
স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি সীমিত করতে শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনার একটি নতুন পদ্ধতি নিয়ে আশাব্যঞ্জক গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, শরীরকে ওষুধের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ‘হাইবারনেশন’ বা শীতনিদ্রার মতো অবস্থায় নিয়ে যাওয়া গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলো দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে, ফলে স্ট্রোকজনিত ক্ষতি কমতে পারে।
বিজ্ঞানবিষয়ক ম্যাগাজিন নিউ সায়েন্টিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা স্ট্রোকের পর রোগীর মস্তিষ্ক ঠান্ডা করার উপায় খুঁজে আসছেন। ধারণাটি হলো, তাপমাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর অক্সিজেন ও গ্লুকোজের চাহিদা কমে যায়। ফলে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কোষগুলো কিছু সময় টিকে থাকতে পারে। পরে রক্তপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করা গেলে স্থায়ী ক্ষতি ও বাক্শক্তি বা চলাচলসংক্রান্ত জটিলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।
তবে এত দিন ব্যবহৃত শারীরিক শীতলীকরণ পদ্ধতি—যেমন কুলিং ব্ল্যাঙ্কেট, বরফের প্যাক বা বিশেষ হেলমেট—তেমন কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। কারণ, এসব পদ্ধতিতে রোগীর শরীরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয় এবং অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনি শুরু হয়, যা শরীরের তাপমাত্রা কমানোকে কঠিন করে তোলে।
চীনের ক্যাপিটাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষক শুয়াইলি শু ও তাঁর সহকর্মীরা দুটি পুরোনো ওষুধ—প্রোমেথাজিন ও ক্লোরপ্রোমাজিন—ব্যবহার করে নতুন পদ্ধতির পরীক্ষাটি চালান। ১৯৫০-এর দশক থেকেই এই ওষুধ দুটি শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সক্ষম বলে পরিচিত। গবেষণায় স্ট্রোক সৃষ্টি করা ইঁদুর ও রিসাস বানরের ওপর ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, প্রাণীগুলোর শরীরের মূল তাপমাত্রা কমে যায়, কোষের গ্লুকোজ বিপাকপ্রক্রিয়া ধীর হয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতির পরিমাণও কমে। বিশেষ করে, চিকিৎসাপ্রাপ্ত বানরগুলো তাদের হাত-পা ব্যবহারে তুলনামূলক ভালো সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
এরপর গবেষকেরা ৩২ জন স্ট্রোক রোগীকে নিয়ে একটি প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেন। তবে মানুষের ক্ষেত্রে ওষুধ দুটি শরীরের তাপমাত্রা মাত্র শূন্য দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে সক্ষম হয় এবং উল্লেখযোগ্য চিকিৎসাগত সুফল দেখা যায়নি। গবেষকদের ধারণা, ১২ ঘণ্টা ধরে ধীরগতিতে ওষুধ প্রয়োগ করায় শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রার ওষুধ দ্রুত পৌঁছায়নি।
এ কারণে এখন নতুন একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হচ্ছে, যেখানে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ প্রয়োগ করে বেশি শীতলীকরণ ও উন্নত ফল পাওয়া যায় কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
গবেষকদের মতে, প্রোমেথাজিন ও ক্লোরপ্রোমাজিন বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো শরীরের তাপমাত্রা কমালেও রোগীর মধ্যে কাঁপুনি বা অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে না। ফলে ভবিষ্যতে স্ট্রোক চিকিৎসায় এই ধরনের ওষুধভিত্তিক শীতলীকরণ পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

দেশে ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৯২০ জন।
১৪ ঘণ্টা আগে
ডব্লিউএইচও জানায়, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত।
২০ ঘণ্টা আগে
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন কমিউনিটি মেন্টাল হেলথ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু হলেও ধাপে ধাপে দেশের ৫০০টি উপজেলায় এ সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
১ দিন আগে