাবে প্রতিফলিত হয়।
ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের নিউরোলজিস্ট অ্যাঞ্জেলা জেফারসন বলেন, ‘বয়স্কদের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁরা আলঝেইমারের জিনগত ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দিনে একাধিকবার উঠে চলাফেরা করা এবং সক্রিয় সময় বাড়ানো মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।’
তবে গবেষকেরা এটিও মনে করিয়ে দেন, ব্যায়ামের গুরুত্ব কম নয়। দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। তবে সেই সঙ্গে বসে থাকার সময় কমানোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অতিরিক্ত সময় বসে থাকার সঙ্গে মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষতির সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এটি নতুন কোনো ধারণা নয়, এর আগেও বসে থাকার অভ্যাস বা ‘সেডেন্টারি বিহেভিয়র’-এর সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের মতো রোগের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে এই গবেষণা সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করল। এটি গবেষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক তথ্যভিত্তিক সংযোজন, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসা ও সচেতনতা তৈরির কাজে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘আলঝেইমারস অ্যান্ড ডিমেনশিয়া’ সাময়িকীতে।
তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে শুধু ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়, বরং বেশি সময় বসে থাকাও হতে পারে মস্তিষ্ক সংকোচনের অন্যতম কারণ। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই সতর্কবার্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানান, দিনে কতক্ষণ বসে বা শুয়ে কাটানো হচ্ছে—তাকে বলে ‘সেডেন্টারি বিহেভিয়র’—তা মানুষের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমনকি প্রতিদিন ব্যায়াম করলেও সেই ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।
গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৪০৪ জন স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ ডিভাইসের মাধ্যমে দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর সাত বছর ধরে তাঁদের মস্তিষ্কের গঠন ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার নানা দিক বিশ্লেষণ করেন গবেষকেরা।
দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৮৭ শতাংশই সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করছিলেন, যা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত। তবে যাঁরা দীর্ঘ সময় বসে থাকেন, তাঁদের মস্তিষ্কে দ্রুত বার্ধক্যজনিত ক্ষয় লক্ষ করা যায়।
বিশেষ করে মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অংশটি দ্রুত সংকোচন দেখা যায়। এই অংশ স্মৃতিশক্তি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের প্রথম ধাপেই আক্রান্ত হয়। তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ফলাফল বসে থাকা এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করে না, বরং একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা বা সম্ভাব্য সংযোগের ইঙ্গিত দেয়।
পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজিস্ট মারিসা গগনিয়াত বলেন, ‘আলঝেইমার প্রতিরোধে শুধু প্রতিদিন ব্যায়াম করলেই চলবে না, বসে থাকার সময়ও কমাতে হবে।’
গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা জিনগতভাবে আলঝেইমারের ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বসে থাকার প্রভাব আরও প্রবলভাবে প্রতিফলিত হয়।
ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের নিউরোলজিস্ট অ্যাঞ্জেলা জেফারসন বলেন, ‘বয়স্কদের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁরা আলঝেইমারের জিনগত ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দিনে একাধিকবার উঠে চলাফেরা করা এবং সক্রিয় সময় বাড়ানো মস্তিষ্কের জন্য উপকারী।’
তবে গবেষকেরা এটিও মনে করিয়ে দেন, ব্যায়ামের গুরুত্ব কম নয়। দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম অপরিহার্য। তবে সেই সঙ্গে বসে থাকার সময় কমানোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অতিরিক্ত সময় বসে থাকার সঙ্গে মস্তিষ্কে নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষতির সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এটি নতুন কোনো ধারণা নয়, এর আগেও বসে থাকার অভ্যাস বা ‘সেডেন্টারি বিহেভিয়র’-এর সঙ্গে ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমারের মতো রোগের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে এই গবেষণা সেই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করল। এটি গবেষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যাপক তথ্যভিত্তিক সংযোজন, যা ভবিষ্যতের চিকিৎসা ও সচেতনতা তৈরির কাজে সহায়ক হতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘আলঝেইমারস অ্যান্ড ডিমেনশিয়া’ সাময়িকীতে।
তথ্যসূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এবং ওষুধের বাজার নিয়ন্ত্রণে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা (ইডিএল) সম্প্রসারণ এবং এগুলোর মূল্য নির্ধারণের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়েছে।
২০ ঘণ্টা আগে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে আমাদের সবার কমবেশি জানাশোনা আছে। তবে এটি জেনে রাখা ভালো যে অন্যান্য ঋতুর চেয়ে শীতকালে কোষ্ঠকাঠিন্য বেশি হয়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষ ও নারীদের এটি হওয়ার হার বেশি। ফলে শীতকালে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। প্রশ্ন হলো, কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়? এর অনেক কারণ রয়েছে।
২ দিন আগে
শীতের হিমেল হাওয়া আমাদের ত্বকে টান ধরায়। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের কানের স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালীন ঠান্ডা ও আর্দ্রতা কানে ইনফেকশন থেকে শুরু করে শ্রবণশক্তির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিও করতে পারে।
২ দিন আগে
ঘুম ভালো হওয়া সুস্থ জীবনের অন্যতম শর্ত। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমান জীবনে অনিদ্রা অনেকের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ পর্যাপ্ত ও সময়মতো ঘুম মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক এবং শরীরের জন্য উপকারী।
২ দিন আগে